ক্ষোভে উত্তাল বুয়েট সরকারের কাছে ৫ দফা

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:২০ এএম

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী মুহতাসিম মাসুদ নিহতের ঘটনায় মামলা নিতে পুলিশ অসহযোগিতা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন তার সহপাঠীরা। গত বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে ঢাকার অদূরে পূর্বাচলে গাড়ির ধাক্কায় মুহতাসিম নিহত হন। আহত হন আরও দুই শিক্ষার্থী। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারসহ পাঁচ দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো গতকাল শনিবার বিবৃতি দিয়েছেন মাসুদের সহপাঠীরা।

দুপুরে বুয়েটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লিখিত বিবৃতি পড়ে শোনান মাসুদের তিন সহপাঠী। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, মামলা নিতে পুলিশ অসহযোগিতা করেছে। বিকেলে সহপাঠী নিহতের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে সর্বোচ্চ বিচার নিশ্চিতের দাবিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি জমা দেন তারা। শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, আসামিপক্ষের আইনজীবী বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করেছেন। এ ছাড়া গণমাধ্যমে ‘হত্যাকা-’কে দুর্ঘটনা বলে প্রচার করা হয়েছে।

বিবৃতি পাঠ করা তিনজনই বুয়েটের কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগের ২১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। লিখিত বিবৃতিতে ওই দিনের পুরো ঘটনার বর্ণনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, ঘটনাস্থলে গিয়ে একপর্যায়ে তারা দেখতে পান, দুর্ঘটনায় জড়িত প্রাইভেটকারটির চালক এবং তার সহযাত্রীদের প্রত্যক্ষদর্শী ও পথচারীরা ঘিরে রেখেছেন।

উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে তারা জানান, মাসুদ, অমিত ও মেহেদিকে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য নীলা মার্কেট মোড়ে কতর্ব্যরত পুলিশ দাঁড় করায়। এ সময় পেছন থেকে একটি প্রাইভেটকার বেপরোয়া গতিতে এসে স্থির দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেলসহ তিনজনকে আঘাত করে। প্রাইভেটকারটি চালাচ্ছিলেন মুবিন আল মামুন। তার সঙ্গে ছিলেন মিরাজুল করিম ও আসিফ চৌধুরী।

বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, মুবিন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল মামুনের ছেলে। শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তার বাবাকেও সেখানে দেখেন। পরে তারা প্রাইভেটকারে অ্যালকোহল ও মাদকজাতীয় নেশাদ্রব্য দেখেন।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পৌঁছায়। পুলিশ প্রাইভেটকারচালকসহ তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য প্রথমে রূপগঞ্জ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায় এবং পরে তাদের রূপগঞ্জ থানায় নেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরাও তাদের সঙ্গে থানায় পৌঁছান। থানায় ঘটনার বিবরণ জানার পর কর্তব্যরত উপপরিদর্শক (এসআই) মামলা নেওয়ার ক্ষেত্রে অনীহা প্রকাশ করেন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসহযোগিতামূলক আচরণ করেন। পরদিন সকাল ৮টায় আরও একদল শিক্ষার্থী বুয়েটের কয়েকজন শিক্ষক, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা, প্রধান নিরাপত্তাকর্মীসহ থানায় যান। তখন থানায় কোনো ওসি ছিলেন না এবং যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি দেরি করতে থাকেন। ঘণ্টাখানেক পর ওসি থানায় আসেন এবং শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

বুয়েট শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, এ সময় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহ আল মামুন এবং চালকের পরিবারের লোকজন বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন। অভিযুক্তের মা নানাভাবে শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ দেবেন বলে জানান।

সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে তারা বলেন, ‘দেশের বিচারব্যবস্থাকে একটি গোষ্ঠীর হাতে জিম্মি হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করুন; অপরাধী যে পরিবারেরই সদস্য হোক না কেন, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন, এ ব্যাপারটি ফের প্রতিষ্ঠিত হোক। হত্যাকা-ের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আহতদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার অবশ্যই বিবাদীপক্ষকে বহন করতে হবে এবং নিহতের যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।’                                

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত