শরীয়তপুরের নড়িয়ায় চাঁদাবাজি ও নির্যাতনের অভিযোগে সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সাবেক উপ-পরিদর্শকসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন এক বিএনপি নেতা। রোববার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নড়িয়া আমলী আদালতের বিচারক মো. সাকিব হোসেনের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগর।
মামলায় আসামীরা হলেন- নড়িয়া থানা সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অবনী শংকর কর (৫৫), সাবেক উপ-পরিদর্শক (এসআই) হায়দার আলী (৪০), উপজেলার সুরেশ্বর এলাকার মৃত হেলাল খানের ছেলে সুজন খান (৪৫), একই এলাকার মৃত জাফর খানের ছেলে ফারুক খান (৬০)।
মামলার এজাহার ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নড়িয়া উপজেলা বিএনপির বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগর ২০২১ সালে ঘড়িসার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বাদী বিএনপির সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন আব্দুর রব খান। মতিউর রহমান সাগর নির্বাচনে অংশ নেয়ায় আব্দুর রব খানের আত্মীয় সুজন ও ফারুক খান ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিল। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ২১ তারিখে মতিউর রহমান সাগরের ছেলে মিজানুর রহমান জাহিদ তার আত্নীয়ের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা নিয়ে সুরেশ্বর থেকে নিজ বাড়ি চর লাউলানী যাওয়ার পথে সুজন ও ফারুক খানসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন মিলে টাকাসহ তাকে একটি ঘরে জোরপূর্বক আটকে রাখে। পরবর্তীতে বিষয়টি জানতে পেরে বিএনপি নেতা মতিউর রহমান সাগর জরুরি সেবা ৯৯৯ এর সহযোগিতা চাইলে নড়িয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মিজানুর রহমান জাহিদকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্তদের নড়িয়া থানায় নিয়ে আসেন।
কিন্তু পরবর্তীতে অভিযুক্তরা ক্ষমতাসীন দলের হওয়ায় তাদের ছেড়ে দিয়ে উল্টো তাদের দিয়ে জাহিদ ও তার পিতা মতিউর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে একটি মানবপাচার আইনে মামলা দায়ের করেন। এ সময় জাহিদের কাছে ৩ লাখ টাকা উদ্ধার হলেও মামলায় ১ লাখ টাকা জব্দ দেখায় পুলিশ। পরে কয়েক দফায় বাদীর কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা হাতিয়ে নেয় যুবলীগ নেতা সুজন খানসহ পুলিশ সদস্যরা। এ ঘটনায় তারা যোগসাজশ করে ২০১৩ সালের বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসন আইনে চার্জশীট প্রদান করেন। পরে মতিউর রহমান সাগর অসহায় হয়ে তাদের সাথে নগদ ২ লাখ টাকায় আপোস করতে বাধ্য হন।
ঘটনার ৪ বছর পর মামলা দায়েরের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে মামলার বাদী মতিউর রহমান সাগর বলেন, ১৭ বছর দেশে কোনো আইনের শাসন ছিল না। ওই সময় আওয়ামী লীগ নেতা ও ওসির বিরুদ্ধে মামলা তো দূরের কথা তাদের বিরুদ্ধে কথা বললেই তারা আমাকে প্রাণে মেরে ফেলতেন। তাই সেই সময় মামলা করতে পারিনি। এখন দেশ স্বাধীন হয়েছে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ জন্য আমি মামলা দায়ের করেছি। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হলে আমি ন্যায়বিচার পাব।
মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে নড়িয়া থানা পুলিশের সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অবনী শংকর কর বলেন, ভুয়া ভিসা দেখিয়ে বিদেশ নেওয়ার কথা বলে সুজন খানের কাছ থেকে ১ লাখ টাকা নেওয়ার সময় মতিউর রহমানের ছেলেকে আটক করে স্থানীয়রা। পরে আমরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করি। এ ঘটনায় সুজন খান মতিউর রহমান সাগর ও তার ছেলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিলে মানবপাচার আইনে মামলা হয়। যা আদালতে এখনো বিচারাধীন রয়েছে। হয়তো সেই মামলার কারণে সংক্ষুব্ধ হয়ে এখন আমার বিরুদ্ধে এই মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন।
শরীয়তপুর আদালতের পরিদর্শক শিমুল বলেন, দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এক ব্যক্তি মামলা করেছেন। আদালত মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা পিবিআই গোপালগঞ্জ কার্যালয়ে ওই আদেশের কপি পাঠিয়ে দেব। এখন মামলা কীভাবে চলবে, তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার পর আদালত সিদ্ধান্ত নেবে।
শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) নজরুল ইসলাম বলেন, আমি শুনেছি আমলি আদালতে একটি সিআর মামলা করেছেন এক ব্যক্তি । সেই মামলায় নাকি দুইজন পুলিশের নাম এসেছে। মামলার ব্যাপারে জেলা পুলিশকে কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। আমি শুনেছি মামলাটি গোপালগঞ্জ পিবিআইকে অনুসন্ধানের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
গণআন্দোলনের বিজয় যেন হাতছাড়া না হয়: শিমুল বিশ্বাস
চাঁদপুরে জাহাজে ৫ রক্তাক্ত লাশ, হাসপাতালে আরও ২ জনের মৃত্যু
যোগ্যতা না থাকলেও উপপরিচালক পদে বসতে চান মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা
ঢামেকে চিকিৎসকের মামলায় রোগীর স্বজন গ্রেপ্তার
ছেলের মোটরসাইকেল থেকে পড়ে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মায়ের মৃত্যু