চিরস্থায়ী জীবনের পাথেয় অর্জন

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪, ০১:০৭ এএম

প্রতিটি মানুষ সুখ-শান্তি ও সফলতা চায়। কিন্তু সুখ-শান্তি ও সফলতা বলতে অনেকেই শুধু পার্থিব জীবনের আরাম-আয়েশ আর স্বাচ্ছন্দ্যকেই বুঝে থাকেন। এজন্য দেখা যায়, পার্থিব দুনিয়া অর্জনের পেছনেই মানুষের সব পরিশ্রম-প্রচেষ্টা। অথচ পরকালের জীবনই আসল ও চিরস্থায়ী জীবন। পরকালের শান্তি ও সফলতাই হলো চিরস্থায়ী শান্তি ও সফলতা। বুদ্ধিমান তো তারাই যারা সেই অনন্ত-অসীম, চিরস্থায়ী জীবনের জন্য পাথেয় সংগ্রহ করে। তাদের কাছে পার্থিব দুনিয়া মূল্যহীন। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘এ দুনিয়ার জীবন খেল-তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়। নিশ্চয়ই আখেরাতের নিবাস হলো প্রকৃত জীবন, যদি তারা জানত!’ (সুরা আনকাবুত ৬৪) দুনিয়া স্থায়ী নয়। দুনিয়ার সবকিছু ক্ষণিকের। কিছুকাল দুনিয়া উপভোগ করার পর এক সময় সব শেষ হয়ে যায়। দুনিয়ার কোনো সুখ-শান্তি কোনো কিছুই স্থায়ী নয়। পক্ষান্তরে আখেরাতের জীবন চিরস্থায়ী ও অনন্ত-অসীম। আখেরাতের আনন্দ ও নেয়ামত সবকিছুই চিরস্থায়ী। সুতরাং প্রকৃত জীবন শুধু আখেরাতেরই জীবন। এজন্য প্রকৃত বুদ্ধিমান ওই ব্যক্তি, যে দুনিয়াতেই পরকালের পাথেয় ও পুঁজি সংগ্রহ করে। হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিজের প্রবৃত্তিকে স্বীয় আয়ত্তাধীনে রেখেছে এবং মৃত্যুর পরের জন্য নেকির পুঁজি সংগ্রহ করেছে, সে ব্যক্তিই প্রকৃত সবল ও বুদ্ধিমান। আর যে ব্যক্তি স্বীয় প্রবৃত্তির অনুসারী হয়ে মহান আল্লাহর প্রতি ক্ষমার আশা পোষণ করে, মূলত সেই অক্ষম ও নির্বোধ।’(তিরমিজি ২৪৫৯)

দুনিয়াতে মানুষের বেঁচে থাকতে হলে আহারের প্রয়োজন আছে। আর এ জন্য জীবিকা উপার্জনের বিভিন্ন মাধ্যম তাকে গ্রহণ করতে হয়। এটা দুনিয়ার চিরাচরিত নিয়ম। আল্লাহকে স্মরণ রেখে বৈধ পন্থায় জীবিকা উপার্জনে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে ইসলাম। মহান আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর নামাজ সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ করো। আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ (সুরা জুমুআ ১০) তবে দুনিয়া ততটুকু অর্জন করা যায়, যতটুকু অর্জন করলে পরকালের পাথেয় সংগ্রহে যথেষ্ট হয়। কারণ দুনিয়া হলো মানুষের প্রয়োজন পূরণের স্থান। দুনিয়া হলো পরকালের আবাদ ভূমি। দুনিয়া আখেরাতের শস্যক্ষেত্র। সুতরাং দুনিয়ায় থাকা অবস্থায় আখেরাতের ফসল ফলাতে হবে। কেননা পরকালের পাথেয় সংগ্রহের একমাত্র জায়গা দুনিয়া। পরকালীন সুখ-শান্তি ও দুঃখ-কষ্ট নির্ভর করে দুনিয়াতে মানুষের কাজকর্ম ও জীবনাচারের ওপর। মানুষের সৃষ্টি এবং তাকে দুনিয়াতে পাঠানো কোনো নিরর্থক বিষয় নয়। পবিত্র মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমার ইবাদত করার জন্যই আমি মানব ও জিন জাতি সৃষ্টি করেছি। আমি তাদের কাছে জীবিকা চাই না এবং এটাও চাই না যে তারা আমাকে আহার জোগাবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ রিজিকদাতা, প্রবল শক্তিধর, পরাক্রান্ত।’ (সুরা জারিয়াত ৫৬-৫৮) হাদিসে কুদসিতে বর্ণিত হয়েছে, মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে আদম সন্তান, তুমি আমার ইবাদতের জন্য সব ধরনের ঝামেলা থেকে মুক্ত হও, তাহলে আমি তোমার অন্তর প্রাচুর্যপূর্ণ করে দেব।’ (তিরমিজি ২৪৬৬) মহান আল্লাহ আমাদের দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করুন। যেন আমরা দুনিয়া ও আখেরাতের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান লাভ করতে পারি। তাহলে দুনিয়ার প্রতি আমাদের মোহ কাটবে। আর আমরা পারকালে মুক্তির জন্য পাথেয় সংগ্রহ করতে পারব। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সেই তওফিক দান করুন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত