বলিউডে সংক্ষিপ্ত সময়ের ক্যারিয়ার, একাধিক বিতর্ক এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা ঘটনাপ্রবাহের কারণে একসময় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ফারাহ নাজ। কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানা আজমির ভাগ্নি এবং টাবুর বড় বোন ফারাহ ১৯৮০-এর দশকে একাধিক হিট ছবিতে কাজ করলেও, তার জীবন এবং ক্যারিয়ার নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে।
১৯৬৮ সালের ৯ ডিসেম্বর হায়দ্রাবাদের এক মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া ফারাহ মাত্র ১৭ বছর বয়সে যশ চোপড়ার ফাসলে (১৯৮৫) ছবির মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক করেন। যদিও ছবিটি বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়, পরবর্তীতে তিনি ইমানদার, যতিম, মারতে দম তাক, খুদা গওয়া, এবং বেগুনাহ-এর মতো ছবিতে সানি দেওল, সঞ্জয় দত্ত, মিঠুন চক্রবর্তী এবং আমির খানের মতো সুপারস্টারদের সঙ্গে কাজ করেন।
ফারাহ ১৯৮৮ সালে একটি সাক্ষাৎকারে জানান, তিনি দু’বার হাত কেটে মরার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেকে মেরে ফেলতে এই কাজ করিনি বরং পারিবারিক সমস্যা থেকে মনোযোগ সরানোর জন্য করেছিলাম। যখন মা বা বোন কেও কিছু বলেন, যা আমি সহ্য করতে পারি না, তখন আমি এটি করি।’ তার এই স্বীকারোক্তি আলোড়ন সৃষ্টি করে।
ফারাহর ক্যারিয়ারকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে তার সঙ্গে জড়িত দুটি বড় বিতর্ক। প্রথমটি ঘটে ১৯৮৯ সালে, যখন ‘কসম ভার্দি কি’ ছবির শুটিং চলাকালে তিনি চাঙ্কি পান্ডেকে একটি মজার মন্তব্যের কারণে থাপ্পড় মারেন। একই বছরে, অনিল কাপুরের সঙ্গে রাখওয়ালা ছবিটি ফ্লপ হওয়ার পর, অনিল মন্তব্য করেছিলেন যে মাধুরী দীক্ষিত যদি ছবির নায়িকা হতেন, তবে ছবিটি ভালো করত। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ফারাহ অনিলকে হুমকি দেন।
১৯৯৬ সালে ফারাহ বিয়ে করেন কিংবদন্তি রেসলার এবং অভিনেতা দারা সিংয়ের ছেলে, বিন্দু দারা সিংকে। তাদের এক ছেলে, ফতেহ রণধাওয়া, জন্ম নেয় ১৯৯৭ সালে। তবে, ছয় বছরের বিবাহিত জীবনের পর তাদের বিচ্ছেদ হয়। একই বছর, ফারাহ অভিনেতা সুমিত সায়গালকে বিয়ে করেন। সুমিতের এটি ছিল দ্বিতীয় বিয়ে, এবং তার আগের পক্ষের মেয়ে সায়েসা সায়গাল বর্তমানে বলিউডের একজন পরিচিত মুখ। ফারাহ নাজের জীবন ছিল বিভিন্ন উত্থান-পতন এবং বিতর্কে ভরা। বলিউডে তার সংক্ষিপ্ত সময়কাল সত্ত্বেও, তিনি তার অভিনয় দক্ষতা এবং ব্যক্তিগত জীবনের ঘটনাবহুলতার কারণে স্মরণীয় হয়ে আছেন।
সানি দেওলের ‘বর্ডার ২’ শুটিং শুরু, ২৯ বছর অপেক্ষার অবসান
এস আলমের ৬ কারখানা বন্ধ ঘোষণা, শ্রমিকদের বিক্ষোভ 