সরকারি সড়কে ছাত্রলীগ নেতার বাঁশের বেড়া, গুঁড়িয়ে দিল সেনাবাহিনী

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৯:৫৬ পিএম

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা জিহক খান রুদ্র ও তার বাহিনীর অবৈধ দখলে রাখা রাস্তার উপর বাঁশের বেড়া ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেলে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে রাস্তার উপর অবৈধ বাঁশের বেড়া ভেঙে দিয়ে রাস্তা মুক্ত করে দেন। ফলে অবরুদ্ধ থেকে অবশেষে মুক্তি পেলেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। 

এদিকে পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতা জিহক খান রুদ্রের মামা সাইফুল ইসলাম ভুইয়াকে আটক করেছে পুলিশ। তার পিতার নাম আব্দুল বাছেদ মিয়া। গ্রামের বাড়ি সখীপুর উপজেলার নলুয়া এলাকার বহুরিয়া গ্রামে। তিনি এখন মির্জাপুর থানায় রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

পুলিশ ও সহকারী কমিশনার ভূমি অফিস সুত্র জানায়, জিহক খান রুদ্র ও সন্ত্রাসী বাহিনী সরকারি খাস রেকর্ডভুক্ত জমি অবৈধভাবে দখল করে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় অবরুদ্ধ এলাকাবাসী গত ২২ ডিসেম্বর মানববন্ধনসহ প্রতিবাদ সমাবেশ এবং তাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানায়। আজ মঙ্গলবার মির্জাপুর সেনা ক্যাম্পের সেনাবাহিনীর সদস্য, মির্জাপুর থানা পুলিশ এবং দেওহাটা পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যগন যৌথ অভিযান চালিয়ে বাঁশের বেড়া ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। 

ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, গোড়াই-সখীপুর –ঢাকা রোড সংলগ্ন ৭০ শতাংশ জমি বিদ্যালয় ও সরকারি খাস খতিয়ান ভুক্ত। ছাত্রলীগ নেতা জিহক খান রুদ্র, আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার মাস্টারসহ কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি বিদ্যালয় ও সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত  ২৪ শতাংশ জমি দীর্ঘ দিন ধরে দখল করে পাকা ভবন নির্মান ও রাস্তা বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেয়। রুদ্র খান ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী রাতের আধারে রাস্তা দখল করে দোকান নির্মান করছে। রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চলাচল করতে না পেরে চরম বিপাকে পরে এলাকাবাসি। গত এক মাস ধরে অবরোদ্ধ বলে জানায়। তাকে বারবার নিষেধ করা সত্তে ও তিনি পাকা ভবন নির্মান থেকে বিরত না হওয়ায় সরকারি জমি রক্ষা ও রাস্তা উদ্ধারের জন্য এলাকাবাসি সহকারি কমিশনার ভুমি অফিস, সেনাবাহিনীর কমান্ডার, ইউএনও অফিস এবং মির্জাপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। উপজেলা প্রশাসন থেকে সহকারী কমিশনার মাসুদর রহমান, সার্ভেয়ার ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সরকারি জমি উদ্ধারসহ অবৈধ স্থাপনা বেঙ্গে ফেলার দুই দিন সময় দেন। তারপরও প্রভাবশালী মহল স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলেনি। ফলে যাতায়াত করতে না পেরে চরম বিপাকে পরেছে এলাকাবাসি।

উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মাসুদুর রহমান বলেন, সৈয়দপুর মৌজায় বিদ্যালয় ও সরকারি ২৪ শতাংশ খাস খতিয়ানভুক্ত সরকারি জমি একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘ দিন জবর দখল করে  লোকজনের যাতায়াতের রাস্তাও বন্ধ রেখেছিল। ভুমি অফিস থেকে জমি পরিমাপ করে সাইন বোর্ড নির্মান ও অবৈধ দখলদারদের স্থাপনা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্ত তারা  স্থাপনা না ভেঙ্গে না ফেলায় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও প্রশাসন যৌথ অভিযান চালিয়ে জনগনের রাস্তা অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে দিয়েছেন। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত