রোহিতদের বিশ্বজয়ের বছর

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৪, ০২:৩২ এএম

অন্ধকারের ঠিক পরেই থাকে পরম আরাধ্য আলোর সন্ধান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২০২৪ বছরটি ছিল ভারতের জন্য ঠিক সেই আলোর মতোই। কাঁধে চেপে থাকা অপেক্ষার বোঝাটি এই বছরেই নামাতে সক্ষম হয় ভারত। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জেতার মধ্য দিয়ে ভারতীয়দের ১৩ বছরের অপেক্ষার প্রহরে অবশেষে ইতি টানেন রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলিরা। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাদেরকেই টেস্ট হারিয়ে বীরত্বগাঁথার জন্ম দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বছর জুড়ে নতুনের অবগাহনে উত্থান হয় শামার জোসেফ, কামিন্দু মেন্ডিসের মতো তরুণ তারকাদের। ভক্তদের উন্মাদনায় মাতিয়ে আসা জিমি অ্যান্ডারসন, ডেভিড ওয়ার্নার, টিম সাউদি, কুইন্টন ডি কক, ডিন এলগার, মইন আলির মতো বেশ কিছু তারকা বিদায় বলে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে। আবার নারী ক্রিকেটবিশ্ব এ বছরই খুঁজে পেয়েছে নতুন চ্যাম্পিয়ন। প্রথমবারের মতো দেশকে বিশ্বকাপ জেতার আনন্দে মাতান নিউজিল্যান্ডের প্রমিলা ক্রিকেটাররা।

আধুনিক ক্রিকেটের ভবিষ্যতে টেস্টের অস্তিত্ব নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে তুমুল বিতর্ক চলছিল কয়েক বছর ধরেই। এমন পরিস্থিতিতে বছর শুরু মাসেই লুপ্ত হতে টেস্ট ক্রিকেটে জান ফেরান এক অভিষিক্ত ক্যারিবীয় পেসার। অভিষেক বলেই উইকেট নিয়ে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন শামার জোসেফ। তারপর পাঁচ উইকেট নিয়ে নতুন গল্প। তবে সেটা আপাতত থেমে যেতে পারত। মিচেল স্টার্কের বিধ্বংসী ইয়র্কারে পায়ের আঙুল ভেঙে গিয়েছিল তার। রক্তাক্ত হয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন সতীর্থদের কাঁধে ভর দিয়ে। সিরিজ থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কাও ছিল। কিন্তু কে জানত এই শামার ঘুরে দাঁড়াবেন ব্রিসবেনের গ্যাবায়। ২৭ বছর পর অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাটিতে হারানোর আনন্দক্ষণ এনে দেন কল্পনাকেও হার মানানোর নায়ক শামার জোসেফ। টেস্টে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প ভারতীয় ক্রিকেটাররাও লেখেন নিজেদের মাটিতে। ‘বাজবল’ দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটের সংজ্ঞা বদলে দেওয়া ইংল্যান্ডের কাছে পাঁচ ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে হেরে যায় ভারত। কিন্তু এর পরের চারটি টেস্টের সবগুলোয় জিতে ইংলিশদের চোখের জল এক করে দেয় ভারত। টেস্ট ক্রিকেটে পথচলা শুরুর প্রায় ছয় বছর পর গত মার্চে নিজেদের অষ্টম ম্যাচে এসে প্রথম জয়ের স্বাদ পায় আয়ারল্যান্ড। আবুধাবি টেস্টে আফগানিস্তানকে ছয় উইকেটে হারিয়ে উল্লাসে মাতেন আইরিশরা। টেস্টে শ্রীলঙ্কা পায় নতুন তরুণ তারকা কামিন্দু মেন্ডিসকে। টেস্ট অভিষেকে সর্বাধিক আট ম্যাচের প্রতিটিতে ফিফটি প্লাস ইনিংসের বিশ্বরেকর্ড গড়েন লঙ্কান এ মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান।

২০২৪ সালটি ছিল যুক্তরাষ্ট্র ক্রিকেটের জন্যও স্মরণীয় একটি বছর। প্রথমবারের মতো ক্রিকেট বিশ্বকাপের আয়োজক হয় দেশটি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে যৌথ আয়োজক হিসেবে সফলতার সঙ্গে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন করে মার্কিনিরা। এই আসরের আগে বিগত দশকে সবচেয়ে ফেভারিট হওয়া সত্ত্বেও বারবার নকআউট পর্ব থেকে ছিটকে যাচ্ছিল ভারত। দেশটির সমর্থক থেকে শুরু করে ক্রিকেটাররা পর্যন্ত নিজেদের চোকার্স ভাবতে শুরু করে দিয়েছিলেন। অপয়া ভাগ্যের সবশেষ নিদর্শন ছিল ঘরের মাটিতে ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হার। সেই দুঃসহ সময়কালের অবসান ঘটে রোহিত শর্মার হাতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ট্রফি উঠে আসার মধ্য দিয়ে। ক্রিকেট ভক্তদের আজীবন মনে রাখার মতো একটি ফাইনাল উপহার দেয় দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারত। প্রোটিয়ারা প্রথমবার কোনো বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলে অশ্রুসিক্ত নয়নে বিদায় নিলে শেষ হাসি হাসেন কোহলি-বুমরারা। দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের সেক্রেটারি জয় শাহও বাজিমাত করেন বছরের শেষদিকে। নিজের দেশ ছেড়ে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির সবচেয়ে কম বয়সী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন জয়।

অক্টোবরে বাংলাদেশের বদলে আরব আমিরাতে বসে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ফেভারিট অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে নিউজিল্যান্ডের কাছে হারে তারা। সেইসঙ্গে নারী ক্রিকেট বিশ্ব পায় নতুন চ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ডকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত