মুসলিম শিশুর প্রথম শিক্ষা

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ১২:০৮ এএম

মানুষের শৈশবকাল স্বচ্ছ কাচের মতো। এ বয়সেই প্রত্যেকের পরিচয় বিকশিত হয়। প্রতিটি মুসলিম শিশুর প্রথম শিক্ষা ‘লা ইল্লাল্লাহ’ তথা আল্লাহর একত্ববাদের পরিচয় সম্পর্কে হওয়া উচিত। জন্মের পরপরই শিশুর ডান কানে আজান এবং বাম কানে ইকামত দেওয়ার মাধ্যমে এ শিক্ষা শুরু করতে হয়। কিন্তু শিশুর বেড়ে ওঠার পরবর্তী ধাপগুলোতে দ্বীন শিক্ষা নিয়ে আমরা অবহেলা করি। সন্তানকে কোরআন শেখায় না এমন মা-বাবার হার যদি শতকরা ৫০ ভাগ হয়ে থাকে তবে দ্বীন শেখায় না এমন মা-বাবার হার শতকরা ৭০ ভাগ। নামাজ কীভাবে পড়বে সেটা শেখায় না। হালাল-হারাম, পাক-নাপাক, অজু-গোসল তো দূরের কথা। অথচ সন্তানকে দ্বীনের প্রয়োজনীয় বিষয়াদি শেখানো মা-বাবার ওপর ফরজ। এটা না শেখানো সন্তানের ওপর সবচেয়ে বড় জুলুম।

শিশুকে দুনিয়াবি বিষয়াদি যতটা গুরুত্বের সহিত শিক্ষা দেওয়া হয় দ্বীনি শিক্ষার ক্ষেত্রে ততটুকু গুরুত্ব দেওয়া হয় না। শিশুকে জেনারেল লাইনে পড়াশোনা করালেও আগে দ্বীনের শিক্ষা দেওয়া উচিত। একটি শিশু একটি চারাগাছের মতোই। যেনতেনভাবে একটি চারা রোপণ করলেই যেভাবে ভালো একটি গাছের আশা করা যায় না, ঠিক তেমনিভাবে সন্তানদের দ্বীনের শিক্ষা না দিয়ে বড় হলে দ্বীনদার হয়ে যাবে এমন আশা করা যায় না। দ্বীনদার হওয়ার জন্য ছোট থেকেই তাদের দ্বীনের শিক্ষা দিয়ে বড় করতে হবে। ছোটদের দ্বীন শিক্ষার বিষয়ে আমাদের অবহেলার পেছনে অবশ্য একটি বড়সড় কারণ হচ্ছে, দ্বীন বলতে কী বোঝায় সেটা সম্পর্কেই আমরা অজ্ঞ। আমরা মনে করি কায়দা, আমপারা হয়ে কোরআন পড়া, কিছু দোয়া ও নামাজ শেখা, এই হচ্ছে দ্বীন।

আমাদের করণীয় হলো, আমরা শিশুদের দ্বীন শিক্ষা দেব। আমরা অবশ্যই তাদের কালিমা, নামাজ, কোরআন শেখাব। এর পাশাপাশি তারা আল্লাহকে চিনবে, আল্লাহর রাসুলকে জানবে, সাহাবিদের জানবে। তারা জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে আল্লাহ প্রদত্ত আদেশ-নিষেধ জানবে ও মানবে। এভাবেই তাদের দ্বীনের ছাঁচে গড়ে তুলতে হবে। এটাই হচ্ছে দ্বীন শিক্ষা।

সন্তান-সন্ততি মহান আল্লাহর দেওয়া অমূল্য সম্পদ। তাদের মাধ্যমেই মহান আল্লাহ বাবা-মাকে পরীক্ষা করেন। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘জেনে রেখো, তোমাদের ধন-সম্পদ আর সন্তান-সন্ততি হচ্ছে পরীক্ষার সামগ্রী মাত্র। (এ পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হবে তাদের জন্য) আল্লাহর নিকট রয়েছে মহাপুরস্কার।’ (সুরা আনফাল ২৮)

দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত সন্তান যেমন মা-বাবার জন্য দুনিয়া ও আখেরাতের বড় সম্পদ তেমনি সন্তান যদি দ্বীনি শিক্ষা না পায় তবে পরকালে মা-বাবাকে সেটার ফল ভোগ করতে হবে। সেই সন্তানই তখন আল্লাহর দরবারে অভিযোগ করবে যে, আমাকে দ্বীনি শিক্ষা দেয়নি, তাদের দায়িত্ব পালন করেনি। তাই এই আমানতের হক আদায়ের প্রতি খুবই যতœবান হতে হবে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘জেনে রেখো, তোমরা প্রত্যেকে দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।’ (সহিহ বুখারি)

বর্তমানে বেশিরভাগ মা-বাবা দুনিয়াবি বিষয়গুলো যেভাবে শিক্ষা দেয়, আল্লাহর বিধিবিধানকে সেভাবে শিক্ষা দেয় না। সন্তান হলো বাবা-মায়ের নিকট মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আমানত। এই আমানতের যথাযথ হক আদায়ের প্রতি যত্নবান হতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত