নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ১নং ওয়ার্ডের সদস্য বাসনা মল্লিককে (৫২) পরকীয়া প্রেমিক ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। মনের কষ্টে ও লজ্জ্বায় ওই নারী সদস্য বিষাক্ত কিছু পান করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত একজনকে আটক করেছে।
পুলিশ, ভুক্তভোগীর পরিবার এবং মাইজপাড়া ইউপি সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ডিসেম্বর মাইজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে দাপ্তরিক কাজসহ উপকারভোগীদের মাঝে টিসিবির পণ্য বিতরণের দায়িত্ব পালন করেন বাসনা মল্লিক। কাজ শেষে নিজ বাড়ি মাইজপাড়ার পোড়াডাঙ্গা গ্রামে ফিরছিলেন। এ সময় পার্শ্ববর্তী দৌলতপুর গ্রামের পরকীয়া প্রেমিক রজিবুলের মোবাইল ফোন পেয়ে তার কাছে পাওনা ১০ হাজার টাকা আনতে যান ইউপি মেম্বার বাসনা মল্লিক। প্রেমিক রজিবুলের কাছে যাবার পর রজিবুলসহ তার আরো ৩ সহযোগী বাসনাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর বাসনা মল্লিককে বিষাক্ত কিছু খাওয়ানো হয় বলে পরিবার দাবি করেন। পরকীয়া প্রেমিক রজিবুল, ফারুক হোসেনসহ অভিযুক্তরা আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
মাইজপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির নেতারা বলেন, বিগত সরকারের আমলে রজিবুলসহ তার সহযোগীরা আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন।
এদিকে, ঘটনার দিন (২৪ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে বাড়িতে এসে খাবার খাওয়ার পর বমি শুরু করেন বাসনা মল্লিক। এরপর তার অসুস্থতা বেড়ে গেলে পরের দিন বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে তাকে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানে দুই দিন চিকিৎসাধীন থেকে বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) রাতে মারা যান তিনি। মৃত্যুর পর যশোর কতোয়ালী থানা পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। পরে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেলে তার মরদেহ বাড়িতে আনা হয়।
এ ব্যাপারে বাসনা মল্লিকের ছেলে রিংকু মল্লিক বলেন, ‘পাওনা টাকা দেয়ার কথা বলে রজিবুল মোবাইল ফোনে আমার মাকে দৌলতপুর গ্রামে একটি বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে আমার মাকে ধর্ষণ করেছে। আমার মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় দোষীদের বিচার চাই। রিংকুর স্ত্রী বলেন, মঙ্গলবার রাতে বাড়িতে এসে আমার শাশুড়ি বমি করেন। অবস্থা খারাপ হলে বুধবার দুপুরে যশোর হাসপাতালে ভর্তি করি। অনেক চেষ্টার পরও শাশুড়িকে বাঁচানো গেল না।’
এদিকে, নারী ইউপি মেম্বার বাসনা মল্লিকের মৃত্যুর ঘটনায় দোষীদের চিহিৃত করে যথাযথ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তার ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা। এ ঘটনায় মাইজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সফুরা খাতুন বলেন, গত মঙ্গলবার ইউপি কার্যালয়ে আমাদের সঙ্গে দাপ্তরিক কাজ করেন বাসনা মল্লিক। পরের দিন পরিষদে না আসায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারি তার জ্বর হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে জানতে পারি তার অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে বাসনা মল্লিকের মৃত্যুরহস্য উদঘাটন হবে বলে আশা করছি।
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস ফোরাম নড়াইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কাজী হাফিজুর রহমান বলেন, বাসনা মল্লিকের মৃত্যুর ঘটনায় হিউম্যান ডিফেন্ডারস ফোরাম নড়াইল জেলা শাখার পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের মধ্যদিয়ে দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম বলেন, বাসনা মল্লিক বিষপান জনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এছাড়া পরকীয়া প্রেমের সূত্র ধরে তার ওপর যৌন হয়রানিরও ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি। এই বিষয়গুলো সামনে রেখে ইউপি সদস্য বাসনা রানীর মৃত্যুর বিষয়টি অধিকতর তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় ফারুক হোসেনকে (৬০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা চলছে।
বিয়ে না করার কারন জানালেন মারজুক রাসেল
পাপারাজ্জিদেরকে ফ্লাইং কিস ছুঁড়ে দিলেন ছোট্ট রাহা 