মমতাজের বাউল কমপ্লেক্সে বিষণ্নতার সুর

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪, ০২:৪৭ এএম

মানিকগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম নিজ দল আওয়ামী লীগের শাসনামলে বরাবরই ছিলেন আলোচিত-সমালোচিত। কখনো সংসদ অধিবেশনের সময় দলীয় প্রধানের মন জয় করতে গান গেয়ে, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের শহীদ হওয়ার নানা রকম ব্যাখ্যার পাশাপাশি দলীয় সভা-সমাবেশে জেলা আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতাদের কটাক্ষ করে মন্তব্য করায় ছিলেন বিতর্কের শীর্ষে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন মমতাজ বেগম। এরই মধ্যে মমতাজের বিরুদ্ধে নিজ নির্বাচনী এলাকার থানা ও আদালতে হত্যা এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে হাফডজন মামলা হয়েছে। তার পৈতৃক বাড়ি মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের পূর্বভাকুম গ্রামের বাউল কমপ্লেক্স (মিউজিয়াম), মধু মঞ্চ ও মধুর আড্ডা নামে রেস্টুরেন্টে ভূতুড়ে অবস্থা বিরাজ করছে। প্রতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে তিন দিনব্যাপী মমতাজের বাবা প্রয়াত মধু বয়াতির নামে মেলার ছন্দপতন ঘটতে যাচ্ছে এবার।

জানা গেছে, হেমায়েতপুর-সিংগাইর-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে পূর্বভাকুম গ্রামে অত্যাধুনিকভাবে নির্মাণ করা হয়েছে মমতাজ বেগমের বাড়ি। পাশেই মধু-উজালা কোল্ড স্টোরেজ, বাউল কমপ্লেক্স, মধু মঞ্চ ও সর্বশেষ চালু করা হয় ‘মধুর আড্ডা’ নামে চাইনিজ রেস্টুরেন্ট। এক সময় মমতাজের বাড়িসহ এসব প্রতিষ্ঠানে ছিল নিিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা। মধু মঞ্চেই এ এলাকার আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের আড্ডাস্থল ছিল। রাজনৈতিক কর্মসূচির যাবতীয় সিদ্ধান্ত এখান থেকেই নেওয়া হতো। মমতাজ বেগম যখন বাড়িতে অবস্থান করতেন তার অনুসারীরা এর চারপাশ সরগরম করে রাখতেন। পাশাপাশি গাড়ির বহর লেগেই থাকত। তবে গত ৫ আগস্টের পর বদলে গেছে সেই চিরচেনা দৃশ্য। সেখানে এখন ভূতুড়ে অবস্থা বিরাজ করছে।

গতকাল দুপুরে মমতাজের নিজবাড়ি জয়মন্টপ ও পূর্বভাকুম গ্রামের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীতে যখন উত্তপ্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয় মমতাজ বেগম তখন থেকেই গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের খবর পেয়ে তিনি বিকেলে তার বড় ভাই এবারতের বাড়ি উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের চরদুর্গাপুর গ্রামে চলে যান। সেখানে দুই-তিন মাস থাকার পর কোনো এক সময় ছদ্মবেশ ধারণ করে অবস্থান বদলে আত্মগোপনে চলে যান। এর মধ্যে বিক্ষোভকারীরা তার মধুর আড্ডার গ্লাস ও প্রবেশপথের লাইটগুলো ভাঙচুর করে। বর্তমানে এসব স্থাপনায় সুনসান নীরবতা। শুধু পাখপাখালি ও প্রকৃতির শব্দ চারদিক। সবমিলিয়ে একসময়ের সরব এ স্থাপনাগুলোতে যেন বেজে চলছে বিষণœতার সুর।

মধুর আড্ডা রেস্টুরেন্টের দায়িত্বে থাকা সিকিউরিটি গার্ড আবদুর রহিম বলেন, ৫ আগস্টের পরদিন একদল দুর্বৃত্ত রেস্টুরেন্টের ভেতরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুরসহ ৪ লাখ টাকার মালপত্র লুট করে নিয়ে গেছে।

মমতাজ বেগমের বাড়ি ও বাউল কমপ্লেক্সের দায়িত্বে থাকা যশোর জেলার বাসিন্দা আনন্দ কুমার দত্ত বলেন, ‘টেলিভিশনে শেখ হাসিনার দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার খবর দেখে মমতাজ ম্যাডাম বাড়িসহ সব জায়গা-জমি আমাকে দেখভাল করার কথা বলে বের হয়ে যান। এরপর থেকে তার সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। মাস শেষে ম্যাডামের বড় ভাই এবারত পীরসাব আমার বেতন দিয়ে যান।’ বাউল কমপ্লেক্সের ভেতরে যেতে চাইলে মালিকপক্ষের নিষেধ আছে বলে জানান সিকিউরিটি গার্ড আনন্দ কুমার দত্ত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত