সরকারি কর্মচারীদের দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য চায় দুদক

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২৫, ১২:২২ এএম

দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিদেশে পাচারের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সরকারি কর্মচারীদের দ্বৈত নাগরিকত্ব বা পাসপোর্টের তথ্য জানতে চেয়ে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগে চিঠি পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বুধবার দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণ করা পাবলিক সার্ভেন্টদের পাসপোর্ট ও এতদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য প্রেরণ করার জন্য ইমিগ্রেশন পাসপোর্ট অধিদপ্তরসহ তিনটি দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।’

দুদকের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, কতিপয় দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মচারী তথ্য গোপন করে বাংলাদেশ ছাড়া ভিন্ন দেশের পাসপোর্ট গ্রহণ ও ব্যবহার করছেন। চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে শাস্তি বা আইনগত পদক্ষেপ এড়ানোর লক্ষ্যে তারা ভিন্ন দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে সেসব দেশে অবস্থান করছেন। এভাবে ভিন্ন দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা নিজেদের আইনি পদক্ষেপ থেকে রক্ষা করাসহ অপকর্ম ঢেকে রাখার প্রয়াস চালাচ্ছেন। তাদের এমন কার্যকলাপ সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪০ ধারার পরিপন্থী।

এতে আরও বলা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন কর্র্তৃক পরিচালিত বিভিন্ন অনুসন্ধানকালে এ মর্মে তথ্য পাওয়া গেছে যে, সরকারি কর্মচারীদের একাধিক পাসপোর্ট গ্রহণের মূল লক্ষ্যই হলো বাংলাদেশে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত তাদের অবৈধ সম্পদ গোপন করে বিদেশে পাচার ও ভোগ করা। তাদের এমন কার্যকলাপ দেশে দুর্নীতির প্রসারে ভূমিকা রাখছে এবং দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ভিন্ন একটি দেশে নাগরিকত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশের সরকারি চাকরির নৈতিক দায়দায়িত্বের প্রতি তাদের অনাগ্রহ পরিলক্ষিত হয়, যা কোনক্রমেই বাঞ্ছনীয় নয়।

চিঠিতে আরও বলা হয়, দ-বিধির ২১ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ২ নম্বর ধারা এবং ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ১১০ ধারাসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সব আইন অনুযায়ী প্রতিরক্ষা বিভাগে কর্মরত সব কমিশন্ড অফিসার, আদালতে কর্মরত কর্মচারী ও বিচারক সরকারি রাজস্ব খাত থেকে বেতনভুক্ত সব কর্মচারী, সব স্বায়ত্তশাসিত, আধাসরকারি বা রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানিতে কর্মরত সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন পর্যায়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে বিবেচিত হন। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় গণকর্মচারী অথবা তাদের পোষ্যরা কর্র্তৃক দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণের বিষয়ে রক্ষিত তথ্যাদি পর্যালোচনা করা একান্ত আবশ্যক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত