সময়ের চাহিদা মেনেই ব্যাটিং দর্শনে বদল

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২৫, ০২:৩৬ এএম

ইয়াসির আলি রাব্বি এবারের আগে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ৪ আসরে খেলেছেন ৪টি ভিন্ন দলের হয়ে। কোনো আসরেই তার রান করার স্ট্রাইক রেট ১৪০ ছাড়ায়নি। অথচ এবারের বিপিএলে প্রথম ম্যাচেই দুর্বার রাজশাহীর হয়ে রাব্বি খেলেছেন ৪৭ বলে ৯৪* রানের ইনিংস, স্ট্রাইক রেট ২০০! মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের এবারের আগে হাফসেঞ্চুরিই মাত্র ১টি, সেই অঙ্কন ১৮ বলে হাফসেঞ্চুরি করে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের পক্ষে দ্রুততম। উইকেটের ধরন বদলাতে বিসিবি প্রধানের নির্দেশ আছে, এটা যেমন সত্যি তেমনি এটাও সত্যি যে মানসিকতা না বদলে ব্যাটিং স্বর্গেও সাবধানী ইনিংসের উদাহরণও কম নেই। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ইনিংসপ্রতি গড় রানের অঙ্কটা বড় হচ্ছে, কাল যে রানটা নিরাপদ মনে হচ্ছিল এখন সেটাই অনিরাপদ। আশার কথা ব্যাপারটা বুঝতে পারছেন বাংলাদেশের স্থানীয় ক্রিকেটাররাও, যার প্রতিফলন দেখা গেছে বিপিএলের প্রথম ৪ ম্যাচে।

আসরের একদম প্রথম ম্যাচে রাজশাহীর ১৯৭ রান তাড়া করে ১১ বল হাতে রেখে জিতেছে বরিশাল, তারা করে কাঁটায় কাঁটায় ২০০ রান। পরের ম্যাচে রংপুর করে ১৯১ রান, ঢাকা ক্যাপিটালস আটকে যায় ১৫১ রানে। দ্বিতীয় দিনের প্রথম খেলায় খুলনা টাইগার্স করে ২০৩ রান, চিটাগং কিংস অলআউট হয় ১৬৬ রানে। পরের ম্যাচে রংপুর ১৫৫ রান করে আর সিলেট স্ট্রাইকার্সকে আটকে দেয় ১২১ রানে। দিনের প্রথম ম্যাচটায় রান হচ্ছে বেশ। ভালো উইকেট এবং শিশিরের অনুপস্থিতি, সব মিলিয়ে ম্যাচটাকে উভয়পক্ষের জন্যই সমান সুযোগ এনে দেয়। গত মৌসুমের দিকে তাকালে দেখা যাবে শুরুতে এই হারে রান হয়নি, বিশেষ করে ঢাকার উইকেটে। উদ্বোধনী দিনে কুমিল্লার ১৪৩ রানের জবাবে ঢাকা জিতেছিল ৩ বল আগে, সিলেটের ১৭৭ রান তাড়া করে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স জিতেছিল ৯ বল হাতে রেখে। এরপর টানা ৩ ম্যাচে দলীয় রান দেড়শও ছাড়ায়নি। আসরের ২৭তম ম্যাচে এসে প্রথম দলগত ২০০ রানের ইনিংস দেখা গেছে। এবার সেটা দেখা গেল প্রথম ম্যাচেই।

রংপুর রাইডার্স অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান সিলেটের বিপক্ষে খেলেছেন ৩১ বলে ৪১ রানের ইনিংস। তিনি বললেন, ‘বিপিএলের আগে একটা এনসিএল ম্যাচ (টুর্নামেন্ট) হলো, তো এই জায়গাতেও কিছু হাই স্কোরিং ম্যাচ হয়েছে। যত টি-টোয়েন্টি খেলবে ততই আমার মনে হয় টি-টোয়েন্টির যে কনফিডেন্সটা সেটা সব খেলোয়াড়ই বেশি পাবে। ওদিক থেকে ওভারঅল ভালো, শুরু হয়েছে ভালো। দেখা যাক, টুর্নামেন্ট চলাকালে আরও অনেক ম্যাচ হবে, টুর্নামেন্ট শেষে আসলে এটা আলোচনা করার অপশন থাকবে।’

সোহান যদিও আসরের শেষে এই আলোচনা করতে চান, বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের আসরের শুরুর দিকের ইনিংসগুলোই বুঝিয়ে দিচ্ছে এবার তারা সাবধানী নন, টি-টোয়েন্টির উপযোগী ব্যাটিংই করতে চান। খুলনার অঙ্কন যেমন দুইবার জীবন পেয়েও গুটিয়ে না গিয়ে আগ্রাসী ভূমিকাতেই খেলে গেছেন। চিটাগং কিংসের শামীম হোসেন পাটোয়ারী ৩৮ বলে করেছেন ৭৮ রান। ওদিকে দলের বাকিরা মিলে ৮৮ রান! চিটাগং অলআউট হয়েছে ১৮.৫ ওভারে। উল্টোদিকে টানা উইকেট পড়লেও দমে যাননি শামীম। ৫ উইকেট হারানোর পরও মাহমুদউল্লাহ আর ফাহিম আশরাফ যেভাবে ব্যাট করে দলকে জেতালেন, তাতে মুখ্য ভূমিকা পাকিস্তানের ফাহিমের হলেও ২৬ বলে ৫৬ করা মাহমুদউল্লাহর ভূমিকাও কম নয়। অথচ গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে অনেকটা এ রকম পরিস্থিতিতেও সাবধানী ব্যাটিং করেছিলেন মাহমুদউল্লাহ, যার খেসারত দিয়েছিল বাংলাদেশ।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের ব্যর্থতার অন্যতম কারণ দেশের ব্যাটসম্যানদের টি-টোয়েন্টিতেও ওয়ানডে ঘরানার ব্যাটিং। ১২০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং মানেই একসময় ছিল মারকুটে ব্যাটিং। তবে এখন দিন বদলেছে। বলা ভালো বদলে দিয়েছে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ। তাদের ট্র্যাভিস হেড, তিলক বর্মা, হেনরিখ ক্লাসেনরা মিলে টি-টোয়েন্টিতে আড়াইশ রানটাকে নিয়মিত বানিয়ে ফেলেছেন। অন্য দলগুলো হাঁটছে সেই পথে। সময়ের প্রয়োজনে তাই বিপিএলেও ব্যাটসম্যানদের তাল মেলাতে হচ্ছে যুগের হাওয়ায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত