গেল মাসের মতো বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতেও ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজির তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম অপরিবর্তিত রেখে ১ হাজার ৪৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতের অন্যান্য ওজনের এলপি গ্যাসের দামও রাখা হয়েছে অপরিবর্তিত।
তবে গাড়িতে ব্যবহৃত প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৬৬.৮১ টাকা থেকে কমিয়ে ৬৬.৭৮ টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে সরকারি কোম্পানির সরবরাহকৃত সাড়ে ১২ কেজি এলপিজির দাম ৬৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে আগের মতোই। যদিও সারা দেশে চাহিদার তুলনায় এটি মাত্র ১ থেকে দেড় শতাংশের মতো সরবরাহ করার সক্ষমতা রয়েছে। আবার যাও সরবরাহ করা হয় তা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।
আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এক সংবাদ সম্মেলনে চলতি মাসের নতুন দর ঘোষণা করেন চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ, যা এদিন সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর হবে।
ঘোষিত দর অনুযায়ী, প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১২১ টাকা ১৯ পয়সা বিবেচনায় সাড়ে ৫ কেজি থেকে ৪৫ কেজি ওজনের বোতলজাতকৃত এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত রেটিকুলেডেট পদ্ধতিতে তরল ও গ্যাসীয় অবস্থায় সরবরাহকৃত এলপিজির দামও রয়েছে অপরিবর্তিত।
বিইআরসি জানিয়েছে, জানুয়ারি মাসের জন্য সৌদির আরামকোর প্রোপেন এবং বিউটেনের ঘোষিত সৌদি সিপি প্রতি মেট্রিক টন যথাক্রমে ৬২৫ মার্কিন ডলার ও ৬১৫ মার্কিন ডলার এবং প্রোপেন ও বিউটেনের অনুপাত ৩৫:৬৫ অনুযায়ী প্রোপেন ও বিউটেনের গড় সৌদি সিপি প্রতি মেট্রিক টন ৬১৮.৫০ মার্কিন ডলার বিবেচনায় জানুয়ারি মাসের জন্য বেসরকারি এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম ভোক্তা পর্যায়ে সমন্বয় করা হয়েছে।
এর আগে গত বছর ৪ দফা কমেছিল এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম, আর বেড়েছে ৭ দফা। এক দফা ছিল অপরিবর্তিত। গত বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ, জুলাই, আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর বাড়ানো হয়েছিল এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম। আর দাম কমেছিল এপ্রিল, মে, জুন ও নভেম্বরে। তবে দাম অপরিবর্তিত ছিল ডিসেম্বরে। সদ্য বিদায়ী বছরের (২০২৪) জানুয়ারি মাসে ১২ কেজি ওজনের এলপিজির দাম ২৯ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৪৩৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। একইভাবে অটোগ্যাস এবং অন্যান্য আয়তনের এলপিজির দামও বাড়ানো হয়। সর্বশেষ গত নভেম্বরে ১২ কোজি এলপিজির দাম ১ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৪৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয় যা এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে।
এলপিজি মূলত প্রোপেন ও বিউটেন এর একটি মিশ্রিত অনুপাত। এই দুটিই আমদানি করা হয়। সৌদি আরামকোর ঘোষিত মূল্য (সৌদি সিপি) ধরে ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে প্রতি মাসে দেশে এলপি গ্যাসের দাম ঠিক করে আসছে বিইআরসি। দাম নির্ধারণে ডলারের মূল্যও একটি ভূমিকা রাখে।
যদিও বাজারে কমিশনের বেঁধে দেওয়া মূল্যের চেয়ে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছে মতো বেশি দাম এলপিজি বিক্রি করছেন বলে দীর্ঘদিন ধরেই ভোক্তারা অভিযোগ করে আসছেন। এক্ষেত্রে বিইআরসির বক্তব্য হচ্ছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে তদারকি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বাসাবাড়িতে পাইপলাইনে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকটের কারণে গৃহস্থালি রান্নার পাশাপাশি রেস্তোরাঁ, পরিবহন, ছোট-বড় শিল্পকারখানায়ও এলপিজি ব্যবহার বাড়ছে।
সহজিয়ার প্রথম একক কনসার্ট ‘ধ্যান’
ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে প্রাণ গেল চোরের