সুন্দর থাকতে বাইরে থেকে যতই যত্ন নিন না কেন, ভেতরে যদি পুষ্টির ঘাটতি থাকে, তাহলে ত্বকের নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেবে। আমাদের খাবারের তালিকায় এমন অনেক খাবার রয়েছে, যা ত্বক ও চুল ভালো রাখতে সাহায্য করে। শুষ্ক ত্বক কিংবা বলিরেখা, অ্যাকনে যাই হোক না কেন, সঠিক খাবারের মাধ্যমে অনেকভাবেই সমাধান করা যায়।
শুষ্ক ত্বক এবং বলিরেখা
ত্বকের ইলাস্টিসিটি কমে গেলেই বলিরেখার সমস্যা দেখা দেয়। এর প্রধান কারণ অবশ্যই বয়স। একই কারণে ত্বকের স্বাভাবিক তৈলাক্ত ভাবও কমতে কমতে ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ে। পাশাপাশি দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে আমরা যে ভুল-ত্রুটি করি, তারও প্রভাব পড়ে আমাদের ত্বক তথা শরীরে। প্রথম ভুল হলো শরীরে ভিটামিন সি-এর অভাব। ত্বক টানটান রাখতে ভিটামিন সি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ত্বকের বিভিন্ন টিস্যু তৈরি করতে এই ভিটামিন প্রয়োজন হয়। তাই শুষ্ক ত্বক এবং বলিরেখার হাত থেকে নিষ্কৃতি পেতে চাইলে প্রতিদিন অবশ্যই ৫০০ মিলিগ্রাম করে ভিটামিন সি খেলেই হবে না। শরীরে যাতে ভিটামিন অ্যাবসর্ব হতে পারে, তার জন্য এসেনশিয়াল ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ খাবার যেমন সামুদ্রিক মাছ, ফ্ল্যাক্সসিড অয়েল, আমন্ড এবং আখরোটও ডায়েটে রাখুন।
ত্বকের লালচে ভাব
যাদের ত্বকে লালচে সমস্যা রয়েছে তারা কিছু খাবার বাদ দিন। অতিরিক্ত ঝাল কিংবা মসলাদার খাবার, কফি, অ্যালকোহল ইত্যাদির পাশাপাশি অতিরিক্ত রোদে ঘোরা, স্ট্রেস, গরম পানিতে গোসল করা ইত্যাদি থেকেও বিরত থাকতে চেষ্টা করুন। পরিবর্তে রঙিন ফল ও সবজি যেমন ব্রকলি, পালংশাক, গাজর, স্ট্রবেরি ইত্যাদি খান বেশি করে।
মুখ এবং চোখের ফোলাভাব আমাদের রক্তে যখনই ফ্যাট বেড়ে যায়, তা রক্ত সঞ্চালনের গতি কমিয়ে দেয়। আর লবণ শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে ফ্লুইড টেনে কোষে জমাতে সাহায্য করে।
এই দুটোই কিন্তু চোখমুখের ফোলাভাব বাড়ানোর জন্য দায়ী। অতিরিক্ত ফ্যাট থেকে হরমোনাল গোলযোগও দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা পরোক্ষভাবে এই সমস্যা সৃষ্টি করে। যেসব খাবারে লবণের পরিমাণ বেশি, সেসব খাবার এড়িয়ে চলুন। এক সপ্তাহ ডিনারে সামান্য লবণ বা একদম লবণ ছাড়া খাবার যেমন সেদ্ধ সবজি, সালাদ, টকদই ইত্যাদি খেয়ে দেখুন। দেখবেন চোখমুখের ফোলাভাব অনেকটাই কমে যাবে।
অ্যাকনে
শরীরে টক্সিনের পরিমাণ বেড়ে গেলেই অ্যাকনে দেখা দেয়। অনেকের ক্ষেত্রে স্টেরয়েড, ওরাল কনট্রাসেপটিভ পিল, অ্যান্টি এপিলেপ্টিক ওষুধের কারণেও অ্যাকনে দেখা দেয়। পাশাপাশি ত্বক ধুলাবালির সংস্পর্শে এলে কিংবা নিম্নমানের কসমেটিক ব্যবহার করলেও অ্যাকনের সমস্যা হয়। এর সব থেকে ভালো সমাধান প্রচুর পরিমাণে পানি খাওয়া। এতে শরীর থেকে টক্সিন ফ্লাশ আউট হয়ে যায়। তবে এর সঙ্গে সঙ্গে আমন্ড, আখরোট, সয়া ইত্যাদি খাবার কম খেয়ে বেশি পরিমাণে ফল, সবজি, হোল গ্রেন খান। এতেও উপকার পাবেন।
