মাত্র এক রাতের ব্যবধানে বদলে গেল দৃশ্যপট। আগের ম্যাচেই তাসকিন আহমেদের সাত উইকেটের সৌজন্যে ঢাকা ক্যাপিটালসকে নাকানি চুবানি খাইয়েছিল দুর্বার রাজশাহী। এবার নিজেরাই অসহায় আত্মসমর্পণ করল চিটাগং কিংসের সামনে। একমাত্র তাসকিন ছাড়া রাজশাহীর কেউই বল হাতে ভীতি ছড়াতে পারেননি। সুযোগ কাজে লাগিয়ে চলতি বিপিএলের প্রথম সেঞ্চুরি উপহার দেন চিটাগংয়ের পাকিস্তানি ওপেনার উসমান খান। তার ১২৩ রানের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংসে মিরপুরে রেকর্ড স্কোর গড়ে ১০৫ রানের বিশাল জয় তুলে নিয়েছে চিটাগং কিংস।
শুক্রবার মিরপুরে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫ উইকেটে ২১৯ রান তোলে রাজশাহী কিংস। এটাই মিরপুরে বিপিএলের সর্বোচ্চ স্কোর। অথচ শুরুতে ভিন্ন কিছুরই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তাসকিন। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই ফেরত পাঠান পারভেজ ইমনকে (০)। সবাই যখন তাসকিনের আরেকটি স্মরণীয় বোলিং দেখার প্রত্যাশা করছিল, ঠিক তখনই শুরু হয় উসমান খান আর ইংল্যান্ডের গ্রাহাম ক্লার্কের তাণ্ডব। হাসান মুরাদকে তিন চার এক ছক্কায় উড়িয়ে উসমান হাত খোলেন। পরের ওভারে মোহর শেখকে হাঁকান তিন বাউন্ডারি। ৫২ বলে একশ ছাড়িয়ে যায় চিটাগংয়ের স্কোর। ২১ বলে ফিফটি পূরণ করেন উসমান। এরপর হয়ে ওঠেন আরও বিধ্বংসী।
গ্রাহাম ক্লার্কও ঝড়ো ব্যাটিং করছিলেন। সোহাগ গাজীর বলে তার ইনিংস থামে ২৫ বলে ৫ চার ২ ছক্কায় ৪০ রানে। ভাঙে দ্বিতীয় উইকেটে ১২০ রানের জুটি। কিন্তু উসমান থামেননি। ৪৮ বলে ১১ চার ৫ ছক্কায় তুলে নেন সেঞ্চুরি, যা বিপিএলের ইতিহাসে ৩৩তম। ২০২৩ সালে প্রথমবার বিপিএলে এসে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলেন উসমান। এক আসর পর এবার চিটাগং কিংসের হয়ে সেই দ্বিতীয় ম্যাচেই তিনি সেঞ্চুরি হাঁকালেন। মাঝে ৮২ ও ৯৫ রানে দুইবার জীবন পেয়ে সেটাকে কাজে লাগান। হয়ে যান বিপিএলে একাধিক সেঞ্চুরি করা ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান। মাত্র ১৩ ইনিংসে দুটি সেঞ্চুরি হয়ে গেল তার। আগের পাঁচজনই খেলেছেন ত্রিশের বেশি ইনিংস। ৫২ ইনিংসে ৫ সেঞ্চুরি নিয়ে সবার ওপরে ক্রিস গেইল। এছাড়া একাধিক সেঞ্চুরি করেছেন জনসন চার্লস, আন্দ্রে ফ্লেচার, এভিন লুইস ও তামিম ইকবাল।
আউট হওয়ার আগে উসমান খেলেন ৬২ বলে ১৩ চার ৬ ছক্কায় ১২৩ রানের ঝলমলে ইনিংস। শেষদিকে অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুনের ১৫ বলে ২৮ আর হায়দার আলীর ৮ বলে ২৩ রানের ক্যামিওতে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২১৯ রান তোলে চিটাগং।
পাহাড়সম রানের বোঝা নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামা দুর্বার রাজশাহী ভেঙে পড়ে শুরুতেই। দলীয় ৯ রানে সাব্বির হোসেনকে (৮) ফিরিয়ে শুরু করেন পেসার শরীফুল ইসলাম। আরেক ওপেনার মোহাম্মদ হারিস করেন ১৫ বলে ৩২। টানা দুই ফিফটি করা অধিনায়ক এনামুল হক বিজয়ও (৮) আরাফাত সানির বলে পারভেজ ইমনের তালুবন্দি হন। এভাবেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে রাজশাহী। ইনিংস মাঝপথে যাওয়ার আগেই তাদের পরাজয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়। ছয় ব্যাটার দুই অঙ্কেই যেতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ১৭.১ ওভারে ১১৪ রানে অলআউট হয় দুর্বার রাজশাহী। তিনটি করে উইকেট নেন আরাফাত সানি আর আলিস আল ইসলাম। ২টি করে নেন শরীফুল আর মোহাম্মদ ওয়াসিম। দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ম্যাচসেরা হয়েছেন উসমান খান।
