নিয়ম মেনে রোজা রাখতে পারবেন ডায়াবেটিস রোগীরা

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:৩৭ এএম

রোজা বা সিয়াম হলো ইসলাম ধর্মের পাঁচটি মূল ভিত্তির তৃতীয়। প্রতিবছর রোজা রাখতে গিয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবে কিছু নিয়ম মেনে ডায়াবেটিস রোগীরা সহজে রোজা রাখতে পারবেন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

গতকাল শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ডায়াবেটিস রোগীদের নিরাপদে রোজা রাখার উপায় জানিয়েছে ক্লিনিক্যাল অ্যান্ডোক্রিনোলজিস্ট ও ডায়াবেটোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এসিইডিবি)।

সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার বরাত দিয়ে জানানো হয়, বাংলাদেশের শতকরা প্রায় ৮০ জন ডায়াবেটিস রোগী রোজা রাখেন। সারা বিশ্বের প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডায়াবেটিস রোগী রোজা রাখেন। কিন্তু ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে যারা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া রোজা রাখেন তারা কিছু জটিলতার সম্মুখীন হন। বিশেষ করে রক্তে সুগারের স্বল্পতা (হাইপোগ্লাইসেমিয়া), রক্তে সুগারের আধিক্য (হাইপারগ্লাইসিমিয়া), ডায়াবেটিস কিটোএসিডোসিস, পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনে ভোগেন।

সংবাদ সম্মেলনে এসিইডিবির প্রেসিডেন্ট ও ডায়াবেটিস রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, নিয়ম মেনে সব ধরনের ইবাদত পালন করা যায়। কিছু নিয়ম মেনে সহজেই ডায়াবেটিস রোগী রোজা রাখতে পারবেন। সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে রমজানের আগে প্রস্তুতি নিয়ে যারা রোজা রাখেন তাদের হাইপোগ্লাইসেমিয়া-সহ অন্যান্য জটিলতা রমজানের আগের চেয়েও অনেক কম হয়।

এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলেন, ডায়াবেটিস রোগীরা সুগার কন্ট্রোলের মাধ্যমে রোজা রাখলে আরও বেশি সুবিধা হবে। সুতরাং এ কথা বলা অত্যুক্তি হবে না যে, রোজা রাখার আকাক্সক্ষা রোগীকে ডায়াবেটিস কন্ট্রোলের ব্যাপারে আরও বেশি উদ্যোগী করবে।

অধ্যাপক ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, রোজা রাখা অবস্থায় রক্ত পরীক্ষা করা, এমনকি প্রয়োজন হলে ইনসুলিন ইনজেকশন নেওয়া যেতে পারে। আলেমদের কাছ থেকে আমরা জেনেছি এতে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না। সুতরাং এসব নিয়ম মেনে ডায়াবেটিস রোগী রোজা রাখতে পারবেন। সন্দেহ থাকলে অভিজ্ঞ দ্বীনদার ডাক্তার কিংবা হাক্কানি আলেমদের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে পারেন।

রমজানের পূর্বপ্রস্তুতি সম্পর্কে এই চিকিৎসক ডায়াবেটিস রোগীদের উদ্দেশে বলেন, হাইপো বা হাইপার গ্লাইসেমিয়া না হওয়ার জন্য খাদ্য, ব্যায়াম এবং ওষুধের সমন্বয় করে নেবেন। দিনেরাতে সুগার পরিমাপ করে ওষুধ সমন্বয়ের ব্যাপারে রোগী ও রোগীর পরিবারের সবাই শিক্ষা গ্রহণ করবেন। রোগীর অবস্থা অনুযায়ী আলাদা আলাদা ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন। ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে ৩ বারের ওষুধ ১ বা ২ বারে পরিবর্তন করে নিতে পারেন। রমজানের আগে থেকে দুপুরের ওষুধ রাতে খাওয়া শুরু করতে পারেন। রমজানের আগে একাধিক নফল রোজা রেখে প্রস্তুতি নেওয়া ভালো।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নিরাপদে ডায়াবেটিস রোগীর রোজা পালনের ব্যাপারে দীর্ঘদিন থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যান্ড্রোক্রাইন ডিপার্টমেন্ট সর্বস্তরে জনগণকে সচেতন করার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে আসছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত