মাছের জন্য লড়াই

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৫, ১২:৪৩ এএম

বুটের শব্দ কানে আসতেই ভয়ে কাঁপতে থাকেন অশোকা (ছদ্মনাম)। ২৩ বছরের এই তরুণ তখন ছিলেন নৌকার ইঞ্জিন কক্ষে। ভারতের পামবন দ্বীপের বাসিন্দা অশোক নৌকার ডেকে (পাটাতন) এসেই দেখতে পান, শ্রীলঙ্কার নৌ-কর্মকর্তারা বন্দুক, রড ও কাঠের লাঠি দিয়ে আট জেলেকে মারধর করছেন। এরপর মারধরের শিকার হন অশোকও।

মারধরের শিকার হওয়া সবাই ভারতের নাগরিক। নৌকা থেকে পরে হাতকড়া পরিয়ে, শিকলে বেঁধে তাদের নেওয়া হয় শ্রীলঙ্কার উত্তরাঞ্চলীয় কারাইনগর নৌ-ক্যাম্পে। ১৫ দিন পর দুজন ব্যক্তি ওই ক্যাম্পে গিয়ে জেলেদের গামছা ও সাবান দিয়ে আসেন। জেলেরা পরে জানতে পারেন, ওই দুজন ছিলেন শ্রীলঙ্কায় ভারতীয় দূতাবাসের কর্মী। ওই জেলেরা ছাড়া পান এক মাস পর।

এটা ২০১৯ সালের ঘটনা। শ্রীলঙ্কার কাচচাথিভু দ্বীপ এলাকার জলসীমায় অনুপ্রবেশ করে মাছ ধরায় গ্রেপ্তার করা হয় তাদের। আল-জাজিরার বিশ্লেষণধর্মী এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালের পর প্রায়ই এ ধরনের গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের ঘটনা বাড়তে থাকে, যা ২০২৪ সালে এসে ‘সর্বোচ্চ পর্যায়ে’ চলে যায়। ভারতের সরকারি নথির উদ্ধৃতি দিয়ে আল-জাজিরা বলছে, ২০২৪ সালে তাদের ৫৩৫ জন জেলেকে শ্রীলঙ্কা গ্রেপ্তার করে, যা ২০২৩ সালের প্রায় দ্বিগুণ। গত ২৯ নভেম্বরও সেখানে ১৪১ জন জেলে বন্দি ছিলেন; মাছ ধরার ট্রলার জব্দ ছিল ১৯৮টি।

শ্রীলঙ্কার জলসীমায় অনুপ্রবেশের অভিযোগে গত সেপ্টেম্বরে পাঁচ ভারতীয় জেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ছেড়ে দেওয়ার আগে সবার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়। পেতে সবাইকে ৫০ হাজার (১৭০ ডলার) শ্রীলঙ্কান রুপি করে দিতে হয়।

এসব অভিযোগের বিষয়ে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য জানতে চেয়েও কোনো সাড়া না পাওয়ার কথা জানিয়েছে আল-জাজিরা।

ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে সংযোগ ঘটানো মান্নার উপসাগর জীববৈচিত্র্যে ভরা এবং দুই দেশের জেলেদের জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ সংস্থান। সেখানে ঐতিহাসিকভাবেই দুই দেশের জেলেরা মাছ শিকার করেন। ১৯৭৪ সালে ভারত দ্বীপটি শ্রীলঙ্কার কাছে হস্তান্তরের দুই বছর পর সেখানে ভারতীয় জেলেদের মাছ ধরার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত