কুয়েতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর স্যাটেলাইট যোগাযোগব্যবস্থা, সামরিক সরঞ্জামের গুদাম এবং যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গারে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী। গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ইরানের সামরিক বাহিনী বলেছে, সকালে কুয়েতের আহমেদ আল-জাবের বিমানঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর স্যাটেলাইট যোগাযোগব্যবস্থা, সামরিক স্থাপনা এবং যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের দাবি, এই হামলায় যোগাযোগব্যবস্থা ও যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সামরিক সদস্যদের একটি আবাসস্থল এবং রাডার ব্যবস্থায় হামলা চালানোর দাবিও করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী।
এর আগে, কুয়েতের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, ইরান থেকে আসা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে শুরু করা সামরিক অভিযান ‘দীর্ঘস্থায়ী’ হবে না। জুলাইয়ের শেষদিকে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান স্থগিত করার পর গত রবিবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে ফের হামলা শুরু করে। এর মধ্যে বুধবার তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সবচেয়ে বড় পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় ইরানের আরব প্রতিবেশী দেশগুলো আবার তীব্র যুদ্ধ বেঁধে যেতে পারে আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।
ট্রাম্প বুধবার হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের বলেন, ইরান একটি রকেট নির্মাণের চেষ্টা করছে যেটি মাইন ফেলতে পারবে, যুক্তরাষ্ট্র সেটি ধ্বংস করে দিয়েছে। তিনি আরও জানান, ইরান তাদের রেডার ও ক্ষেপণাস্ত্র পদ্ধতিও পুনর্বহালের জন্য কাজ করছে, মার্কিন হামলায় সেগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওই হামলায় ১৮ জন নিহত ও আরও ১০৮ জন আহত হয়েছেন। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিসংলগ্ন হরমুজগান প্রদেশের সিরিক শহরের কোহেস্তাক এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালে মার্কিন হামলায় চার বেসামরিক নিহত, আরও ৭০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধের আকস্মিক তীব্রতা বৃদ্ধি ও বেসামরিক হতাহতের ঘটনা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত ও ইরাকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরান জানিয়েছে, তারা এসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সম্পদকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনযোগে হামলা চালানো হয়েছে আর তারা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ব্যবহার করে সেগুলো প্রতিরোধ করার চেষ্টা করছে।
কুয়েতে ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়েছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, কুয়েতে ইরানের নতুন করে চালানো হামলা দেশটির সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখ-তার লঙ্ঘন, পাশাপাশি এটি আন্তর্জাতিক আইনেরও লঙ্ঘন। কুয়েতের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে কাতার আরও জানায়, দেশটির সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় কুয়েত যে পদক্ষেপ নেবে, তা সমর্থন করবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই হামলাগুলো উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলছে এবং অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।’ বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, এসব হামলা এবং এর পরিণতির জন্য ইরান ‘আইনগতভাবে দায়ী’।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওই অঞ্চলে সামরিক কর্মকা- বন্ধ করা, উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি এড়ানো এবং পূর্ববর্তী কূটনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে সংলাপ ও আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার পর ইরানও বলেছে, তারা কুয়েত ও জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
হরমুজ প্রণালির নাম ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখার প্রস্তাব ট্রাম্পের : হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তন করে নিজের নামে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন ট্রাম্প। ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর প্রায় প্রতিদিন হামলা করছে ইরান। তা সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করে তিনি এই প্রস্তাব দেন।
বুধবার সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘যেহেতু এটি এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে, আমাদের কি হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তন করে ট্রাম্প প্রণালি (ট্রাম্প স্ট্রেইট) রাখা উচিত???’।