মর্যাদার তালিকায় স্যামুয়েল

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৫, ০১:২৩ এএম

মেজর হাফিজউদ্দিন, কাজী সালাউদ্দিন, আরিফ, মোয়াচুকু পল ম্যাকজেমস ও স্যামুয়েল বোয়েটাং। দেশের ঘরোয়া ফুটবলে এই পাঁচজন করেছেন ডাবল হ্যাটট্রিক। এতদিন তালিকায় ছিলেন প্রথম চারজন। শনিবার মুন্সীগঞ্জে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে ঢাকা ওয়ান্ডারার্সের বিপক্ষে ৬-১ গোলের জয় পেয়েছিল রহমতগঞ্জ। সবক’টি গোল করে সেই মর্যাদার তালিকায় নাম লিখিয়েছেন ঘানার স্ট্রাইকার স্যামুয়েল বোয়েটাং। ঘরোয়া ফুটবল তার কল্যাণে ১৭ বছর পর দেখল এমন কীর্তি।  

দেশ স্বাধীনের পর ঘরোয়া ফুটবলের শীর্ষ লিগে ডাবল হ্যাটট্রিকের ঘটনা খুব বেশি ঘটেনি। ১৯৭৩ সালে স্বাধীনতা-পরবর্তী প্রথম লিগে এই অনন্য কীর্তি গড়েছিলেন দেশের দুই কিংবদন্তি ফুটবলার। ফায়ার সার্ভিসের বিপক্ষে মোহামেডানের ৬-০ গোলের জয়ে সবক’টি গোল ছিল মেজর হাফিজ উদ্দিনের। এর কিছুদিন পর গোল সংখ্যায় হাফিজকেও ছাড়িয়ে যান আবাহনীর কাজী সালাউদ্দিন। দিলকুশার বিপক্ষে ১০-০ গোলের জয়ে এই কিংবদন্তি স্ট্রাইকারের ছিল সাত গোল।

এরপর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে ডাবল হ্যাটট্রিকের ঘটনা ঘটে ১৯৮৪ সালে। দিলকুশার বিপক্ষে ঢাকার মাঠে সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ড গড়েছিল ব্রাদার্স ইউনিয়ন। ১৫-০ গোলের সেই জয়ে ব্রাদার্সের ফরোয়ার্ড আরিফ ডাবল হ্যাটট্রিক করেন। এর প্রায় দুই যুগ পর ২০০৭ সালে দেশের ফুটবল প্রবেশ করে পেশাদারি দুনিয়ায়। প্রথম পেশাদার লিগে মোহামেডানের নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড মোয়াচুকু পল ম্যাকজেমস ডাবল হ্যাটট্রিক করেন। এরপর কেটেছে ১৭ বছর। খুব কাছে গিয়েও ডাবল হ্যাটট্রিকের অনন্য কীর্তি গড়তে পারেননি অনেকেই। সেই অপেক্ষার ইতি টানলেন স্যামুয়েল বোয়েটাং। রহমতগঞ্জের এই ঘানাইয়ান স্ট্রাইকার শনিবার ডাবল হ্যাটট্রিক করেন। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের প্রথমপর্বে নিজেদের ষষ্ঠ ম্যাচে রহমতগঞ্জ ঢাকা ওয়ান্ডারার্সকে হারিয়েছে ৬-১ ব্যবধানে। পুরনো ঢাকার দলটির সবক’টি গোলের মালিক বোয়েটাং।

এই মৌসুমে রহমতগঞ্জকে দেখা যাচ্ছে অন্য রূপে। দলটি টানা তিন ম্যাচে করেছে ছয়টি করে গোল। ২৪ ডিসেম্বর ফেডারেশন কাপের ম্যাচে তারা ফকিরেরপুলকে উড়িয়ে দেয় ৬-০ গোলে। সেই ম্যাচে স্যামুয়েল বোয়েটাংয়ের গোল ছিল একটি। এর চারদিন পর লিগের ম্যাচে সেই ফকিরেরপুলকেই রহমতগঞ্জ হারায় ৬-১ ব্যবধানে। জোড়া গোল করে সেই ম্যাচে সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলেন এই ঘানাইয়ান। আর শনিবার দুর্বল ঢাকা ওয়ান্ডারার্সকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলায় মেতেছিলেন ২৭ বছরের ফরোয়ার্ড। ম্যাচের ২৩ মিনিটে প্রথম গোলের পর ৩৭ ও ৪৪ মিনিটে দুই গোলে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে বোয়েটাং করেন আরও তিন গোল। ডাবল হ্যাটট্রিকের একটিও তিনি টাইব্রেকার থেকে করেননি। ছয় ম্যাচ থেকে পাঁচ জয় ও এক হারে রহমতগঞ্জ ১৫ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ রাউন্ড শেষে আছেন পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে। তাদের চেয়ে মোটে তিন পয়েন্ট বেশি নিয়ে শীর্ষে আছে মোহামেডান।

স্বাধীনতা পরবর্তী দেশের ঘরোয়া ফুটবলে ডাবল হ্যাটট্রিকের খাতা খুলেছিলেন মেজর হাফিজ ১৯৭৩ সালের ১৬ জুলাই। সেটি ছিল যুদ্ধ-পরবর্তী প্রথম বিভাগ লিগের প্রথম আসর। যে ক্লাবে ১৯৬২ সালে ঢাকার ফুটবলে অভিষেক হয়েছিল, সেই ফায়ার সার্ভিসের বিপক্ষে এক এক করে ছয় গোল করেন হাফিজ। সেই রেকর্ড অবশ্য বেশিদিন একার থাকেনি তার। সে বছর ১ সেপ্টেম্বর দিলকুশার বিপক্ষে ফিরতি লিগে আবাহনী জিতেছিল ১০-০ ব্যবধানে। কিংবদন্তি স্ট্রাইকার কাজী সালাউদ্দিন সেই ম্যাচে একাই করেছিলেন সাত গোল। ঢাকার ফুটবলে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটা এখনো সালাউদ্দিনেরই দখলে।

১৯৮৪ সালে ১৫ সেপ্টেম্বর তারিখটি দেশের ঘরোয়া ফুটবলের ইতিহাসে জায়গা পেয়েছিল ব্রাদার্সের কল্যাণে। সেদিন দলটি দিলকুশাকে হারিয়েছিল ১৫-০ গোলের ব্যবধানে। এত বড় জয়ের ঘটনা আর ঘটেনি, এত গোলও দেখেনি আর কোনো ম্যাচ। সেই ম্যাচে ডাবল হ্যাটট্রিকের অনন্য কীর্তি গড়েন ব্রাদার্সের ফরোয়ার্ড আরিফ।       

২০০৭ সালে দেশের ফুটবল পা রেখেছিল পেশাদার জগতে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের শুরুর আসরে ডাবল হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়েন মোয়াচুকু পল ম্যাকজেমস। ১৩ এপ্রিল রহমতগঞ্জের বিপক্ষে ৭-১ গোলে জয় পেয়েছিল মোহামেডান। পল সেই ম্যাচে করেন ছয় গোল।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত