নিরীক্ষা কাজের সুবিধার্থে দেশের বেসরকারি খাতের ছয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। ব্যাংকগুলো হলো এক্সিম ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক। গতকাল রবিবার তাদের ছুটিতে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।
জানা গেছে, এডিবির অর্থায়নে ছয়টি ব্যাংকের ‘ফরেনসিক অডিট’ শুরু করছে বিদেশি অডিট ফার্ম। স্বচ্ছতার সঙ্গে অডিট সম্পন্ন করতে তারা চায় বর্তমান এমডিরা কেউ দায়িত্বে না থাকুক। যে কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠাতে মৌখিকভাবে বলা হয়েছে। তবে অডিটে কারও অনিয়ম পাওয়া না গেলে তারা আবারও নিজ পদে ফিরতে পারবেন।
গতকাল বিএবির ভাইস চেয়ারম্যান ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের বলেন, ছয়টি ব্যাংকে আন্তর্জাতিক অডিটর নিয়োগ করা হচ্ছে। তারা যাতে স্বাধীনভাবে অডিট কার্যপরিচালনা করতে পারে সে লক্ষ্যে অনিয়মের ঘটনার সময় যারা ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন তাদের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে আমরা এটি কার্যকর করেছি। অন্যদেরও অবিলম্বে সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে বলা হয়েছে। স্বচ্ছতার সঙ্গে অডিট সম্পন্ন করার জন্য এরকম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারও দায় প্রমাণিত না হলে তিনি আবার ফিরতে পারবেন।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংক গত বৃহস্পতিবার ছয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করে। সেখানে এসব ব্যাংকে অধিকতর তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে এস আলম-ঘনিষ্ঠ ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার আলোকে ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক শনিবার পরিচালনা পর্ষদের জরুরি বৈঠক করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রবিবার এস আলমের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হওয়া সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদের জরুরি সভা ডাকা হয়েছে। অন্য ব্যাংকগুলোর উচ্চপদে শিগগিরই পরিবর্তন আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে, শনিবার ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের এমডিকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়। তাকে আগামী তিন মাসের জন্য ছুটিতে পাঠানো হয়। এ সময়ে ভারপ্রাপ্ত এমডির দায়িত্ব পালন করবেন ব্যাংকটির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু রেজা মো. ইয়াহিয়া।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র হুসনে আরা শিখা সাংবাদিকদের বলেন, ছয় ব্যাংকের এমডি ছুটিতে থাকবেন, এটা ছয় ব্যাংকের পর্ষদের সিদ্ধান্ত। এটা এজন্য করা হয়েছে যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসব ব্যাংকে অ্যাসেট কোয়ালিটি রিভিউয়ের আওতায় আনবে। কারণ এসব ব্যাংকে অডিট পরিচালনা করার একটি পরিকল্পনা রয়েছে। তারা যাতে কোনোরকমের অযাচিত হস্তক্ষেপ করতে না পারেন, অর্থাৎ প্রক্রিয়াটিকে স্বচ্ছ রাখার জন্য তাদের সাময়িকভাবে ছুটিতে যেতে বলা হয়েছে। নিরীক্ষায় যদি তাদের (এমডি) কোনোরকমের অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত না থাকার প্রমাণ পাওয়া না যায়, তারা আবার চাকরিতে এসে যোগদান করতে পারবেন। যদি কোনো কিছু পাওয়া যায় তখন অন্যরকম চিন্তা করতে হবে। এটা আন্তর্জাতিক রীতি মেনে করা হয়েছে।