মর্যাদার লড়াইয়ে অ্যাশেজের পরেই স্থান দেওয়া হয় বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফিকে। যে দ্বৈরথে মুখোমুখি হয় ভারত ও অস্ট্রেলিয়া। ২০১৪-১৫ মৌসুমে সবশেষ এই শিরোপা জিতেছিল অজিরা। রবিবার ৬ উইকেটে সিডনি টেস্ট জিতে ১০ বছর পর আবার সেই শিরোপা উঁচিয়ে ধরতে পেরেছে দেশটি। ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের সঙ্গে প্যাট কামিন্সের দল জায়গা করে নিয়েছে আগামী ১১ জুন লর্ডসে হতে যাওয়া টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের মর্যাদার ফাইনালে। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গত দুই আসরের রানার্সআপ ভারতকে ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন জিইয়ে রাখতে সিডনি টেস্টে অন্তত ড্র করতে হতো। কিন্তু উল্টো তারা হেরে গেলেন তিন দিনেই। প্রথম ইনিংসে ১৮৫ রান তুলে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস ১৮১ রানে গুটিয়ে দিয়েছিল ভারত। অনেকে ভিন্ন কিছুর সম্ভাবনা দেখলেও ব্যাটসম্যানরাই ভারতকে আবার ডুবিয়েছে। শনিবার ৬ উইকেটে ১৪১ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছিল ভারত। গতকাল তারা আর মাত্র ১৬ রান যোগ করতেই গুটিয়ে যায়। বল হাতে বিধ্বংসী স্কট বোল্যান্ড নিয়েছেন ৪৫ রানে ৬ উইকেট। অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ধরেছেন ৩ শিকার।
বাংলাদেশ সিরিজ অনায়াস জয় দিয়ে শুরু। এরপর থেকেই মুদ্রার উল্টোপিঠ দেখতে হয় পরের সিরিজে। ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের কাছে হতে হয় হোয়াইটওয়াশ। সবশেষ চলতি সিরিজ হারের পর ফলাফল ছাপিয়ে ভারতীয় ব্যাটারদের বাজে পারফরম্যান্স উঠে এসেছে আলোচনায়। এই পরিস্থিতিতে আরও একবার ঘরোয়া ক্রিকেটের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন ভারতের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর, ‘আমি সবসময় চাই সবাই ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলুক। ঘরোয়া ক্রিকেটকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।’
১৬২ রানের মামুলি টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নামা অস্ট্রেলিয়াকে ৩৯ রানের উদ্বোধনী জুটি উপহার দেন স্যাম কনস্টাস ও উসমান খাজা। দুজনেই ব্যাট করেছেন ওয়ানডে মেজাজে। পিঠের পেশিতে চোট পাওয়া ভারত অধিনায়ক জাসপ্রিত বুমরা বোলিং করতে নামেননি। তারপরও প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা তুলে নেন তিন উইকেট। ১৭ বলে ২২ রান করে থামেন স্যাম। দ্রুতই মারনাস লাবুশেন এবং স্টিভেন স্মিথের উইকেট হারায় অজিরা। টেস্টে ১০ হাজার রানধারীদের মর্যাদাপূর্ণ ক্লাবে প্রবেশে প্রয়োজন ছিল মাত্র ১ রান। তবে তার আগেই থামতে হয় স্মিথকে। এরপর ফিরে যান ৪৫ বলে ৪১ রান করা খাজাও। তবে পঞ্চম উইকেটে বেউ ওয়েবস্টার এবং ট্রাভিস হেড ৫৩ বলে ৫৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়াকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। হেড ৩৮ বলে ৩৪ এবং অভিষিক্ত ওয়েবস্টার ৩৪ বলে ৩৯ রানে অপরাজিত থাকেন। অভিষেক টেস্ট খেলতে নেমে জয়সূচক বাউন্ডারিটি আসে ওয়েবস্টারের উইলো থেকে।
১০ বছর পর বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি জিততে পারায় ভীষণ আনন্দিত অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক প্যাট কামিন্স জানিয়েছেন ঘুরে দাঁড়ানোর রহস্য, ‘আমাদের কাজ করার পদ্ধতি, পরিকল্পনা এবং সেটা কাজে লাগানোÑ সব কিছুই ঠিকঠাক হয়েছে। কয়েক জন ক্রিকেটারের ব্যক্তিগত উন্নতির দরকার ছিল। বিপক্ষের ব্যাটিং অর্ডার দেখে বোলিং পরিবর্তন করেছি। বিশ্বাস রেখেছি আমরাই সেরা দল। সেটা কাজে লেগেছে।’ দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০ উইকেট শিকার করে ম্যাচসেরা হয়েছেন স্কট বোল্যান্ড। তবে সিরিজসেরা হয়েছেন ভারতীয় পেসার জাসপ্রিত বুমরা। তার ঝুলিতে রয়েছে ৩২ উইকেট।