জুলাইয়ে আহতদের ১০০ জন পাচ্ছেন পুলিশে চাকরি

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:০৮ এএম

রাজধানী মালিবাগের পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) ও অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এ সময় রিজার্ভ চুরির ঘটনায় দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহতদের মধ্য থেকে কিছুসংখ্যককে পুলিশের চাকরি দেওয়া ও আগ্রহের ভিত্তিতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে মোট এক হাজারজনকে নিয়োগ দেওয়ার কথা জানান তিনি। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কার্যালয়গুলো পরিদর্শনে যান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। এ সময় তার সঙ্গে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম ছাড়াও এসবি ও সিআইডি প্রধানসহ ঊর্ধ্বতনরা উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, বিগত সরকারের আমলে সব থেকে বড় সমস্যা ছিল অর্থ পাচার (মানি লন্ডারিং)। এটা নিয়ে আমি সিআইডি প্রধানকে সব থেকে বেশি নির্দেশনা দিয়েছি। বলেছি দ্রুত বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রিজার্ভ চুরির ঘটনার প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আসলে তদন্তের নামে সময়ক্ষেপণ করে লাভ নেই। আমি একটা প্রতিবেদন চাই যে, কারা কারা মানি লন্ডারিংয়ের সঙ্গে জড়িত। সেটা আমি সিআইডিকে বলেছি। যদি তদন্তের নামে দুই-তিন বছর চলে যায়, তাহলে তো এটার কোনো কার্যকারিতা থাকে না। তিনি বলেন, সিআইডিতে আজকে (গতকাল) আমার একটা নরমাল ভিজিট ছিল। আমার সঙ্গে আইজিপি ছিলেন। আমরা অনেক বিষয়ে কথা বলেছি। আপনারা জানেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় অনেকে নিহত ও আহত হয়েছেন। যারা আহত হয়েছেন তাদের কর্মসংস্থানের একটা ব্যবস্থা কীভাবে করা যায় সে বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি। পুলিশের পক্ষ থেকে আমরা এ বিষয়ে একটা প্রস্তার পাঠিয়েছি। যারা আহত হয়েছে তাদের পুলিশে চাকরি দেওয়ার বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সবাইকে তো আর নেওয়া যাবে না, তবে একেকজন একেকভাবে আহত হয়েছেন। আপাতত আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আহতদের মধ্যে কিছুজনকে আমরা পুলিশ বাহিনীতে নেব। আমরা দ্রুত এ বিষয়ে কার্যক্রম শুরু করব। আমরা আপাতত ১০০ জন আহতকে দিয়ে শুরু করতে যাচ্ছি। পরে এ সংখ্যাটা আরও বাড়াব। আমরা আপাতত পুলিশে শুরু করছি, পরে আমার মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা সব বিভাগেই এটা করে দেব।

উপদেষ্টা বলেন, ট্রাফিকের একটা সমস্যা রয়ে গেছে। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে আমরা এক হাজার ছাত্রকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছিলাম। ইতিমধ্যেই ৪০০ জন শিক্ষার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমরা আরও একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছিলাম যে, বিভিন্ন বাহিনীতে যারা অবসরে গিয়েছেন তাদের নিয়োগ দিয়ে ট্রাফিক শৃঙ্খলায় নিয়োজিত করা। তবে অবসরপ্রাপ্তরা এই বিষয়ে খুব কম আগ্রহ দেখিয়েছেন। আমি ভেবেছিলাম তারা অনেকে আসতে চাইবে কিন্তু ওইরকম সংখ্যা আমরা পাইনি। আপাতত ৫০-৬০ জনের মতো পেয়েছি। তবে আমরা চেয়েছিলাম অন্তত ৫০০ জন দিয়ে শুরু করি।

শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার সঙ্গে ট্রাফিকিংয়ের বিষয়টা কেমন হবে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, তারা যেন পড়াশোনা ঠিক রাখতে পারে সেজন্য তাদের আমরা সময়টা কম দিয়েছি। তারা যেন পড়াশোনাও করতে পারে ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণেও কাজ করতে পারে সেই ব্যবস্থা করেছি। তাদের একটা সম্মানীও দেওয়া হচ্ছে। তারা রাস্তায় দুই-তিন ঘণ্টা কাজ করবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব পালনের পাঁচ মাস হয়েছে, এখন পর্যন্ত কী ধরনের উন্নতি আপনারা করেছেন, জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আপনারা মিলিয়ে দেখেন, আগের চেয়ে উন্নতি হয়েছে কি না। পুলিশ তাদের কাজ শুরু করেছে। পুলিশ এখন একটু সময় নিয়ে কাজ করছে। রাস্তাঘাট চিনতে সময় লাগছে তাদের। গাড়ি নিয়েও সমস্যা হচ্ছে। আমরা এটাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।

৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারে পতনের পর অনেকে পালিয়ে গেছেন। এ বিষয়ে আপনারা কী ব্যবস্থা নিয়েছেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ৫-৬ আগস্ট কোনো সরকারই ছিল না। তখন অনেকে পালিয়ে গেছেন। সীমান্ত পাড়ি দিয়ে প্রতিবেশী দেশে চলে গেছেন অনেকে। তখন তো আমরা ছিলাম না। তবে আমরা সরকারে আসার পর কেউ পালিয়ে গেছে কি না, সেটা বলেন। এরপরও যদি কেউ গিয়ে থাকেন, আমরা বিষয়টি দেখব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত