ওয়্যারহাউজ ‘সংকটে’ হুমকিতে বাণিজ্য খাত

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৫, ০২:৫৯ এএম

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ওয়্যারহাউজ সংকটের কারণে বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে জাতীয় অর্থনীতির অগ্রগতি। আমদানি-রপ্তানি খাতের শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, দ্রত সময়ের মধ্যে এ সংকটের সমাধান করা না হলে দেশে অর্থনীতিতে যে সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে, সে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।

আমদানি-রপ্তানি খাতের হৃৎপিন্ড খ্যাত বাণিজ্য সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল এয়ার এক্সপ্রেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, আইএইএবির নেতাদের দাবি, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অনিয়ম, দুর্নীতি, ব্যক্তিগত স্বার্থ বিবেচনায় বারবার নীতি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন ও অব্যবস্থাপনার কারণে এ সংকট তৈরি হচ্ছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্গো ওয়্যারহাউজের সুরক্ষা চাইছেন ইন্টারন্যাশনাল এয়ার এক্সপ্রেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সদস্যরা। কার্গো ওয়্যারহাউজ সংকটের কথা স্বীকার করে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বলছে থার্ড টার্মিনালে পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়া যাবে কার্গো ওয়্যারহাউজের জন্য।

সূত্র বলছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্গো ওয়্যারহাউজ সংকট বহুদিনের পুরনো। এ সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ইন্টারন্যাশনাল এয়ার এক্সপ্রেস অ্যাসোসিয়েশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো এলাকায় আইএইএবি নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ব্যবহৃত ভবনের বাইরে তিনটি জায়গা ওয়্যারহাউজ হিসেবে ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ দেয়। যার মধ্যে ভবনের বাইরে ১১ হাজার বর্গফুট, ভবনের ভেতরে ১২ হাজার ৪৫৫ বর্গফুট এবং সংলগ্ন পশ্চিম পাশে খোলা ৯ হাজার ১৫০ বর্গফুট জায়গা রয়েছে। শর্ত অনুযায়ী বরাদ্দকৃত ওয়্যারহাউজের স্থানে আইএইএবি নিজ খরচে স্থাপনা নির্মাণ, পণ্য সংরক্ষণের খাঁচা প্রতিস্থাপন, বিদ্যুৎ, পানির সংযোগসহ প্রয়োজনীয় মেরামতের কাজ করে। এখন শর্ত অনুযায়ী চুক্তি নবায়ন না করে বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত সুবিধা বিবেচনায় একই স্থাপনা ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে ইন্টারন্যাশনাল এয়ার এক্সপ্রেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কবির আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, মেইলিং অপারেটর ও কুরিয়ার সার্ভিস আইন-এর ২৭ ধারার ৪ উপধারা অনুযায়ী গঠিত এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিটিও শাখা এবং যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরে নিবন্ধনকৃত। দেশের বাণিজ্য ব্যবস্থায় অগ্রগতির জন্য নিরাপদ ওয়্যারহাউজ অত্যন্ত জরুরি। ইতিমধ্যে এ সংগঠনের পক্ষ থেকে ওয়্যারহাউজ চুক্তি নবায়নের জন্য বেবিচক বরাবর আবেদন করা হয়েছে। বেবিচক যদি আইএইএবির সঙ্গে চুক্তি নবায়ন না করে আলাদাভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বরাদ্দ দেয়, তাহলে ওয়্যারহাউজ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বিঘ্ন হবে।

তিনি বলেন, জরুরি নথি, পণ্য আমদানি ও রপ্তানির জন্য স্যাম্পল বা নমুনা পণ্য, জরুরি ওষুধ, উপহারসামগ্রীসহ ৩০ কেজির নিচে বিভিন্ন পণ্য সুরক্ষিতভাবে গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর জন্য পরিবহন করা হয় এয়ার এক্সপ্রেস সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। কার্গো ওয়্যারহাউজ ব্যবস্থাপনা ত্রুটির কারণে গ্রাহকের এসব গুরুত্বপূর্ণ নথি ও পণ্য হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলে এর দায় এসে পড়ে সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে কাঁধে।

এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক, এটিএম, মাহমুদ আখতার হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, পর্যাপ্ত জায়গায় অভাবে পণ্য সংরক্ষণে সমস্যা হচ্ছে। সেজন্য ‘থার্ড টার্মিনালের আগমন ও বহির্গমনের জন্য আলাদা কার্গো ওয়্যারহাউজ তৈরি করা হয়েছে। সেখানে পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা মানদ-ে ইউরোপিয়ান শর্তগুলো মেনে চলা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি কার্গো বিমান যায় ইউরোপে। কয়েক বছর আগেও যুক্তরাজ্যে সরাসরি পণ্য রপ্তানি করা যেত না। পাশাপাশি কুরিয়ার এজেন্সিসহ ৫৫ থেকে ৫৬টি প্রতিষ্ঠানের নামে ওয়্যারহাউজ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কোনো একক প্রতিষ্ঠানকে ওয়্যারহাউজ বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে হাউজ বরাদ্দের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ ও ৮ থেকে ৯ গুণ বেশি ভাড়া আদায় করার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে এই কর্মকর্তা দাবি করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত