হবিগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম মাওলার বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত তদন্ত চলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা) অমিত চক্রবর্তীর অফিস কক্ষে।
গত ৩০ অক্টোবর দেশ রূপান্তরে "পান থেকে চুন খসলেই ঘুস" শিরোনামে একটি দীর্ঘ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম মাওলা বদলি, পদায়ন ও বিভিন্ন তদন্তের নামে শিক্ষকদের নিকট থেকে ঘুষ গ্রহণ, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, যোগদানের পর থেকে অফিসের রেস্টহাউজকে বাসা হিসেবে ব্যবহার, শিক্ষক নিয়োগ কাজে সহায়তার নামে ডেপুটেশনে আজমিরীগঞ্জ থেকে হবিগঞ্জ অফিসে এনে শিক্ষিকার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার গুঞ্জনসহ নানা দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
সংবাদ প্রকাশের পরদিন ৩১ অক্টোবর ভুক্তভোগী শিক্ষকদের পক্ষে মাসুম মিয়া নামে এক সহকারী শিক্ষক দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদনের কপিসহ শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম মাওলার বিরুদ্ধে অন্যান্য অভিযোগ তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় তদন্তকারী কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অমিত চক্রবর্তীর নোটিশের প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম মাওলা, অভিযোগকারী মাসুম মিয়া, ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক সব্যসাচি রায়, চয়ন চৌধুরী, সুজিত চৌধুরীসহ আরো কয়েকজন শিক্ষক উপস্থিত হন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক জানান, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তে উপস্থিত না হওয়ার জন্য আগের দিন তার অফিসের কর্মচারী নজরুল ইসলামকে দিয়ে কমপক্ষে ১০ বার মোবাইলে ফোন দেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অমিত চক্রবর্তী অভিযুক্ত শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম মাওলার উপস্থিতিতে তদন্ত করা হয় স্বীকার করে বলেন, তদন্তের নিয়ম হচ্ছে অভিযোগকারী ও অভিযুক্তকে সামনে রেখেই একে অপরের কথা শোনা। তদন্তের পর অধিকতর তদন্ত হবে। কবে নাগাদ তদন্ত রিপোর্ট জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া হবে তা নির্দিষ্ট করে বলা যাবে না।
