দূরত্ব ২৫০ কিলোমিটার হলেও বিপিএলে হারের তালে ঢাকা ও সিলেটের ভাগ্য রেললাইনের মতোই সমান্তরাল। কিং খান শাকিব খানের মালিকানায় আসার পর দুর্দান্ত থেকে ক্যাপিটালসে রূপান্তরিত হলেও ঢাকা ফ্র্যাঞ্চাইজির ভাগ্য বদলায়নি। টানা হারে কালও পয়েন্টের দেখা পায়নি লিটন-মোস্তাফিজদের ঢাকা। কাল এ দুই হারতে থাকা দলের দ্বৈরথে নিজেদের মাঠে হারের বৃত্ত ভেঙেছে সিলেট স্ট্রাইকার্স। লিটন-মুনিমের রানে ফেরার দিনে ৩ উইকেটে ঢাকাকে হারিয়ে দিয়েছে সিলেট।
সাদা বলে লিটন দাসের ফর্ম ছিল রীতিমতো দুঃস্বপ্নের মতো। বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজে ছয় ইনিংসের ভেতর জোড়াশূন্য, সর্বোচ্চ ইনিংস ১৪ রানের! এরপর শুরু হলো বিপিএল, ৩১ রানের ইনিংস দিয়ে শুরুর পর ০, ২ ও ৯। ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে লিটন করেছেন এবারের বিপিএলে তার প্রথম ফিফটি। ৪৩ বলে ৭৩ রানের ইনিংস। ১০ চার, ১ ছক্কা। টি-টোয়েন্টিতে ৯ ম্যাচ পর পান ফিফটির দেখা। সবশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৪৯ বলে ৫৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন লিটন। মাঝের এই ৯ ম্যাচে ৩০-এর বেশি রান করেছেন মাত্র দুবার। লিটনের মতোই বহুদিন পর বিস্মৃতির অতল থেকে নিজেকে জানান দেন মুনিম শাহরিয়ার। অল্প কিছু ম্যাচে জাতীয় দলের হয়ে একসঙ্গে নেমেছিলেন দুজনে। জাতীয় দলে মুনিমের ক্যারিয়ারটা ডানা মেলেনি। গত বিপিএলে করেছিলেন মোটে ২৮ রান, সেটাও চার ম্যাচে। এবার প্রথম সুযোগেই ফিফটি। ৪৭ বলে ৫২ রানের ইনিংস লিটনের সঙ্গে এনেছে দেয় মৌসুমে ঢাকার সর্বোচ্চ ১২৯ রানের জুটি। সঙ্গে সাব্বির রহমানের ২৩ আর থিসারা পেরেরার ১৮ রানে ঢাকা পৌঁছে যায় ২০ ওভার শেষে ৬ উইকেটে ১৯৩ রানে। ২৭ রানে ৩ উইকেট রাকিম কর্নওয়েলের।
১৯৪ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে প্রথম বলেই কর্নওয়েল আউট। পরের ওভারের শেষ বলে আউট জর্জ মানসি। হোঁচট খাওয়া সিলেটকে অনেকদূর টানেন জাকির হাসান। করেন ২৭ বলে ৭ চার, ৩ ছক্কায় ৫৮। পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে তিনি আউট হন। এরপর রনি তালুকদারের ২০ বলে ৩০, জাকের আলীর ১৭ বলে ২৪ রানে ছোট ইনিংস দুটি হাল ধরে রাখে। আর ১৫ বলে ২৮ রানের ইনিংসে শেষ তুলি ছোঁয়ান অধিনায়ক আরিফুল হক। আগের ম্যাচে সাব্বিরের পর এ ম্যাচে লিটন জ¦ললেও ম্যাড়মেড়ে বোলিং লাইনআপই ম্যাচ হারিয়েছে ঢাকাকে।
