ফেডারেশন কাপ থেকে আগেভাগেই বেজে গেছে বিদায় ঘণ্টা। তিন ম্যাচের দুটিতে হেরে তারা এখন দর্শক। তবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে মোহামেডানকে থামানোই যাচ্ছে না। শুক্রবার মুন্সীগঞ্জে মোহামেডানকে ছোঁয়ার সুযোগটা হাতছাড়া করেছে রহমতগঞ্জ। উল্টো স্বাগতিকদের ৩-১ গোলে হারিয়ে শীর্ষস্থানে ভালোভাবে গেড়ে বসেছে আলফাজ আহমেদের শিষ্যরা। পাশাপাশি ফেডারেশন কাপে হারের পুরনো হিসাবটাও চুকিয়েছে সাদা-কালোরা।
এই ম্যাচ খেলার আগে মোহামেডান ও রহমতগঞ্জের সঙ্গে ব্যবধান ছিল তিন পয়েন্টের। রহমতগঞ্জ জিতলে দুদলের পয়েন্ট সমান হতো। সেটা হতে দেননি মোহামেডানের ফিনিশাররা। লিগের সাত ম্যাচে সাত জয়ে এখন মোহামেডানের সংগ্রহ ২১ পয়েন্ট। রহমতগঞ্জ সাত ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। আজ তাদের পেছনে ফেলার সুযোগ আছে ঢাকা আবাহনীর। ময়মনসিংহে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে দলটি মুখোমুখি হবে এখনো পয়েন্টের দেখা না পাওয়া চট্টগ্রাম আবাহনীর।
ঠিক তিন দিন আগে ঢাকা আবাহনীর কাছে হেরে ফেডারেশন কাপ থেকে বিদায়ের তেতো স্বাদ নিতে হয় গতবারের রানার্স-আপ মোহামেডানকে। সেই হতাশা ভোলার আগেই কামাল বাবুর বদলে যাওয়া রহমতগঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় তাদের। তাই একটা আশঙ্কা তো ছিলই। মাঠ বদল হওয়ায় শঙ্কাটা বেড়েছিল আরও একটু। প্রথমার্ধের প্রায় পুরোটা সময় আক্রমণে এগিয়ে থেকে গোল করতে না পারায় ভাবনাটা আরও বেড়েছিল। তবে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে স্বস্তি এনে দেন রাজু আহমেদ জিসান। সতীর্থ মেহেদী হাসান মিঠুর ক্রসে দৌড়ে এসে রহমতগঞ্জ কিপারের মাথার ওপর জোরালো শটে গোল করেন জিসান। এর কিছু পরেই ম্যাচে ফেরার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে রহমতগঞ্জ। বক্সের ভেতর স্যামুয়েল বোয়েটাংকে ফেলে দিয়েছিলেন মোহামেডানের মিডফিল্ডার মোজাফফরভ। রেফারি সঙ্গে সঙ্গে বাজান পেনাল্টির বাঁশি। তবে তা থেকে মোহামেডান কিপার সুজন হোসেনকে পরাস্ত করতে পারেননি অভিজ্ঞ নাবিব নেওয়াজ জীবন। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে স্পট থেকে তার শট রুখে দেন সুজন।
বিরতি থেকে ফিরে দুদলই খেলেছে আক্রমণাত্মক ফুটবল। তবে মোহামেডানই ছিল এগিয়ে। যদিও এই অর্ধে শুরুতে গোল করতে পারত রহমতগঞ্জই। ৪৮ মিনিটে মোহাম্মদ সাইদের জোরালো শট পোস্টের অল্প দূর দিয়ে যাওয়ায় সে যাত্রায় রক্ষা পায় মোহামেডান। আক্রমণের ধারা অব্যাহত রেখে মোহামেডান ব্যবধান দ্বিগুণ করে ৬৪ মিনিটে। ডান দিক থেকে আরিফের ক্রসে সুলেমান দিয়াবাতে গোলের আনুষ্ঠানিকতা সারেন। চার মিনিট পর গোল করে মোহামেডানের জয়ে অনেকটা নিশ্চিত করেন ইমানুয়েল সানডে। ৮৬ মিনিটে রহমতগঞ্জের হয়ে আগের ম্যাচে ডাবল হ্যাটট্রিক করা স্যামুয়েল বোয়েটাং বাঁ পায়ের জোরালো শটে নিশানাভেদ করলেও লাভ হয়নি। নিজের গোলসংখ্যা ১১-তে নিয়ে গেছেন এই ঘানাইয়ান। তবে দলের হারটা এড়াতে পারেননি। ফলে শিরোপা লড়াইয়ে কিছুটা পিছিয়ে যেতে হলো রহমতগঞ্জকে।
চলতি লিগে রহমতগঞ্জের এটা দ্বিতীয় হার। প্রথমটি তারা হেরেছিল বসুন্ধরা কিংসের কাছে। বাকি পাঁচ ম্যাচে অবশ্য জিতে এখনো আছে ভালো অবস্থানে। তবে লিগের শেষ পর্যায়েই বোঝা যাবে কতটা এগুতে পারে পুরান ঢাকার দলটি। অন্যদিকে এই জয়ে নিঃসন্দেহে আবাহনীর কাছে হারের ধাক্কা অনেকটা সামলে উঠতে পারবে মোহামেডান। লিগের প্রথম পর্বে তাদের আর দুটি ম্যাচ বাকি। শতভাগ জয় নিশ্চিতে তাদের সেই দুই ম্যাচে হারাতে হবে ব্রাদার্স ইউনিয়ন ও ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্স ক্লাবকে। আলফাজ আহমেদের দল লিগে যে ব্র্যান্ডের ফুটবল খেলছে, তাতে একটা বড় স্বস্তি নিয়ে প্রথম পর্ব শেষ করতে পারে মোহামেডান।
দেশের ফুটবল পেশাদার লিগে পা রাখার পর কখনই লিগ শিরোপা জেতেনি মোহামেডান। বড় রকমের অঘটন যদি না ঘটে সেই অপেক্ষা ঘুচতে পারে এবার।
