মহান আল্লাহর লভপণ ক্ষমাপ্রার্থনা করাকে ইসতেগফার বলে। মুমিনের জীবনে ইসতেগফারের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ মানুষ শয়তানের প্ররোচনায় ছোট-বড় কমবেশি গুনাহ করেই থাকে। তাই পরিশুদ্ধ ও গুনাহমুক্ত জীবনযাপনে ইসতেগফারের বিকল্প নেই। কোনো পাপকাজে লিপ্ত হলে তৎক্ষণাৎ মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা আবশ্যক। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি বলেছি তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, তিনি তো ক্ষমাশীল। (সুরা নুহ ১০) মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলিইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন নিষ্পাপ। তবুও তিনি রোজ সত্তর বা একশবার ইসতেগফার করতেন। (রিয়াজুস সলেহিন ১৮৭৯) তিনি মূলত উম্মতদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য বেশি বেশি ইসতেগফার করতেন। ইসতেগফারের উপকারিতা সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো।
আল্লাহর ক্ষমাপ্রাপ্তি : বান্দা যত বড় গুনাহই করুক না কেন, যদি অনুতপ্ত হয়ে মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করে তাহলে তিনি গুনাহগার বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ হলেন পরম ক্ষমাশীল। তিনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। তাই ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় কোনো গুনাহ হয়ে গেলে আমরা অনুতপ্ত হয়ে মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করব এবং পুনরায় গুনাহের কাজে না জড়াতে দৃঢ়তা অবলম্বন করব। তাহলে মহান আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করে দেবেন।
মুষলধারে বৃষ্টি : গুনাহের কারণে দুর্ভিক্ষ আসে। কৃত পাপের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে আল্লাহ তো মাফ করবেনই, এর সঙ্গে আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। ফলে ফসল উৎপাদন ভালো হবে। কেননা বৃষ্টির কারণে জমিন সতেজ ও সজীব হয়ে ওঠে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তিনি তোমাদের ওপর আকাশ থেকে মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন।’
(সুরা নুহ ১১)
সম্পদ ও সন্তান বৃদ্ধি : নিজের কৃত পাপ থেকে ফিরে এসে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে আল্লাহ রিজিক বৃদ্ধি করবেন। বন্ধ্যা নারীদের সন্তান দান করবেন। ধন-সম্পদেও বরকত দেবেন। এ প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে, ‘তিনি তোমাদের সমৃদ্ধ করবেন ধন-সম্পদ ও সন্তানসন্ততিতে।’ (সুরা নুহ ১২)
সবুজাভ উদ্যান ও প্রবাহিত নদীনালা : বৃষ্টির কারণে জমিন উর্বর হলে গাছপালা সবুজ হবে। ফল বেশি হবে। খরার কারণে মৃতপ্রায় নদীনালা পানিতে টইটম্বুর হবে। তাই বেশি বেশি ইসতেগফার করতে হবে। মহান আল্লাহ আমাদের বেশি বেশি ইসতেগফার করার তওফিক দান করুন। আমিন।
