নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক হিসাবে যোগদানের দুইদিনের মাথায় নারায়ণগঞ্জের মানুষের নজর কাড়লেন মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। দাঁড়িয়েছেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এক কলেজ ছাত্রের পাশে ।
মুন্সিগঞ্জ জেলার গজাড়িয়া থানার চর ভাউশিয়া গ্রামের কৃষক দিল মুহাম্মাদ তার এক বছরের শিশু সন্তান সোহাগকে রেখে মারা যান। পরে এতিম সোহাগের আশ্রয় হয় নারায়ণগঞ্জে সরকার পরিচালিত এতিমখানা শিশু পরিবারে। সেখানে পড়ালেখা শেষ করে ভর্তি হয় সালে ভর্তি হন মুসলিম নগর কে এম হাই স্কুলে। কিন্তু অষ্টম শ্রেণীতে থাকাকালীন দুরাগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয় সোহাগ। চোখের রেটিনা আস্তে আস্তে শুকাতে থাকে। দৃষ্টি শক্তি বিলোপ হওয়ার পথে। দিনে সে মাত্র ২৫% দৃষ্টি শক্তি পায়। কিন্তু সন্ধ্যা হলেই পুরপুরি দৃষ্টিহীন হয়ে যায়।
অনেক কষ্টে ২০১৯ সালে এসএসসি পাশ করে ভর্তি হয় সরকারী কদম রুসুল কলেজে। ২০২১ সালে এইসএসসি পাশ করে রাজধানীর মিরপুর সরকারী বাংলা কলেজে সমাজ কর্ম বিভাগে অনার্সে ভর্তি হয়।একদিনে চরম দ্রারিদ্রতা অন্যদিকে ক্রমশ দৃষ্টি শক্তি বিলোপ হওয়া তার স্বপ্ন পূরণে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
অনেক আশা নিয়ে প্রথমে ২০২৩ সালে এবং পরে ২০২৪ সালে তৎকালীন নারায়ানগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করে একটি স্মার্ট ফোনের জন্য। কিন্তু দিন যায়,মাস যায়। শুধু আশ্বাসই মিলে। কিন্তু কর্মকর্তারা আর দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সোহাগের জন্য সামান্য একটি ফোন দিয়েও সাহায্য করতে পারেন না।
একপর্যায়ে অনেক দিন ঘোরাঘুরির পরে নারায়ণগঞ্জ জেলার তৎকালীন ডিসি মোহাম্মদ মাহমুদুল হকের সাথে সাক্ষাতের সুযোগ মেলে সোহাগের। সোহাগের শিক্ষক মিরপুর সরকারী বাংলা কলেজের অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম ডিসি মাহমুদুল হকের পূর্ব পরিচিত হওয়ায় তিনিও ডিসিকে অনুরোধ করেন সোহাগের পাশে দাঁড়ানোর। অনেক আশাবাদী হয়ে পড়েন সোহাগ। কিন্তু এবারো হতাশ হতে হয় তাকে।
আজ ডিসি জাহিদুলকে ফোন করে বিস্তারিত জানালে তাকে তৎক্ষণাৎ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আসার অনুরোধ করেন স্বয়ং ডিসি। জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা মো. সোহাইলকেও আসার নির্দেশ দেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলার স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে নির্ধারিত মতবিনিময় সভা শেষ করেই সোহাগের হাতে তুলে দেন তার স্বপ্নের স্মার্ট ফোন। ফোনটি হাতে পেয়ে আবেগ আপ্লূত হয়ে পড়েন এই কলেজ ছাত্র।
প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে যুবক বলেন, আমি ভাবিনি নতুন ডিসি স্যার গতকাল যোগদান করে আজই আমাকে একটা ফোন কিনে দিবেন।
এক প্রশ্নের জবাবে সোহাগ আরও বলেন, আমি এখন আমার যে কোনো বই ফোন দিয়ে ছবি তুলে সেটাকে মোবাইল এপসের মাধ্যমে ভয়েস হিসাবে শুনতে পারবো। এতে আমার পড়ালেখা মুকস্থ করা অনেক সহজ হবে। এ ছাড়া আমার দৈনন্দিন কাজগুলো বিশেষ করে রাতে অনেক সহজ হবে।
জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা মো. সোহাইল এই বিষয়ে বলেন,নতুন ডিসি স্যার যোগাদান করেই নির্দেশ দিয়েছেন যেন প্রতিবন্ধী বিষয়ক কোনো কাজ এক দিনের জন্যও পেন্ডিং না থাকে।
প্রতিবন্ধীদের বিষয়ে দায়িত্বে সামান্য গাফলাতিও সহ্য করা হবে না বলে কঠোরভাবে স্মরণ করে দিয়েছেন ডিসি স্যার।
এই সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা), মো. মাশফাকুর রহমান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি), মো. আলমগীর হুসাইন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, মো. সাকিব-আল-রাব্বি, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), মো. জাহিদ হাসান সিদ্দিকী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) প্রমুখ।
গত ৯ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখার উপ-সচিব আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
সাবেক এমপি নদভীর বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
তিস্তা কমান্ড এলাকায় সেচ সরবরাহ শুরু
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে পুতুলের অপসারণ চেয়ে পিটিশন