বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ১১তম আসরকে বলা হচ্ছে ‘অন্যরকম’ কারণ এই ক্রিকেট আয়োজনের সঙ্গে জড়িত হয়েছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কয়েকটি মন্ত্রণালয়। বিপিএলকে ঘিরে আয়োজন করা হয়েছে তারুণ্যের উৎসব। মাঠের খেলাতেও খানিকটা চরিত্র বদলেছে বিপিএলের, ওভারপ্রতি গড়ে রান হচ্ছে ৯.০২ হারে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। এতসব ইতিবাচক পরিবর্তন সত্ত্বেও মৌলিক একটি বিষয় এখনো অপরিবর্তিত বিপিএলে, সেটা হচ্ছে পারিশ্রমিক বিতর্ক। একদম প্রথম আসর থেকেই খেলোয়াড়দের পাওনা বকেয়া থাকার বিষয়টি আঠার মতো লেগে আছে বিপিএলের গায়ে, যে দুর্গন্ধটা অন্য অনেক কিছু দিয়েও ঢাকা যাচ্ছে না। বুধবার চট্টগ্রামে অনুশীলন বয়কট করেছে দুর্বার রাজশাহী দলের ক্রিকেটাররা। ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত পাল দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, যে তারা বিষয়টি জেনেছেন এবং ক্রিকেটারদের এই সিদ্ধান্তের প্রতি তাদের পূর্ণ সম্মান আছে। পেশাদার ক্রিকেটারদের বৈশ্বিক সংগঠন বিপিএলকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ লিগের তালিকায় রেখেছে, দেবব্রতও একমত যে, বিপিএল এখনো পারিশ্রমিকের দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ।
চট্টগ্রাম পর্ব শুরু হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার। দুর্বার রাজশাহী শুক্রবার খেলবে সিলেট স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে। তার আগে বুধবারের নির্ধারিত অনুশীলন বয়কট করেছেন রাজশাহীর ক্রিকেটাররা। খেলোয়াড়রা ১০ দিনের দৈনিক ভাতা ও পারিশ্রমিকের প্রথম কিস্তির ২৫ শতাংশ অর্থ না পাওয়াতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে। যদিও কোনো খেলোয়াড়ই গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ করতে চাইছেন না। আসরের প্রথম দিকে রাজশাহীর অধিনায়ক এনামুল হক বিজয় সংবাদ সম্মেলনেই বলেছিলেন, ‘আমরা এখনো পাই নাই, কেউই পায় নাই। আমরা কোনো প্রশ্ন বা জটিলতা না তুলি, বিপিএলটা সবাই দেখে... পারিশ্রমিক হচ্ছে না বিপিএলে, এ রকম কোনো নিউজ না আসুক আমাদের।’ তবে দুই সপ্তাহ পরেই রাজশাহীর ক্রিকেটাররা বুঝে গেছেন, সব প্রতিশ্রুতি আসলে শুভঙ্করের ফাঁকি।
যদিও রাজশাহী দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে অন্য কথা! দলের মিডিয়া ম্যানেজারের বক্তব্য, বুধবার কোনো অনুশীলনই ছিল না, বিশ্রাম ছিল ক্রিকেটারদের। চেক বাউন্স হওয়ার ব্যাখ্যায় তার বক্তব্য, বাউন্ডারি লাইনের বাইরে বসে খেলা দেখার সময় সোহানের ছক্কায় বল লেগে রাজশাহীর দল মালিকের স্ত্রী আহত হওয়ার পর তার চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড চলে যেতে হয়েছে। তাই ব্যাংকের ফোন রিসিভ করতে না পারায় খেলোয়াড়দের দেওয়া চেক ব্যাংকে ক্যাশ হয়নি। ১০ দিনের দৈনিক ভাতা বকেয়া থাকা নিয়ে তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার কাছ থেকে জানা গেছে কোচ ইজাজ আহমেদ এবং বিদেশি কোচিং স্টাফদের ২৫ শতাংশ পারিশ্রমিক প্রদান করা হয়েছে।
বিপিএলে এই পারিশ্রমিক-সংক্রান্ত সমস্যা প্রসঙ্গে কোয়াব সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত পাল জানান, ‘ বিপিএল অবশ্যই একটি ঝুঁকিপূর্ণ লিগ। গত বছরের ১৪ জন বিদেশি খেলোয়াড়ের পারিশ্রমিক বকেয়া আছে। এই ব্যাপারটা ডব্লিউসিএ (ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন) থেকে আমাকে জানানোর পর আমি কাজ শুরু করি, ফারুক ভাইকে (বিসিবি সভাপতি) জানাই, উনি সিইও (বিসিবি সিইও নিজামউদ্দিন সুজন) কে জানান। ১০ জনের পারিশ্রমিক দেওয়া হয়েছে, বাকি চারজনেরটাও হয়ে যাবে। যেহেতু দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজি নেই, তাই একটু সমস্যা হচ্ছে (কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস ও দুর্দান্ত ঢাকা)। বিশেষ করে রিটেইনি যারা তাদের একটু সমস্যা হচ্ছে। এটা দ্রুতই ঠিক করে ফেলব আশা করছি।’ রাজশাহীর খেলোয়াড়দের অনুশীলন বয়কট প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘তাদের মতামতের প্রতি আমাদের পূর্ণ শ্রদ্ধা আছে। খেলোয়াড় যদি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে তাহলে তাদের শাস্তি হয়। ফ্র্যাঞ্চাইজি তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গ করলে কী হয়, বিসিবি কী করে সেটা দেখতে চাই।’
বিপিএলে পারিশ্রমিক বিতর্কের বিষয়টি বহু পুরাতন। সাবেক ইংল্যান্ড ক্রিকেটার ওয়াইজ শাহ একবার ড্রেসিং রুমের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন, পারিশ্রমিক না পেয়ে খেলতে নামতে চাননি! রংপুরের কাছে পাওনা বকেয়া থাকার কথা গ্লোবাল সুপার লিগে টসের সময় বলেছেন ইমরান তাহির। একে তো বিশে^র নানা প্রান্তে বাড়ছে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের সংখ্যা। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে বিপিএলের পারিশ্রমিক নিয়ে দুর্নাম। যে কারণে রাজ্যের যত ফেলনা ক্রিকেটাররাই এসে জুটছেন বিপিএলে। ফলে মান এবং আকর্ষণ দুইই কমছে, যা মাস্কট আর কনসার্ট দিয়ে উদ্ধার করা যাচ্ছে না।
