টাকা নিয়ে এমপিও দিতেন তারা

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২৫, ০৫:৩৪ এএম

মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার বা এমপিও করে দেওয়ার নামে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশির) ভবনের কর্মকর্তাদের সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয়। চক্রটি এমপিও টাকার বিনিময়ে নিয়ম ভেঙে শিক্ষকদের এমপিও সুবিধা দিয়ে আসছিল। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার বিনিময়েও অর্থ নেওয়ার অভিযোগ আছে চক্রটির বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি মাউশির ঊর্ধ্বতন পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অনিয়ম তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ২২ জানুয়ারির মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলেছে অধিদপ্তর।

গত ৮ জানুয়ারি মাউশি সহকারী পরিচালক (কলেজ-২) ফজলুল হক মনির স্বাক্ষরিত চিঠি সূত্রে জানা গেছে, মাউশি রাজশাহী কার্যালয়ের কলেজ শাখার পরিচালক ড. বিশ্বজিৎ ব্যানার্জি, সহকারী পরিচালক মো. আলমাছ উদ্দিন, সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট (সেসিপ) প্রকল্পের গবেষণা কর্মকর্তা মানিক চন্দ্র প্রামাণিক, সহকারী পরিদর্শক মো. আসমত আলী ও মো. রাশেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়মের তদন্ত করতে রাজশাহী কলেজ অধ্যক্ষকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করে দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ওই পাঁচ কর্মকর্তাসহযোগে বিধিবহির্ভূতভাবে এমপিওভুক্তির দুর্নীতির অভিযোগ এবং রাজশাহী অঞ্চলে সীমাহীন দুর্নীতির সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। তারা বেসরকারি কলেজে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নিয়োগপ্রাপ্ত ডিগ্রি স্তরের শিক্ষকদের নাম এমপিও তালিকায় পাঠানোর শর্তে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ব্যানবেইসে নাম নেই এমন তথ্যবিহীন শিক্ষকদেরও এমপিওভুক্তির অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ তদন্তপূর্বক সুস্পষ্ট মতামত দেওয়ার জন্য রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মু যুহুর আলীকে প্রধান করে এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক শহিদুল ইসলাম এবং সহকারী পরিচালক (কলেজ-১) শাখার সফিউল বশরকে সদস্য করে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটিকে পত্রপ্রাপ্তির ১০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন অধিদপ্তরে পাঠাতে বলা হয়েছে।

গত ৯ অক্টোবর শিক্ষা সচিব বরাবর একটি অভিযোগ জমা পড়ে।

সেখানে বলা হয়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মদদপুষ্ট হয়ে বিশাল অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিশাল দুর্নীতির মিশন নিয়ে প্রফেসর ড. বিশ্বজিৎ ব্যানার্জী মাউশি রাজশাহীর পরিচালক পদে বদলি হয়ে আসেন। তিনি অত্র কার্যালয়ে আসার পর অভিযুক্ত বাকি চার কর্মকর্তার সমন্বয়ে এমপিও দুর্নীতি করে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন।

মাউশি রাজশাহী কার্যালয়ের কলেজ শাখার পরিচালক প্রফেসর মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমি নভেম্বরের ১৭ তারিখ যোগদান করেছি। এর আগে যারা এখানে ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। আগামী ১৭ তারিখ তদন্ত করতে আসবেন বলে জেনেছি।’

তিনি বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ, সেটি আমার জানা নেই। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাদের অনেককেই বদলি করা হয়েছে। এখনো এখানে একজন কর্মরত আছেন।’

তদন্ত কমিটির প্রধান রাজশাহী কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মু যুহুর আলী বলেন, ‘মাউশির এমপিও ও আর্থিক দুর্নীতির বিষয়ে একটি তদন্তের চিঠি হাতে পেয়েছি। তাদের ওখানে এমপিওর বিনিময়ে টাকা আদায়ের একটি অভিযোগ আছে। আমরা এখনো কাজ শুরু করতে পারিনি। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি আমরা কাজ শুরু করব। মূলত কর্মদিবসের বাইরে থেকে ঢাকা থেকে দুজনকে এখানে আসতে হবে। তারা সময় দিতে পারছেন না। তাই এই তারিখ করা হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে এই প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত