সীমান্তে আর কোনো লাশ ঝুলে থাকলে কাঁটাতার অভিমুখে মার্চ: সারজিস

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২৫, ০২:৪৪ পিএম

সীমান্তে আর কোনো লাশ ঝুলে থাকলে কাঁটাতার অভিমুখে মার্চ করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায়  কুড়িগ্রাম স্বাধীনতার বিজয় স্তম্ভে ‘মার্চ ফর ফেলানী’র যাত্রা শুরু আগে এক সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।

কুড়িগ্রামের জেলা শহরের কলেজ মোড় থেকে শুরু হয়। লং মার্চ শেষ হবে কুড়িগ্রামের নাগশ্বরী উপজেলা রামখানা ইউনিযনের নাখারগন্জ গ্রামে ফেলানীর বাড়িতে।

সারজিস আলম বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের সীমান্তে আর কোনো লাশ দেখতে চাই না। আজকের পর থেকে আবার বাংলাদেশের কোনো নাগরিকের প্রতি যদি কেউ শকুনের দৃষ্টিতে তাকায়, তবে সেই দৃষ্টি উপড়ে ফেলার জন্য বাংলাদেশে ছাত্র জনতাই যথেষ্ট।’

‘মার্চ ফর ফেলানী’র পক্ষ থেকে ঘোষণা দিয়ে সারজিস বলেন, ‘আর যদি সীমান্তে আর কোনো লাশ ঝুলে থাকে, তাহলে ওই কাঁটাতার অভিমুখে মার্চ করা হবে। আর যদি কাঁটাতারকে উদ্দেশ্য করে সেই মার্চ হয়, তাহলে কাঁটাতার ভেদ করে যতদূর দৃষ্টি যায় ততদূর যাবে।’ 

সারজিস আলম বলেন, ‘কাঁটাতারে ফেলানীর লাশ ঝুলে থাকা একটি প্রতীকী চিত্র। বিগত ৫৩ বছর বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এভাবেই ভারতের কাছে ঝুলে ছিল। যদি কোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে সমতা, ন্যায্যতা ও আত্মসম্মানের সম্পর্ক থাকে, তবে এক রাষ্ট্র কোনো দিন আরেক রাষ্ট্রের নাগরিককে এভাবে সীমান্তে হত্যা করতে পারে না।’

সারজিস বলেন, ‘আমাদের একটি পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র গত ৫৩ বছরে একটি গোষ্ঠীকে ক্ষমতায় বসিয়ে যেভাবে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির সার্বভৌমত্বকে কুক্ষিগত করে রেখেছিল, ছাত্র জনতা দুই হাজার চব্বিশে তার মোক্ষম জবাব দিয়েছে।’

এসময় সারজিস আলম সীমান্তে সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার, সীমান্তে প্রাণঘাতি অস্ত্রের ব্যবহার নিষিদ্ধ ও কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের নাম ফেলানীর নামে নামকরণ করার দাবি জানান। 

লং মার্চে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ, সদস্য সচিব আরিফ সোহেল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দপ্তর সম্পাদক জাহিদ আহসান, সমন্বয়ক রকিব মাসুদসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা। এছাড়াও লং মার্চে ফেলানীর বাবা নুর ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত