গর্ভাবস্থায় ডেঙ্গুজ্বর কেন ঝুঁকিপূর্ণ

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২৫, ১২:২২ এএম

গর্ভবতী মায়ের জন্য ডেঙ্গুজ্বর খুব ঝুঁকিপূর্ণ। এটি মা ও গর্ভস্থ শিশু দুজনেরই স্বাস্থ্য সমস্যা ও জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

ঝুঁকি

গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকে। এ সময় হরমোনের পরিবর্তনের ফলে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও রক্তনালিতে পরিবর্তন ঘটে, যা ডেঙ্গু ভাইরাসের সংক্রমণের জন্য সুবিধাজনক পরিবেশ তৈরি করে। গর্ভাবস্থায় কিছু নারীর স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নাজুক থাকে, সে ক্ষেত্রে তাদের সংক্রমণের জন্য আরও বেশি সংবেদনশীল করে।

তা ছাড়া এ সময় সব ওষুধ নিরাপদ নয়, তাই যেকোনো সংক্রমণ হলে চিকিৎসা সতর্কতার সঙ্গে দিতে হয়।

গর্ভাবস্থায় ডেঙ্গুর জটিলতা

মায়ের জটিলতা :

গর্ভপাতের আশঙ্কা অকাল প্রসব  বা  প্রিটার্ম লেবার প্রসবপূর্ব ও প্রসব-পরবর্তী রক্তক্ষরণ (পিপিএইচ) নিউমোনিয়া,

ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিবার, মাল্টি অরগান ফেইলর ডেঙ্গু শক সিনড্রোম মৃত্যু।

গর্ভস্থ শিশু ও নবজাতকের জটিলতা

গর্ভাবস্থায় বাচ্চার প্রত্যাশিত বৃদ্ধি না হওয়া কম ওজনের অপরিপক্ব শিশু গর্ভাবস্থায় মৃত্যু ও স্টিল বার্থ,

ডেঙ্গু ভাইরাস গর্ভস্থ শিশুতে সংক্রমিত হতে পারে জন্মগত ত্রুটির সঙ্গে এই জ্বর সম্পর্কিত,

শিশুর জন্মের পর রক্তক্ষরণের সমস্যা, ফুসফুসের ইনফেকশন ও অন্যান্য সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।

ডেঙ্গু রোগের লক্ষণগুলো

অনেক সময় ডেঙ্গুর কিছু উপসর্গ গর্ভাবস্থার উপসর্গের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় বোগ নির্ণয় করতে দেরি হয়। সাধারণত উচ্চমাত্রার জ্বর, পেটে ব্যথা, বদহজম, বমি ভাব, ডায়রিয়া, শরীর ব্যথা হয়ে থাকে, জ্বর চার-পাঁচ দিন পর কমে যায়। কিন্তু জ্বর কমে যাওয়ার পরের সময়টাই বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এ সময় রক্তক্ষরণের সম্ভাবনা বেশি। এ ছাড়া অন্যান্য জটিলতা যেমন প্রি-একলাম্পসিয়া বা একলাম্পসিয়া, নিউমোনিয়া এসব ঝুঁকিও বেড়ে যায়। বাচ্চার নড়াচড়া কমে যেতে পারে। সময়মতো সঠিক চিকিৎসার অভাবে মায়ের মৃত্যুও হতে পারে।

চিকিৎসা 

গর্ভবতী নারীকে অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হবে রোগীর হাইড্রেশন ঠিক রাখতে হবে জ্বর ও ব্যথানাশক হিসেবে শুধু প্যারাসিটামল খাওয়া যাবে স্বাভাবিক খাবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল খাবার খেতে হবে। ভিটামিন সি ও ভিটামিন ডি নিতে হবে প্রয়োজনে রক্ত ও প্লাটিলেট দিতে হতে পারে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত একজন মেডিসিন ও একজন গাইনি বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত