অপহরণ করে বিয়ে, ৮ মাস পর ছুরিকাঘাতে স্ত্রীকে হত্যা

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২৫, ০৬:০৫ পিএম

কক্সবাজারের চকরিয়ায় বিয়ের ৮ মাসের মাথায় শ্বশুর বাড়িতে ঢুকে ছুরিকাঘাতে স্ত্রীকে খুন করেছেন স্বামী। এ সময় শাশুড়িকে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) জুমার নামাজ চলাকালে দুপুর দেড়টার দিকে চকরিয়া পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড মজিদিয়া মাদ্রাসা পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে ।

বিষয়টি জানিয়েছেন চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভুইয়া।

নিহত উম্মে হাফসা তুহি (১৮) ওই এলাকার ব্যবসায়ী আবদুল হামিদের মেয়ে ও আহত পারভীন আক্তার (৩৮) তার স্ত্রী।

হামলাকারী স্বামী শওকত হাসান মেহেদী (২৪) উপজেলার ফাঁশিয়াখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আজম উল্লাহ পাড়ার আবুল হাশেমের ছেলে। তিনি পেশায় ইলেকট্রিক মেস্ত্রী।

নিহতের পিতা ব্যবসায়ী আবদুল হামিদ বলেন, গত ৮ মাস আগে আমার মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে বিয়ে করে মেহেদী। এ নিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। এর জের ধরে আমার মেয়েকে স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন নির্যাতন করতো। গত ডিসেম্বর মাসের ৫ তারিখ মেয়ে তুহি নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আমাকে খবর দিলে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসি। বৃহস্পতিবার স্বামী মেহেদি আমার বাড়িতে আসে। শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে তুহিকে স্বামীর বাড়িতে নিয়ে যেতে চাইলে আমার স্ত্রীসহ আমি বাধা দেই। আত্মীয়-স্বজন নিয়ে আসলে যেতে দিব বলার পর মেহেদি চলে যায়।

পরে দুপুরে জুমার নামাজ চলাকালীন দেড়টার দিকে মেহেদি অতর্কিত এসে তুহি ও তার মাকে উপর্যুপরী ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। পরে জুমার নামাজ শেষে এসে তাদের আহত অবস্থায় দেখে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে তুহিকে মৃত ঘোষণা করে। পরে গুরুতর আহত আমার স্ত্রী পারভীন আক্তারকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

চকরিয়া থানার ওসি মো. মনজুর কাদের ভুইয়া বলেন, ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহত পারভীন আক্তারকে চমেক হাসপতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশ মাঠে অভিযানে রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত