দক্ষ ও প্রাণবন্ত কর্মী ছাড়া প্রতিষ্ঠান অচল। যেখানে মনের সংযোগ নেই, শারীরিক শক্তি সেখানে কম কার্যকর। কিন্তু কর্মীদের উদ্দীপ্ত করতে গিয়ে কখনো কখনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিজের মনের খেয়াল মতো বাক্য প্রয়োগে কর্মীদের উৎসাহী করে তোলেন। পরবর্তী সময়ে সেই প্রতিজ্ঞা আর বাস্তবতার মুখ দেখতে পায় না। যা প্রতিষ্ঠানের জন্য মঙ্গল নয়। দলের সদস্য, কর্মী, কর্মকর্তাদের সঠিক উপায়ে মোটিভেট করার জন্য রইল পরামর্শ।
এক
আপনি একজন দলনেতা বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। সুতরাং অনুসারীরা আপনার প্রতিটি পদক্ষেপ অনুসরণ করছে। আপনার প্রতিটি কথা, কাজ, পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন, ব্যবস্থাপনার গুণাগুণ, ব্যক্তিগত ও মানবিক গুণাগুণ সব কিছুই অনুসরণ করা হচ্ছে। ফলে আপনি যা বলছেন তা আপনি ভুলে গেলেও আপনার অনুসারীরা কিন্তু ঠিকই মনে রাখছেন। আপনার বলা কথা, আদেশ, নির্দেশনা, পরামর্শ ঘিরেই কিন্তু কার্যক্রম, পদচারণা ও স্বপ্ন দেখা। সুতরাং মিথ্যা আশ্বাস কৌশলী বাক্যের মোড়কীকরণে কখনোই পরিবেশন করবেন না।
দুই
অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আছেন যারা অনেক দক্ষ, অভিজ্ঞ ও পরিস্থিতি সামলাতে ঝানু। তারা অনেক ক্ষেত্রে মিথ্যা আশ্বাস দিয়েও যথাসময়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেন। কিন্তু এখানেও মনে রাখা দরকার, দলনেতা হিসেবে আপনি যা করলেন সেটা ভুল নয়, রীতিমতো অন্যায়।
তিন
দলের সদস্যদের প্রতি যদি আপনার দখল ও আস্থা থাকে তাহলে আসল কথা খুলে বলুন। তাদের সাহায্য চান। মিথ্যা আশ্বাস দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। আসলে পরিস্থিতির যথাযথ বিশ্লেষণই আপনাকে পথ দেখাবে। কৌশলী হোন কিন্তু তা যেন একতরফা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট না হয়,
চার
দলের দক্ষ ও যোগ্য সদস্যদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সাধ্যমতো চেষ্টা করুন। আর যেসব সদস্য খাদের কিনারে আছেন, যারা বিপজ্জনক অবস্থানে আছেন, তাদের এগিয়ে আনতে বিশেষ ব্যবস্থা নিন।
পাঁচ
ব্যবস্থাপনার সিঁড়ির মাঝখানে থেকে ওপরের দলনেতা বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সামলানো রীতিমতো পেশাদার রাজনীতিকের কাজ। দায়িত্ব এখানেই শেষ নয়। নিজের অনুসারীরা বা অধস্থন সহকর্মীদেরও আছে নানা চাহিদা। এবং আপনি জানেন, এই চাহিদা যুক্তিসংগত, অথচ কিছুই করার নেই। এ অবস্থায় আপনাকে মাঝখানে দাঁড়িয়ে সামলাতে হবে উভয় পক্ষকেই। এবং এটা নির্দি¦ধায় কঠিন কাজ। পরামর্শ হলো, এই দুই পক্ষের ভেতর নিচের পক্ষ আগে সামলাবেন। ভুল করবেন না।
ছয়
নিজের অবস্থান ও ব্যক্তিত্বকে ধরে রেখে আসল দলনেতার মতো কর্মীদের সমস্যাগুলোকে বোঝার চেষ্টা করা। সমস্যার সমাধান করতে পারলেন কি না আপতত বড় কথা নয়, কিন্তু আপনি তাদের চাহিদা মেটাতে চেষ্টা করেন এটা অনেক বড় ব্যাপার। কোনো কোনো বসের কাছে তো সমস্যার কথা বলাই যায় না। আপনি তাদের চেয়ে ব্যতিক্রম হবেন। আপনার দরজা সবার জন্য সবসময় খোলা থাকবে।
সাত
দলনেতা হিসেবে আপনি সবচেয়ে বড় ভুলটি করবেন সেদিন, যেদিন মনে করবেন, আপনার অধস্তন সহকর্মীরা ওপরের (ম্যানেজমেন্টের) পরিস্থিতি সম্পর্কে কিছুই বোঝে না। অনুগত অনুসারীরা প্রকৃতিগত কারণেই কম কথা বলে। অনুসরণ আর কাজ করে বেশি, তারা দিন শেষে শুধু একটা জিনিসই চায়Ñ আপনি পিঠ চাপড়ে বলুন, ইউ আর গ্রেট। আপনি যদি আদর্শ দলনেতা হন, তাহলে দলকে মোটিভেট রাখতে ফাঁপা ভরসা, অলীক আশ্বাস কখনোই দিতে হবে না।
