২০-৪০ শতাংশ নবজাতকের মৃত্যুর কারণ ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ

# বাংলাদেশসহ ছয় দেশের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে  সহজ ও সাশ্রয়ী চিকিৎসার কার্যকারিতা

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২৫, ০২:৩১ এএম

বাংলাদেশে প্রতি ১ হাজার জীবিত জন্ম নেওয়া নবজাতকের মধ্যে ২০ জন নবজাতক মারা যাচ্ছে। এর মধ্যে ২০-৪০ শতাংশ নবজাতকের মৃত্যুর কারণ ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ। 

এমনকি ৮-১০ শতাংশ  শিশু তাদের প্রথম দুই মাসে অন্তত একটি গুরুতর ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণে আক্রান্ত হয়। 

এমন অবস্থায় এসব নবজাতকদের বাঁচাতে দুই ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতির প্রমাণ মিলেছে। গুরুতর ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমনে (পিএসবিআই)  আক্রান্ত ২ মাসের কম বয়সী শিশুদের চিকিৎসায় দুটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে এই ফল পাওয়া গেছে।

বিল ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে ছয়টি দেশে এই ক্লিনিকাল ট্রায়াল করা হয়। দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, ইথিওপিয়া, ভারত, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান এবং তানজানিয়া।

গতকাল সোমবার রাজধানীর এক হোটেলে এই ফল প্রকাশ করা হয়। যৌথভাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও প্রজন্ম গবেষণা ফাউন্ডেশন (পিআরএফ) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

এসব ট্রায়ালেরমাধ্যমে এই ধরণের শিশুদের জন্য তিন ধরণের চিকিৎসার ফল পাওয়া গেছে। 

১. যেকোনো কম মৃত্যুর ঝুঁকির সংকেতযুক্ত (শরীরের উচ্চ তাপমাত্রা, বুকের তীব্র শ্বাসকষ্ট, বা প্রতি মিনিটে ৬০ বা বেশি বার শ্বাস নেওয়া/দ্রুত শ্বাস নেওয়া) শিশুদের চিকিৎসা বাড়িতেই নিরাপদ ও কার্যকরভাবে করা যেতে পারে। এই ধরনের চিকিৎসা পরিবারের জন্যও সুবিধা হয়। 

২. মাঝারি-মৃত্যু-ঝুঁকির (তাপমাত্রা ৩৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, শুধু উদ্দীপিত হলে নড়াচড়া করে, ভালোভাবে খাওয়া না বা খাওয়া বন্ধ করা, অথবা দুটি বা তার বেশি কম মৃত্যুর ঝুঁকির সংকেত)  শিশুদের মধ্যে যারা ইনজেকশনযোগ্য অ্যান্টিবায়োটিকের ৪৮-ঘণ্টার কোর্সে ভাল সাড়া দেয়, তাদের জন্য সুইচ থেরাপি (দ্রুত ছুটি দিয়ে বাড়িতে মৌখিক অ্যামোক্সিসিলিন শুরু করা) চিকিৎসা দেওয়া যেতে পারে।

এছাড়া প্রথম প্রজন্মের অ্যান্টিবায়োটিকস, যেমন-অ্যামোক্সিসিলিন, অ্যাম্পিসিলিন এবং জেনটামাইসিন দিয়েও শিশুদের  ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমনের চিকিৎসা করা যেতে পারে। 

ট্রায়ালের ফলে জানানো হয়, এই ধরনের চিকিৎসায় শিশুদের অনাবশ্যক হাসপাতালে ভর্তি ও হাসপাতাল থেকে নতুন সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে, স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় কমবে এবং শিশুদের কম ব্যয়ে নিরাপদ ও কার্যকর চিকিৎসা করাতে পারবেন অভিভাবকরা।

চিকিৎসকরা বলেন, এই ট্রায়ালগুলি বাংলাদেশের মতো সীমিত সম্পদযুক্ত দেশগুলির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানে হাসপাতালের বিছানা সীমিত এবং রেফার করার সমস্যা নবজাতক যত্ন ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। 

অনুষ্ঠানে চিকিৎসকরা বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বর্তমানে ইনজেক্টেবল অ্যান্টিবায়োটিক এবং সহায়ক চিকিৎসা-সহ হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসার জন্য সুপারিশ করে। তবে এই শিশুগুলির অনেকেরই হাসপাতাল ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন নাও থাকতে পারে। এতে এসব শিশু অতিরিক্ত স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাবে। তাই ২ মাসের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে সম্ভাব্য গুরুতর ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার উন্নতি করার জন্য বহু-দেশীয় ও বৃহৎ নমুনার ক্লিনিকাল ট্রায়াল পরিচালনার প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর।

অনুষ্ঠানে প্রজন্ম গবেষণা ফাউন্ডেশন (পিআরএফ) এর নির্বাহী পরিচালক ড. সালাহউদ্দিন আহমেদসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত