উদ্বোধনের দেড় বছরেও ভবন চালু হয়নি

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৫, ০৩:৫৬ এএম

উদ্বোধনের প্রায় দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার রংমেহার উচ্চবিদ্যালয়ের প্রায় ৩ কোটি টাকার নতুন অ্যাকাডেমিক ভবনের কাজ শেষ না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম চালু করা যায়নি। ভবনের ৩০ শতাংশ কাজ বাদ রেখেই যোগসাজশ করে ঠিকদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় শতভাগ টাকা তুলে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, বিদ্যালয়ের নতুন চারতলা অ্যাকাডেমিক ভবনের ভেতরের দেয়াল থেকে শুরু করে ১২টি শ্রেণিকক্ষের কোথাও পড়েনি রঙের প্রলেপ। শ্রেণিকক্ষগুলোর একটিতেও নেই দরজা। ভবনের সবগুলো ওয়াশরুমের কাজ বাকি রয়েছে। চারতলার কোনো মেঝেতে মোজাইকের কাজ শেষ হয়নি। ভবনে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। এতে করে পাঠদানের পরিবেশ গড়ে ওঠেনি। এ কারণে নতুন ওই ভবনের পাশের পুরনো দোতলা ভবনের কয়েকটি কক্ষে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির পাঠদান চলছে। সম্প্রতি সরেজমিনে ঘুরে রংমেহার উচ্চবিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবনের এমন চিত্র দেখা গেছে।

২ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে ওই ভবন নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। অধিদপ্তর সূত্র মতে, ২০১৯ সালের ২ মে ভবন নির্মাণকাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রকি এন্টারপ্রাইজ। ২০২০ সালের আগস্টে কাজ শেষ করার কথা ছিল। পরে সময় বাড়িয়ে কাজের মেয়াদ করা হয় ২০২১ সালের ৩০ জুন। এরমধ্যে চারতলা ভবনের অবকাঠামোর কাজ শেষ করে ঠিকদারি প্রতিষ্ঠানটি। এরপর ভেতরের আনুষঙ্গিক কাজ আর এগোয়নি। কিন্তু কয়েক দফায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় শতভাগ টাকা উত্তোলন করে নিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী শাহজাহান বাদশার যোগসাজশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৩০ শতাংশ কাজ বাকি রেখেই ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা উত্তোলন করে নিয়েছে।

এ অবস্থায় ২০২৩ সালের ৩ অক্টোবর মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি ভবনটি উদ্বোধন করেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হানিফুল ইসলাম বলেন, ‘যখন ভবনের কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই উদ্বোধন করা হচ্ছিল তখনই এমপিকে বলেছিলাম কাজ শেষ হয়নি। উদ্বোধন করা ঠিক হবে না। কিন্তু এমপি মহোদয় উত্তরে বলেছিলেন যতটুকু হয়েছে ততটুকুতে উদ্বোধন করে ফেলি।’ এখনো প্রায় ৩০ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে দাবি করে প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘ভবনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করার মতো পরিবেশ নেই। কয়েক দফা ঠিকদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ শেষ করতে বলেছি। কিন্তু তাদের কোনো আগ্রহ দেখিনি। অথচ ঠিকদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় পুরো টাকাই উত্তোলন করে নিয়ে গেছে বলে জানতে পেরেছি।’

এ ব্যাপারে জানতে জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে গত কয়েকদিন ঘুরেও নির্বাহী প্রকৌশলী মৌরিন আক্তার মৌকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোন নম্বরে কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। ওই দপ্তরের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা আহসান হাবীব মজুমদার কয়েক বছর যাবৎ হিসাবরক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, ‘১২ দফায় মোট ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা তুলে নিয়েছে ঠিকাদার। আমার কাছে বিল এসেছে, আমি দিয়েছি। আমি তো ফিল্ডে যাই না।’

 জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে উপ-সহকারী প্রকৌশলী শাহজাহান বাদশা বলেন, ঠিকাদার অসুস্থতার কথা বলে কাজ নিয়ে গাফিলতি করে আসছে। কয়েক দফা চিঠি দিয়েছি কাজ শেষ করার জন্য। কাজ শেষ করার আগেই বিল ছাড়ের বিষয়ে যোগসাজশের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে বিল ছাড়ের চাপ ছিল। তা ছাড়া আমাদের কাছে ঠিকদারের ১৫ লাখ টাকা জামানত রয়েছে।’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রকি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. রওশন বলেন, ‘আমি শিগগিরই কাজ শুরু করব। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে কাজ শেষ করে বিদ্যালয় ভবন বুঝিয়ে দেব।’ তবে কাজ শেষ না করেই বিল উত্তোলন করা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি কোনো জবাব দেননি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত