জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিল

ট্রাম্পের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে ২২ অঙ্গরাজ্যের মামলা

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:১৪ এএম

দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়েই নির্বাহী আদেশের ঝড় তুলেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। শপথ গ্রহণের পরই ক্যাপিটল রোটুন্ডায় প্রায় দুই শতাধিক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন তিনি। যার মধ্যে আছে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার বাতিল করা। তবে এরই মধ্যে ট্রাম্পের দেওয়া নির্বাহী আদেশ চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত ২২টি অঙ্গরাজ্য ও ২টি শহর। তার এ আদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের লঙ্ঘন বলে বোস্টন ও সিয়াটলের ফেডারেল আদালতে দুটি মামলা করেছে ওয়াশিংটন ডিসি, সিটি অব সান ফ্রানসিস্কো এবং ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বাধীন ২২টি অঙ্গরাজ্য। এ আইনি লড়াইয়ে শরিক হয়েছে বিভিন্ন নাগরিক অধিকার সংগঠন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন, অভিবাসী সংগঠন এবং একজন প্রসূতি মায়ের পক্ষ থেকে পৃথক আরও দুটি মামলা করা হয়েছে।

অঙ্গরাজ্যগুলোর দাবি, নাগরিকত্ব হারালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা স্বাস্থ্য বীমার মতো ফেডারেল সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। পরবর্তীকালে দেশটিতে বৈধভাবে কাজ করা বা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না তারা। ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল আন্দ্রেয়া জয় ক্যাম্পবেল তার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলেছেন, অভিবাসনের ওপর ট্রাম্পের কঠোরতা হ্রাস করতে এসব মামলা করা হয়েছে। তার আদেশ বাস্তবায়িত হলে আধুনিক মার্কিন ইতিহাসে প্রথমবার বছরে দেড় লাখ শিশু নাগরিকত্ব বঞ্চিত হবে। কারও সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার অধিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল ম্যাথিউ প্ল্যাটকিন এক বিবৃতিতে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারীদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় তাদের পাশে আমরা সবসময় আছি। এ মামলাগুলোর মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে আমরা সুস্পষ্টভাবে তা জানিয়ে দিতে চাই। মামলার বিষয়ে হোয়াইট হাউজের প্রতিক্রিয়া জানতে রয়টার্স যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীতে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে ট্রাম্পের এ আদেশ জারির পরই নানা মহলে এর সম্ভাব্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বেশিরভাগ আইন বিশেষজ্ঞ একমত যে, ট্রাম্প নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিল করতে পারবেন না।

দেশটির সংবিধান বিশেষজ্ঞ এবং ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন স্কুলের অধ্যাপক সাইকৃষ্ণ প্রকাশ বলেন, ট্রাম্প এমন কিছু করছেন এবং করবেন যা অনেক মানুষকে উত্তেজিত করবে। তবে শেষ পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত নেবে আদালত। এটি এমন বিষয় নয় যা নিয়ে ট্রাম্প একা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

শুধু জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিল নয়, ডেমোক্র্যাটপ্রধান অঙ্গরাজ্য ও অধিকার সংস্থাগুলো ট্রাম্পের বিভিন্ন এজেন্ডা নিয়ে আরও মামলা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের রাশ টেনে ধরতে ইলন মাস্কের নেতৃত্বাধীন ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সির কার্যক্রম ও সরকারি কর্মচারীদের চাকরির সুরক্ষা হ্রাসকরণের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ জানানো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত