সুযোগ হারাল আবাহনী

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৫, ০৬:৫৫ এএম

আগের দিন চিরশত্রু মোহামেডানকে ফকিরেরপুলে ধাক্কা খেয়ে ডুবতে দেখেছিল আবাহনী। টানা আট জয়ের পর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের প্রথম পর্বের শেষ রাউন্ডের ম্যাচে মোহামেডানের হারে আবাহনীর সুযোগ তৈরি হয় পয়েন্ট টেবিলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে ব্যবধানটা ২-এ নামানোর। সেই সুযোগটা মারুফুল হকের শিষ্যরা হারিয়েছে ব্রাদার্স ইউনিয়নের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে। মুন্সীগঞ্জের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফট্যানেন্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে অবশ্য হারতেও পারত আবাহনী। ব্রাদার্স পুরোটা সময় আক্রমণাত্মক খেলেও গোলের দেখা পায়নি। বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় অপর ম্যাচে স্বাগতিক ফর্টিস এফসি ১-০ গোলে হারিয়েছে চট্টগ্রাম আবাহনীকে। 

এই দুই ম্যাচের মধ্য দিয়ে শেষ হলো লিগের প্রথম পর্ব। ৯ ম্যাচে আট জয়ে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে মোহামেডান। আবাহনী ৬ জয় দুই ড্র আর এক হারে ২০ পয়েন্ট নিয়ে আছে দ্বিতীয় স্থানে। দীর্ঘদিন পর এই দুই দল শিরোপার লড়াইয়ে রয়েছে সবার ওপরে। এটা হয়েছে শেষ পাঁচবারের শিরোপাজয়ী বসুন্ধরা কিংসের বাজে পারফরম্যান্সের সুযোগে। বড় বাজেটের দলটি এবার প্রথমপর্বে মাত্র ৫ ম্যাচ জিতেছে। দুই ড্র ও সমান হারে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে তারা আছে তিনে। রহমতগঞ্জ ও ব্রাদার্স ইউনিয়নের ভালোই কেটেছে লিগের প্রথম পর্ব। দুদলের ঝুলিতেই আছে সমান ১৫ পয়েন্ট। তবে গোল গড়ে এগিয়ে থাকা রহমতগঞ্জ চারে ও ব্রাদার্স পাঁচে। সংগ্রহে দুই অঙ্ক ছুঁয়েছে আর দুটি মাত্র দল। ১১ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে ফর্টিস, ১০ পয়েন্টে পুলিশ আছে সাতে। মোহামেডানকে হারিয়ে আটে চলে আসা ফকিরেরপুলের সংগ্রহে ৯ পয়েন্ট। ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ৪ পয়েন্ট নিয়ে আছে ৯-এ। আর তিন পয়েন্টে তলানিতে চট্টগ্রাম আবাহনী।

মোহামেডানের সঙ্গে ব্যবধানটা ২ পয়েন্টে রাখতে যে ধরনের ফুটবল প্রত্যাশা ছিল, সেটা করতে পারেনি আবাহনী। আসলে শতভাগ স্থানীয়দের নিয়ে গড়া আবাহনীকে বরং পুরোটা সময় চাপে রাখে ব্রাদার্স। যদিও শুরুতে গোলের ভালো সুযোগ এসেছিল আবাহনীর কাছে। সেটা কাজে লাগেনি ভাগ্য মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায়। সপ্তম মিনিটে শাহরিয়ার ইমনের ক্রসে মোহাম্মদ ইব্রাহিমের হেড গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানাকে ফাঁকি দিলেও পোস্টে আঘাত হানে।

বলার মতো ওই একটাই সুযোগ পেয়েছিল আবাহনী। বাকিটা সময় ব্রাদার্স গোলের চেষ্টা করেছে প্রতিনিয়ত। তবে বলার মতো সুযোগ ব্রাদার্স পায় ৪১ মিনিটে। গাম্বিয়ান ফরোয়ার্ড চেক সিনের শট দ্রুত পা চালিয়ে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন আবাহনীর ডিফেন্ডার ইয়াসিন খান। বিরতি থেকে ফিরেও একই ভাবে আবাহনীকে চাপে রাখে ব্রাদার্স। তবে এই অর্ধেও গোলের সুযোগ প্রথম আবাহনীই পেয়েছিল। ৭৩ মিনিটে মোহাম্মদ হৃদয়ের থ্রু পাস ধরে বক্সের ভেতরে শাহীন মিয়া আড়াআড়ি ক্রস বাড়িয়েছিলেন, কিন্তু বলের গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারেননি এনামুল ইসলাম গাজী। শেষ দিকে আবাহনীকে গোল খাওয়া থেকে বাঁচিয়েছেন গোলকিপার মিতুল মারমা। কৌশিক বড়ুয়ার ফ্রি কিক রক্ষণ দেয়ালের ওপর দিয়ে উড়ে ড্রপ খেয়ে দূরের পোস্টে প্রবেশের আগ মুহূর্তে আঙুলের টোকায় বাইরে পাঠান মিতুল।

কিংস অ্যারেনায় দিনের অপর ম্যাচে চট্টগ্রাম আবাহনীকে হারাতে কষ্ট হয়েছে ফর্টিসের। ৩৪ মিনিটে পিয়াস আহমেদ নোভার বানিয়ে দেওয়া বলে জয়সূচক গোলটি করেন গাম্বিয়ান ফরোয়ার্ড ইসা জালো। ব্যবধানটা পরে আর বাড়াতে পারেনি তারা।

প্রথম পর্ব শেষে পয়েন্টের লড়াইয়ে পিছিয়ে গেলেও গোলের লড়াইয়ে এগিয়ে আছে বসুন্ধরা কিংস। তারা গড়ে ৩ গোল করে ৯ ম্যাচে ২৭ গোল করেছে। বিপরীতে হজম করেছে ৬ গোল। গোল করার তালিকায় তাদের পরেই আছে রহমতগঞ্জ। তবে ২৩ গোলের বিপরীতে পুরান ঢাকার দলটি হজম করেছে ১৪টি। শীর্ষে থাকা মোহামেডান ২১ গোল করেছে, খেয়েছে চার গোল। গোল করার দিক থেকে ব্রাদার্স ও পুলিশ এগিয়ে আছে দুইয়ে থাকা আবাহনীর চেয়ে। ব্রাদার্স ১৪ ও পুলিশ ১৩ গোল করেছে। আবাহনীর স্থানীয় ফরোয়ার্ডরা গোল করেছে ১১টি। তবে তারা অনেকটাই এগিয়ে গেছে গোল না খাওয়ার হিসেবে। ৯ ম্যাচে মাত্র ১টিতে গোল হজম করেছেন দলটির কিপার মিতুল মারমা।

গোলদাতার তালিকায় যথারীতি আধিপত্য বিদেশিদের। ১১ গোল করে সবার ওপরে আছেন রহমতগঞ্জের গাম্বিয়ান স্ট্রাইকার স্যামুয়েল বোয়েটাং। এর মধ্যে ঢাকা ওয়ান্ডারার্সের বিপক্ষে ছিল ডাবল হ্যাটট্রিক। এর পরেই অবশ্য অবস্থান এক স্থানীয় তরুণের। বাংলাদেশ পুলিশের হয়ে সাত গোল করে আলো কেড়েছেন তরুণ স্ট্রাইকার মোহাম্মদ আল আমীন। ব্রাদার্সের সেনেগালিজ চেইখ সেনেরও আছে সাত গোল। এছাড়া ছয়টি করে গোল আছে মোহামেডানের দুই ফরোয়ার্ডের। মালির সুলেমান দিয়াবাতে ও নাইজেরিয়ান ইমানুয়েল সানডের মধ্যে চলছে গোলের লড়াই। পাঁচ গোল আছে তিনজনের। এর মধ্যে অবশ্য আছেন দুই বাংলাদেশি। আগের মৌসুমে ১০ গোল করা বসুন্ধরা কিংসের রাকিব হোসেন, দল বদলে নিজেকে বদলে ফেলা রহমতগঞ্জের নাবিব নেওয়াজ জীবন ও কিংসের ব্রাজিলিয়ান প্লে-মেকার জোনাথন ফার্নান্দেজ করেছেন ৫টি করে গোল। কিংসের আরেক ব্রাজিলিয়ান মিগেল ফিগেইরা করেছেন চার গোল। তবে অ্যাসিস্টের দিক থেকে এগিয়ে আছেন মিগেল। সতীর্থদের দিয়ে ছয় গোল করিয়েছেন তিনি।

মোহামেডানের শেষ ম্যাচে হারে শিরোপা লড়াইটা একটু হলেও জমেছে। সেই আশায় অনেকেই বিদেশি পরিবর্তনের পথে হাঁটবে শোনা যাচ্ছে। এতদিন স্থানীয়দের নিয়ে খেলা আবাহনীর বিদেশি আনা এটা নিশ্চিত, শোনা যাচ্ছে ষষ্ঠ লিগ শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে কিংসও বদলে ফেলবে একাধিক বিদেশি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত