অনিচ্ছাকৃত খেলাপিদের পুনর্বাসনের সুপারিশ

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:৫৭ এএম

যারা ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি নন, তাদের জন্য নীতি-সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে অর্থনীতিতে পুনর্বাসনের সুপারিশ করেছে শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআই। একইসঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সুদের হার স্থিতিশীলসহ ডলারের জোগান স্বাভাবিক রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পকারখানাকে নীতি-সহায়তা প্রদান, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়জনিত ক্ষতি মোকাবিলায় উদ্যোক্তাদের সহায়তা, সময়মতো এক্সপোর্ট বিল পরিশোধ, এসএমই এবং কৃষি খাতের জন্য বিশেষ ঋণ সুবিধা সম্প্রসারণসহ দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে এফবিসিসিআইয়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের মতবিনিময় সভায় এসব সুপারিশ তুলে ধরেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান।

হাফিজুর রহমান বলেন, বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখা ও বিনিয়োগের স্বার্থে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার স্থিতিশীল রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া সুদের হার ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনতে বলা হয়েছে। অপরিশোধিত ঋণের কিস্তি যে তারিখে পরিশোধের জন্য নির্ধারিত থাকবে সে তারিখ থেকে পরবর্তী ৬ মাস অতিক্রম হওয়ার পর মেয়াদোত্তীর্ণ হবে, সেই সময়সীমা ৯ মাস করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমদানি-রপ্তানি উৎপাদন কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখার স্বার্থে বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার জোগান স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখার অনুরোধ করেছি। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসমূহের স্বার্থে প্রয়োজনীয় পলিসি সহায়তা প্রদানের অনুরোধ করেছি। সভায় স্থানীয় শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় রাখতে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নিয়ে আসার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন ব্যবসায়ী নেতারা।

এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানান, আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশ ব্যাংক নিবিড়ভাবে কাজ করছে। অর্থনীতির টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সমর্থন ও সহযোগিতা আহ্বান করেন তিনি।

সভায় অন্যদের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন, সাবেক সহ-সভাপতি আবুল কাশেম হায়দার, সাবেক পরিচালক আব্দুল হক, মো. গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী (খোকন), শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী (সিইও) আহসান খান চৌধুরী, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি এস এম ফজলুল হক, এফবিসিসিআইয়ের মহাসচিব মো. আলমগীর, সাধারণ পরিষদ সদস্য জাকির হোসেন নয়ন ও মো. জাকির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ব্যবসায়ীদের আরেক সংগঠন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) ও ঢাকায় অবস্থিত বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। এ সময় বড় ও মাঝারি শিল্প খাতের রুগ্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংকিং খাতের দায়দেনা মুক্তি ও গুটিয়ে নেওয়ার জন্য ‘এক্সিট পলিসি’ চান দেশের ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে সুদহার কমানো, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সুযোগ বৃদ্ধি, একক গ্রাহকের ঋণপ্রাপ্তির সীমা বৃদ্ধি, খেলাপি ঋণের শ্রেণীকরণের ক্ষেত্রে সময়সীমা বাড়ানোসহ কিছু নীতি পরিবর্তনের দাবিও জানিয়েছিলেন তারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত