বিপিএলকে লজ্জায় ফেলল রাজশাহী

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২৫, ০৮:০১ এএম

নামটা ‘দুর্বার’ হলেও রাজশাহীর ফ্র্যাঞ্চাইজির নামটা প্রকৃতপক্ষে হওয়া উচিত ছিল ‘দুর্বল’। মাঠের খেলায় এবং অর্থনৈতিক কর্মকা-ে নিজেদের দুর্বলতার প্রমাণ ক্রমেই দিয়ে চলেছে ভ্যালেন্টাইন গ্রুপ, রাজশাহী ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকপক্ষ। অজানা অচেনা বিদেশি খেলোয়াড়দের দলে ভিড়িয়েছে, তাদের পাওনা না দিয়ে মান ডুবিয়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের। পারিশ্রমিক না পেয়ে রবিবার দুর্বার রাজশাহী দলের কোনো বিদেশি খেলোয়াড় মাঠে নামেননি রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ম্যাচে।

শুধু খেলোয়াড়দের পাওনাই নয়, হোটেলের বিলও বকেয়া রেখেছিলেন রাজশাহী ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক শফিক রহমান। নিজেকে আবাসন ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দেওয়া শফিক রহমানের রুমের সামনে পাহারা বসিয়েছিল চটগ্রামের র‌্যাডিসন ব্লু হোটেল কর্র্তৃপক্ষ। ঢাকায় দুর্বার রাজশাহী দলের হোটেলও বদলেছে রবিবার। ওয়েস্টিন হোটেল থেকে তাদের ঠিকানা বদলে হয়েছে ঢাকা শেরাটন। যদিও হোটেল কর্র্তৃপক্ষ একটি বিবৃতির মাধ্যমে জানিয়েছে, ‘দুর্বার রাজশাহী দলকে আমাদেরই আরেকটি সম্পত্তিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। দলের মালিক শফিক রহমানের বিশেষ অনুরোধে এই পরিবর্তন করা হয়েছে।’

আসরের শুরু থেকেই রাজশাহীর খেলোয়াড়দের পাওনা বুঝে পাওয়া নিয়ে সমস্যা হচ্ছিল, এই ব্যাপারে খেলোয়াড়দের প্রশ্ন করা হলে সরাসরি কোনো উত্তর মেলে না। এমনকি শুরুর দিকে অধিনায়কত্ব করা এনামুল হক বিজয় সংবাদ সম্মেলনেও বলেছিলেন যে দেশের ক্রিকেটের মানহানি হয় এমন সংবাদ যেন না করা হয় গণমাধ্যমে। পাওনা টাকা আদায়ে বিসিবির ওপর ভরসা থাকার কথা জানিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত অনুশীলন বয়কটসহ নানাভাবে গণমাধ্যমের চাপ প্রয়োগ করে কিছুটা পারিশ্রমিক আদায় করতে পেরেছেন রাজশাহীর বাংলাদেশি খেলোয়াড়রা। চেক হাতে পেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিয়েছেন ছবি। তবে এই সৌভাগ্য হয়নি রাজশাহীর বিদেশি ক্রিকেটারদের। পাওনা টাকা না পেয়ে রবিবারের ম্যাচ বয়কট করেছেন তারা। বিশেষ বিবেচনায় কোনো বিদেশি ছাড়াই রাজশাহীকে দল নামানোর অনুমতি দিয়েছেন বিপিএলের টেকনিক্যাল কমিটির প্রধান রকিবুল হাসান। বিসিবির পক্ষ থেকে প্রেরিত একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘২০২৫ সালের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা দুর্বার রাজশাহী দলের পক্ষ থেকে বিদেশি ক্রিকেটারদের প্রাপ্যতার অভাবে শুধুই বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নিয়ে একাদশ গড়ার অনুমতি চেয়ে বিপিএলের টেকনিক্যাল কমিটির কাছে আবেদন করা হয়েছে। সেই আবেদন পর্যালোচনা করে বিপিএলের প্লেয়িং কন্ডিশনের ১.২.৮ ধারা মোতাবেক শুধু মাত্র এই ম্যাচের জন্য দুর্বার রাজশাহীকে কেবলমাত্র বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নিয়ে একাদশ সাজানোর অনুমতি দিয়েছে টেকনিক্যাল কমিটি।’ যদিও কী কারণে বিদেশি খেলোয়াড়দের পাওয়া যাচ্ছে না সেটা ব্যাখ্যা করেনি রাজশাহী দল। বিপিএলের প্লেয়িং কন্ডিশনে লেখা আছে কোনো ক্রিকেটার তার জাতীয় দলের পূর্বনির্ধারিত সূচির কারণে চলে গেলে, অনাপত্তিপত্র না পেলে, চোট পেলে, অবসর নিলে এবং অন্য যে কোনো যৌক্তিক কারণ উপযুক্ত প্রমাণাদিসহ উপস্থাপন করলে টেকনিক্যাল কমিটি সেটা পর্যালোচনা করে খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানাবে। এই ক্ষেত্রে ব্যাপারটি সুস্পষ্টভাবেই আইনের অপব্যবহার।

সদ্যই বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান ইফতেখার রহমান মিঠু বলেছেন, ‘চুক্তিতে সব স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল। এমন আচরণ মেনে নেওয়া যায় না। টুর্নামেন্টের বৃহত্তর স্বার্থে আমরা অনেক কিছুতে ছাড় দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা সীমা অতিক্রম করেছে। সমস্যার সমাধানে আমরা আলোচনা করেছি, তবে চুক্তির শর্তগুলো না মানার ঘটনাগুলো এখন আর গ্রহণযোগ্য নয়।’

বিপিএলে বিদেশি ক্রিকেটারদের পাওনা না পাওয়া নতুন কিছু নয়। ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) এর সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত পাল দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন যে আগের মৌসুমের ১০ জন বিদেশি ক্রিকেটারের পাওনা এখনো বকেয়া, কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজিই উধাও হয়ে গেছে।  বিসিবি প্রেসিডেন্ট ফারুক আহমেদই জানিয়েছেন যে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির কাছ থেকে ক্রিকেটারদের পাওনা বাবদ যে ব্যাংক গ্যারান্টি নেওয়া হয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেটা কার্যকর করা যায়নি। নানান অনিয়ম জালের মতো আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রেখেছে। ম্যাচ পাতানো কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে পাওনা পরিশোধে অনিয়ম বিপিএলের নিয়মিত বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে যা ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের তালিকায় বিপিএলকে করেছে ঝুঁকিপূর্ণ লিগ হিসেবে। তবে রাজশাহীর পাওনা না দেওয়ার কারণে বিদেশি ক্রিকেটারদের ম্যাচ বর্জন এবং গোটা একাদশ দেশীয় ক্রিকেটারদের নিয়ে সাজানো ছাপিয়ে গেছে অতীতের সব কিছুকেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত