সাবেক অর্থমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা শাহ এ এম এস কিবরিয়ার হত্যা মামলার বাদীসহ আওয়ামী লীগের তিন ও বিএনপির এক নেতা জড়িত বলে দাবি করেছেন ছেলে রেজা কিবরিয়া।
ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তায় রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘এ মামলায় জড়িতরা হলেন— হবিগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য মো. আবু জাহির, মামলার বাদী সাবেক এমপি আবদুল মজিদ খান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মুশফিক হোসেন চৌধুরী। আরও জড়িত ছিলেন হবিগঞ্জের বিএনপি নেতা জি কে গউছ। তাদের এ কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করেন আওয়ামী লীগ নেতা সালমান এফ রহমান। এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে তিনি আর্থিক সহায়তা করেন। সালমান এফ রহমান নানা কারণে আমার বাবা শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন। আওয়ামী লীগের শাসনামলে দুর্নীতি, বিশেষ করে ব্যাংক ও শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে ছিলেন আমার বাবা। এর জন্য সালমান এফ রহমানরা ক্ষিপ্ত ছিলেন। তারা প্রত্যেকেই শেখ হাসিনা ওয়াজেদের প্রিয় ও কাছের মানুষ ছিলেন। যে কারণে এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করা হয়নি। একটি অসমাপ্ত তদন্তের ভিত্তিতে তো সুষ্ঠু বিচারকাজ হতে পারে না।’
রেজা কিবরিয়া এখনো হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচারের আশা প্রকাশ করে ভিডিওতে বলেন, ‘আমাদের মতো বাংলাদেশের হাজারো পরিবার আছে তারা তাদের প্রিয়জনদের হারিয়েছে। তারাও বিচার পায়নি। আমরা সেই বিচারের অপেক্ষায় রইলাম।’
ওই হামলায় তার ভাতিজা শাহ মঞ্জুরুল হুদা, আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা আবদুর রহিম, আবুল হোসেন ও সিদ্দিক আলী নিহত হন। আহত হন ৭০ জন। আলোচিত এ মামলায় বর্তমানে সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।
গ্রেনেড হামলার পরদিন হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সেই সময়কার সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল মজিদ খান বাদী হয়ে হত্যা মামলা ও পুলিশ বাদী হয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আরও একটি মামলা করে। পরে মামলা দুটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়।
তদন্ত শেষে ২০০৫ সালে ১৮ মার্চ শহীদ জিয়া স্মৃতি ও গবেষণা পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল কাইউমসহ ১০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রথম অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। এই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন করে বাদীপক্ষ। পরে ২০০৭ সালে মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য আবার সিআইডিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
দ্বিতীয় দফায় ২০১১ সালের ২০ জুন আসামির সংখ্যা আরও ১৬ জন বাড়িয়ে ২৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। এ নিয়েও আপত্তি ওঠে নিহত নেতার পরিবার থেকে।র্বশেষ ২০১৪ সালের ১৩ নভেম্বর মামলার পঞ্চম তদন্তকারী কর্মকর্তা সিলেট অঞ্চলের তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মেহেরুন্নেসা পারুল হবিগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
এতে নতুন করে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপির নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার তৎকালীন রাজনৈতিক সচিব প্রয়াত হারিছ চৌধুরী, সিলেটের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া ওরফে জি কে গউছ, মওলানা তাজউদ্দিনের ভগ্নিপতি হাফেজ মো. ইয়াহিয়া আবু বকর, দেলোয়ার হোসেন, শেখ ফরিদ, আবদুল জলিল, মাওলানা শেখ আবদুস সালামসহ ৩৫ জনকে আসামি করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে বোমা হামলা ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়। এই ৩৫ জনের মধ্যে দুজন মামলা চলাকালে প্রাণ হারিয়েছেন।
