পুতুলের সূচনা ফাউন্ডেশনের অস্তিত্ব পায়নি দুদক

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:২১ এএম

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের সূচনা ফাউন্ডেশনের অফিসের ঠিকানায় অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের কোনো অস্তিত্ব পায়নি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বুধবার সূচনা ফাউন্ডেশনের কর মওকুফসহ বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের নথি সংগ্রহ করতে দুদক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ অভিযান চালায় বলে দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম নিশ্চিত করেন।

দুদকের উপপরিচালক সাংবাদিকদের বলেন, দুদকের সহকারী পরিচালক নওশাদ আলীর নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম সূচনা ফাউন্ডেশনের ধানমন্ডি অফিসের ঠিকানায় অভিযান পরিচালনা করতে যায়। ধানমন্ডি ৫ নম্বর রোডে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুধা সদনের বাসার ঠিকানায় সূচনা ফাউন্ডেশন নিবন্ধিত। গত ৫ আগস্টের পর থেকে ওই বাড়ি তালাবন্ধ এবং অভিযানকালে ওই বাড়িতে সূচনা ফাউন্ডেশনের অস্তিত্ব মেলেনি। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি স্থানের কথা বলা হলেও সেখানে প্রতিষ্ঠানের হদিস পাওয়া যায়নি।

সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক। তার কার্যালয় ভারতের দিল্লি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা হয়েছে। তার মেয়ে পুতুলের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা হয়েছে।

দুদকের তথ্যমতে, স্বেচ্ছাসেবী ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ২০১৪ সালে গড়ে ওঠে সূচনা ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠানটি মানসিক প্রতিবন্ধিতা, স্নায়বিক প্রতিবন্ধিতা, অটিজম এবং মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাযুক্ত ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করে। সায়মা ওয়াজেদ এটির প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন ছিলেন।

দুদকের তথ্যমতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) গত নভেম্বরে এ ফাউন্ডেশনের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশনা দেয়।

দুদক বলছে, পুতুল সূচনা ফাউন্ডেশন নামের ওই প্রতিষ্ঠান খুলে বিভিন্ন সামাজিক ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে জোরপূর্বক উপঢৌকন নেওয়ার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করেন। তিনি এনবিআরের ওপর অবৈধ প্রভাব বিস্তার করে ফাউন্ডেশনের নামে পাওয়া অর্থ করমুক্ত করিয়ে নেন, যাতে সরকারের বিপুল অর্থের ক্ষতি হয়েছে।

দুদকের কাছে থাকা অভিযোগে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য বিভাগের আওতায় অটিস্টিক সেল ব্যবহার করে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে পুতুল রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করে নিজে লাভবান হয়েছেন। ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিতে লেখাপড়া করা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল সাইকোলজিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন। তার মা শেখ হাসিনা তাকে অটিজম ও নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডারবিষয়ক বাংলাদেশ জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসনের দায়িত্ব দেন। পরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞ উপদেষ্টা প্যানেলেরও তাকে সদস্য করা হয়।

২০২৩ সালের নভেম্বরে ভারতের নয়া দিল্লিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক কমিটির ৭৬তম অধিবেশনে সংস্থাটির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক নির্বাচিত হন সায়মা ওয়াজেদ। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সেই দায়িত্ব নেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের দপ্তর ভারতের দিল্লিতে। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে পুতুল সেখানেই আছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত