টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেকের বছরটা দারুণ কেটেছে হাসান মাহমুদের। ৯ টেস্টে নিয়েছেন ৩০ উইকেট, ইনিংসে ৫ উইকেট আছে দুবার। লাল বলের সাফল্যের কারণে অবচেতনভাবেই হয়তো নির্বাচকরা তার গায়ে লাগিয়ে দিয়েছেন টেস্ট ক্রিকেটার তকমা। যে কারণে খুব সম্ভবত রাওয়ালপিন্ডিতে বাংলাদেশের দুটো ম্যাচ থাকার পরেও আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দলে তাকে নেননি নির্বাচকরা। খুলনা টাইগার্সের হয়ে এবারের বিপিএলেও চমৎকার বল করছেন হাসান মাহমুদ, ১১ ম্যাচে নিয়েছেন ১০ উইকেট আর রানও দিয়েছেন কম; গড়ে ওভারপ্রতি সাড়ে সাত প্রায়। ছন্দে থাকা হাসানকে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দলে না দেখে অবাকই হয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক পেসার ও খুলনা টাইগার্সের কোচ তালহা জুবায়ের।
ঢাকা ক্যাপিটালসকে ছয় উইকেটে হারিয়ে প্লে-অফ পর্ব নিশ্চিত করেছে খুলনা টাইগার্স। সেই স্বস্তি নিয়েই ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন খুলনার কোচ তালহা। গোলমালে ভরা বিপিএলের এ আসরে খুলনা যেন বেমানান। কোনো বিতর্ক নেই, নেই ম্যাচ পাতানোর গন্ধ কিংবা একের পর এক চেক বাউন্সের বাউন্সার। পরিচ্ছন্ন সব কর্মকা-। ঠিক যেন হাসান মাহমুদের বোলিং অ্যাকশনের মতোই! তালহা সেটাই বলছিলেন সংবাদ সম্মেলনে, ‘অসাধারণ। আমি সবসময়ই ওর বোলিং অ্যাকশনের খুব বড় ভক্ত। কোনো বোলারের যদি এ রকম অ্যাকশন থাকে, ত্রুটি ছাড়া এ রকম অ্যাকশন খুব কম থাকে... হাসানের বোলিং অ্যাকশনে ত্রুটি খুবই কম আছে। এ কারণেই ও খুব কম এফোর্টে এ রকম সুন্দর বোলিং করতে পারে এবং বলের কাজ আছে। ও সাদা বলে যেভাবে বোলিং করছে, ওর যে সামর্থ্য, আমি খানিকটা অবাকই হয়েছি হাসান মাহমুদকে (আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির) দলে দেখতে না পেরে। তবে আমাদের পেসারদের মধ্যে এই স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতাটা যদি থাকে আর আমি আশা করব এটা থাকবে, যারা চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলবে তাদেরও এটা মাথায় থাকবে যে, আমি একটু খারাপ করলেই হাসান মাহমুদের মতো বোলার দরজায় কড়া নাড়ছে, সে তৈরি। এ রকম প্রতিযোগিতা আমরা যত রাখতে পারব, দলের মধ্যে বা বাইরে যারা পাইপলাইনে আছে, আমাদের দেশের বোলারদের পারফরম্যান্স তত ভালো হবে।’
শুধু হাসান মাহমুদই নন, খুলনা টাইগার্সে যেন নিজেকে ফিরে পেয়েছেন আবু হায়দার রনিও। এই বামহাতি পেসারের শিকার ১০ ম্যাচে ১৭ উইকেট। দুটো ম্যাচ খেলে মুশফিক হাসানেরও চার উইকেট। তালহার হাতে বাংলাদেশি পেসারদের ভালো করার রহস্যটা কী, জানতে চাইলে তার উত্তর, ‘আমার সঙ্গে যারাই কাজ করে, প্রিমিয়ার লিগে বলেন, জাতীয় লিগে বলেন বা বিপিএলে, সবাইকেই আমি সেই স্বাধীনতাটা দিই। আমার ড্রেসিং রুম, হোটেলে, মাঠের বাইরে সবাই যেন মুক্তমনে থাকে, কেউ যেন চাপে না থাকে, সবাই যেন তার মনের ভেতরে যা আছে সেটা নির্ভয়ে বলতে পারে। একটা খেলোয়াড়ের কাছ থেকে পারফরম্যান্সটা বের করে আনার জন্য এই আস্থাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি চেষ্টা করি দলের ভেতর ইতিবাচক পরিবেশটা বজায় রাখতে এবং সেইসঙ্গে ফ্রিডমটাও দিতে।’
টানা দুই জয়ে শুরু, এরপর টানা চার হার। খুলনার এবারের বিপিএলের পথটা ছিল চড়াই-উতরাই পেরিয়ে। শেষ দুটো ম্যাচ জিততেই হতো প্লে-অফের অঙ্ক মেলাবার জন্য। শেষ দিনে এসে মিলেছে সেই হিসাব, তালহা বললেন, একটু আগেভাগেই নকআউটের অভ্যাসটা হয়ে যাওয়াতে এলিমিনেটরে চাপটা কমে আসবে, ‘আমাদের সবশেষ দুটো ম্যাচই...জিততেই হতো। আমাদের আসলে সবশেষ ম্যাচ থেকেই শুরু হয়েছে নকআউট পর্ব। এখন অনেকের ৩ তারিখ থেকে শুরু হবে, সেই অনুশীলনটাও আমাদের হয়ে গেল, ৩ তারিখ আমাদের অতটা চাপ হবে না, যে হারলেই বাদ।’
গেল মৌসুমে পাঁচে শেষ করা খুলনার খেলা হয়নি প্লে-অফে, এবার তারা চারে শেষ করায় পাচ্ছে সেই সুযোগটা। পরপর তিনটি ম্যাচ জিতলেই বিপিএলের চ্যাম্পিয়ন হতে পারবে খুলনা। তালহার দলে কোনো আহামরি তারকা নেই, কিন্তু দলগত শক্তিটা আছে। সেইসঙ্গে আছে তারুণ্যের দুঃসাহস। এই সম্মিলিত শক্তির জোরে কী করা যায়, সেটা তো বাংলাদেশ মাস ছয়েক আগেই দেখেছে!
