জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় পোষ্য কোটা সম্পূর্ণরূপে বাতিলের দাবিতে রেজিস্ট্রার ভবন অবরোধ করে রেখেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকা থেকে একটি মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল হয়ে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ঘুরে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এরপর প্রশাসনিক ভবনে তালা মেরে ভেতরে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবরুদ্ধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ৫১ ব্যাচের শিক্ষার্থী মেহরাব তুর্য বলেন, ‘আমরা দুদিন অনশন করার পর প্রশাসন একটি যৌক্তিক সংস্কারের আশ্বাস দেয় এবং আমরা সেখানে আমাদের কর্মসূচি স্থগিত করি। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের বিপক্ষে আজকে (গতকাল) কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতিবাদ মিছিল করেন এবং আমাদের একজন শিক্ষার্থীকে হেনস্তা করেন। এখন আমাদের একটাই দাবি, পোষ্য কোটা বাতিল করতে হবে। আমরা উপাচার্যকে এক ঘণ্টা সময় দিয়েছি। এর মধ্যে উপাচার্য যদি পোষ্য কোটা বাতিলের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দিতে না পারে তাহলে আমরা আগামীকাল বুধবার (আজ) থেকে পুরো জাহাঙ্গীরনগর অচল করে দেব।’
এর আগে গত সোমবার রাত সোয়া ১২টার দিকে পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে অনশনরত শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক সংস্কারের আশ্বাস দেয় উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান। শিক্ষার্থীদের অনশনের মুখে ভর্তি পরীক্ষায় পোষ্য কোটায় বেশ কিছু পরিবর্তন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
পোষ্য কোটার বিষয়ে নেওয়া নতুন সিদ্ধান্তগুলো হলো আগে প্রতি বিভাগে সর্বোচ্চ চারজন করে ১৪৮ জনের ভর্তির সুযোগ ছিল, এখন সেটা ৪০টি আসনে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। আগে পোষ্য হিসেবে সন্তান, স্ত্রী, ভাই ও বোন এ সুবিধা পেতেন, এখন শুধু সন্তানের ক্ষেত্রে এ সুবিধা পাবেন এবং একজন চাকরিজীবী একবারই এ সুবিধা ভোগ করবেন। অর্থাৎ একজন চাকরিজীবী যদি একাধিক সন্তান থাকে, তবুও তিনি একটি সন্তানের ক্ষেত্রেই এ সুবিধা পাবেন। আগে চাকরিজীবীরা যে বিভাগে চাকরি করতেন, সে বিভাগেও পোষ্যরা ভর্তি হতে পারতেন, এখন সে সুযোগ রাখা হয়নি।
