অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারকাজ দীর্ঘায়িত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ‘আমরা বিএনপি পরিবারের’ প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার সংস্কার বলে যে সময়ক্ষেপণ করছে এবং সংস্কারের কাজ যে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর করছে, তা কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ কি না, সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’
গতকাল বুধবার বিকেলে ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার সোনাগাজী সরকারি ছাবের পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সমাবেশে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এসব কথা বলেন। ‘আমরা বিএনপি পরিবারের’ উদ্যোগে ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ৪৫ শহীদ পরিবারকে আর্থিক অনুদান এবং র্যাবের গুলিতে নিহত যুবদল নেতা মোহাম্মদ মাসুদের পরিবারকে ঘর উপহার উপলক্ষে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘স্বৈরাচার শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার আগে দেশের সবকিছু ধ্বংস করে দিয়ে গেছেন। বিএনপি নেতাকর্মীসহ অসংখ্য মানুষকে গুম ও খুন করে স্বৈরাচার ভারতে পালিয়ে গেছে। যেকোনো মূল্যে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারের বিচার করতে হবে। এই প্রশ্ন গণতান্ত্রিক সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পতিত স্বৈরাচার বিগত ১৭ বছর মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। সে অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি নেতাকর্মীরা রাজপথে লড়াই করে বুকের তাজা রক্ত বিলিয়ে দিয়েছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধ, বিগত ১৭ বছরের লড়াই এবং ২৪-এর জুলাই-আগস্টের বিপ্লবের চেতনায় আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘এখন দেশে যে সংস্কারের আলোচনা চলছে, সেই সংস্কার প্রস্তাব আড়াই বছর আগে আমরাই দিয়েছিলাম। স্বৈরাচার আমাদের সংস্কার প্রস্তাব আমলে নেয়নি। আর সেই বিশ^াস থেকেই আমরা জাতির সামনে ৩১ দফা উপস্থাপন করেছি। কারণ বিএনপি দেশ ও জনগণ নিয়ে ভাবে। দেশের কল্যাণে কাজ করতে চায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কীভাবে দেশ পরিচালনা করেছেন। কীভাবে কলকারখানা প্রতিষ্ঠা করে দেশের মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন। খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে খাদ্যে সমৃদ্ধিশালী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। আপনাদের দেশনেত্রী খালেদা জিয়া কীভাবে দেশ পরিচালনা করেছেন। তিনি মেয়েদের শিক্ষা, বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজিয়েছেন। কর্মসংস্থানের জন্য নতুন নতুন কলকারখানা তৈরি করে গেছেন। বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের দ্রব্যমূল্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, কর্মসংস্থানের কী হবে। তাই জনগণের এসব প্রত্যাশার দিকেও আমাদের নজর দিতে হবে।’
দ্রুত জাতীয় নির্বাচনের তাগিদ দিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে এবং শহীদদের কাক্সিক্ষত স্বপ্নের দেশ বিনির্মাণ হবে।’
বিএনপি দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে প্রস্তুত বলে এ সময় উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘বিএনপি সব সময়ই দেশ ও জনগণের কল্যাণ নিয়ে ভাবে। এর বড় কারণ হলোÑ দেশের জনগণ বিএনপির ওপর আস্থা রাখতে চায়। কীভাবে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে এবং দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজে আসবে, নেতাকর্মীদের সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।’
‘আমরা বিএনপি পরিবার’ আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনের সভাপতিত্বে ও ফেনী পৌর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া ও আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য সচিব মোকছেদুল মোমিন মিথুনের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলু, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা জয়নাল আবদীন ফারুক, জয়নাল আবেদীন (ভিপি জয়নাল), যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ও কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
এ ছাড়া আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ হারুন, সহ-প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক রেহানা আক্তার রানু, নির্বাহী কমিটির সদস্য বেলাল আহমেদ, অ্যাডভোকেট শাহানা আক্তার শানু, আবদুল লতিফ জনি, জালাল আহমদ মজুমদার, মামুনুর রশিদ মামুন, মশিউর রহমান বিপ্লব, ফেনী জজ কোর্টের পিপি মেজবাহ উদ্দিন খান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার, যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী হাবিব উল্লাহ মানিক, সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল, সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল উদ্দিন সেন্টু, সদস্য সচিব সৈয়দ আলম ভূঞা, শহীদ ছাত্রদল নেতা কাওছার উদ্দিনের বাবা ফিরোজ আলম, শহীদ মেহাম্মদ মাসুদের মেয়ে মুনতাহা বিনতে মাসুদ ও শহীদ জাফর আহমদের মেয়ে জাহানারা বেগম প্রমুখ।
সমাবেশে ২০১৬ সালের ২৫ জুন র্যাবের গুলিতে নিহত মোহাম্মদ মাসুদের পরিবারকে ঘর এবং ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরে চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনে নিহত ৪৫ জনের পরিবারসহ আহতদের মধ্যে প্রায় ২৫ লাখ টাকার আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়।
