গলে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনে স্ট্যান্ড-ইন অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথের দুর্দান্ত ফর্ম অব্যাহত। অ্যালেক্স ক্যারিকে সঙ্গে নিয়ে শ্রীলঙ্কার বোলিং আক্রমণ নিষ্প্রভ করে দিয়েছেন তিনি। প্রথম ইনিংসে বড় লিডের দিকেই এগোচ্ছে অস্ট্রেলিয়া, যেখানে পিচের অবস্থা আরও খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শ্রীলঙ্কার ২৫৭ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। ৩৭ রানের মধ্যে সাজঘরে ফেরেন ট্রাভিস হেড (২১) ও মার্নাস লাবুশেন (৪)। তবে স্মিথ ছিলেন নির্ভার। চতুর্থ উইকেটে ক্যারির সঙ্গে গড়েন অবিচ্ছিন্ন ১০৬ রানের জুটি। প্রথমবারের মতো পাঁচ নম্বরে ব্যাটিং করতে নেমে ক্যারি নিজেকে দারুণভাবে মেলে ধরেন, কাজে লাগান তার পছন্দের সুইপ শট।
এরই মধ্যে স্টিভেন স্মিথ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে এশিয়ায় সর্বোচ্চ রানের মালিক রিকি পন্টিংকে ছাড়িয়ে গেছেন। চা-বিরতির পর ৩৬তম টেস্ট সেঞ্চুরির দিকেও এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
শ্রীলঙ্কার স্পিনাররা মাঝে মাঝে বল ঘুরিয়ে হুমকি তৈরি করলেও ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি। সবচেয়ে কার্যকর ছিলেন অফস্পিনার নিশান পিরিস। প্রথম টেস্টে ৪১ ওভারে ১৮৯ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকার পরও সুযোগ পাওয়ার সমালোচনা ছিল। তবে এবার দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। চা-বিরতির আগে তার একটি বল স্মিথের স্টাম্প ঘেঁষে বেরিয়ে যায়।
শ্রীলঙ্কা ইনিংসের শুরুতে স্পিন দিয়ে আক্রমণ করবে কি না, তা নিয়ে ছিল কৌতূহল। তবে লাহিরু কুমারাই শুরু করেন, যদিও প্রথম তিন বলে তিনটি বাউন্ডারি হজম করেন তিনি। অধিনায়ক ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা নিজেও নতুন বলে বোলিং করেন, যদিও প্রথম টেস্টে সাইড স্ট্রেইনের কারণে তিনি বলই করেননি।
ট্রাভিস হেড দ্রুতগতিতে রান তুলছিলেন, কিন্তু ২১ রানে পিরিসের ঘূর্ণিতে বিভ্রান্ত হয়ে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। এরপর সকলের নজর ছিল মার্নাস লাবুশেনের দিকে। প্রথম টেস্টে ২০ রান করা লাবুশেনের ফর্ম নিয়ে আলোচনা ছিল আগেই। এবারও ব্যর্থ হলেন, মাত্র ৪ রানে প্রভাত জয়সুরিয়ার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন। রিভিউ নিয়েও রক্ষা হয়নি। ২০২৩ অ্যাশেজের পর থেকে তার ব্যাটে শতক নেই, ফলে তার জায়গা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে আরও জোরালোভাবে।
স্মিথ শুরুতে একটু নার্ভাস থাকলেও দ্রুতই ছন্দ খুঁজে পান। পায়ের কাজ দিয়ে স্পিনের মোকাবিলা করতে থাকেন, অন্যদিকে উসমান খাওয়াজা খেলেন তার চিরচেনা রিভার্স সুইপ। দুজন মিলে লাঞ্চ পর্যন্ত দলকে ৮৫/২ স্কোরে নিয়ে যান।
লাঞ্চের পর উত্তেজনা বাড়ে। অফস্পিনার পিরিসের এক ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউর আবেদনে আম্পায়ার জোয়েল উইলসন আউট দেন স্মিথকে, তবে রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান তিনি। তবে বেশিক্ষণ টেকেননি খাওয়াজা (৩৬), এবার আর রিভিউ কাজে আসেনি।
এরপর শ্রীলঙ্কার আক্রমণ কিছুটা নিষ্প্রভ হয়ে যায়। স্মিথ ও ক্যারি স্বাচ্ছন্দ্যে রান তুলতে থাকেন। অফস্পিনার রমেশ মেন্ডিসকে ক্যারি লং অনের ওপর দিয়ে ছক্কা মারেন, স্মিথও এক পর্যায়ে রিভার্স সুইপে বাউন্ডারি আদায় করেন।
প্রভাত জয়সুরিয়া কিছুক্ষণ আক্রমণ থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছিল, কিন্তু ফিরেই তিনি স্মিথকে চাপে ফেলতে থাকেন। তবে স্মিথ তখন দারুণ ছন্দে। তিনি ডাউন দ্য উইকেটে এসে ছক্কা হাঁকান, আর ফিফটি পূরণ করেন বাউন্ডারি মেরে।
এর আগে দিনের শুরুতে শ্রীলঙ্কার শেষ দুটি উইকেট দ্রুত হারানোর পর কুশল মেন্ডিস ৮৫ রানে অপরাজিত থাকেন। ১৫০/৬ থেকে লড়াই করে দলকে ২৫৭ রান পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়ায় তিনি সন্তুষ্ট থাকতে পারেন।
অস্ট্রেলিয়ার তিন প্রধান বোলার—মিচেল স্টার্ক, নাথান লায়ন ও ম্যাথু কুহনেমান—তিনটি করে উইকেট ভাগ করে নেন।
শেষ সেশনে স্মিথ ও ক্যারির ব্যাটিং আরও কতটা এগোয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
বিপিএল ফাইনাল : টস জিতে বোলিংয়ে বরিশাল, ম্যাচসেরা বাদ চিটাগংয়ে
চতুর্থবারে কী দুর্ভাগ্য ঘুঁচবে হৃদয়ের!
প্রিয়বন্ধু মার্সেলোকে বিদায়ী শুভেচ্ছা রোনালদোর
গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে মেক্সিকোর ক্লাবে রামোস