গাজীপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতাদের ওপর হামলায় জড়িত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
আজ শনিবার দুপুরে গাজীপুর জেলা শহরের রাজবাড়ী মাঠে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেন তিনি। জাতীয় নাগরিক কমিটির গাজীপুর জেলা ও মহানগর শাখা এ বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করেছে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় সংগঠক অ্যাডভোকেট আলী নাসের খান, অ্যাডভোকেট সাকিব, কেন্দ্রীয় সদস্য এম সোয়াইব, গাজীপুর মহানগরের গাছা থানা ইউনিটের সদস্য মাস্টার আনিসুর রহমান, কালিয়াকৈর ইউনিটের সদস্য সুমন বারী ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নাবির ইউসুফসহ অনেকে।
সারজিস আলম বলেন, খুনি হাসিনার আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা এখনো গাজীপুরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই সন্ত্রাসীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের যোদ্ধাদের হুমকি দিচ্ছে। অর্ন্তবর্তী সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ ইন্টেলিজেন্স যদি আজকে রাতের মধ্যে গত কালকের হামলায় জড়িত খুনি-সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আমাদের তাদের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে যেতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা অভ্যুত্থানে দেখিয়েছি, এ দেশের ছাত্র-জনতা সঠিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে ধৈর্য ধরেছে। কিন্তু মনে রাখবেন, ধৈর্যের একটা বাঁধ আছে। আমাদের ধৈর্যের সেই বাঁধ ভেঙে ফেললে দেশে নতুন আরেকটি বিপ্লব দেখতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের কোথাও আমাদের কোনও সহযোদ্ধার গায়ে হাত দেওয়ার চেষ্টা করলে, পুরো বাংলাদেশ আবার নতুন করে জেগে উঠবে। আমরা প্রয়োজনে যেমন ঢাকায় নামতে পারি, যেমন গাজীপুরে আসতে পারি, তেমনি দেশের প্রত্যেকটি জেলায়ও যেতে পারি।
বিক্ষোভ সমাবেশে জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় সংগঠক অ্যাডভোকেট আলী নাসের খান বলেন, আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল করে দ্রুত বিচার আইনে ফ্যাসিবাদীদের বিচার করতে হবে। তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও সম্পদ জব্দ করতে হবে। আ ক ম মোজাম্মেল হকের বাড়িতে ছাত্র-জনতার ওপর হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দ্রুত বিচার আইনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
এর আগে গতকাল শুক্রবার রাতে গাজীপুর মহানগরীর ধীরাশ্রম এলাকায় সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের পৈতৃক বাড়িতে হামলার খবর পেয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতারা ঘটনাস্থলে গেলে পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়।
এ হামলায় ১৫ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গুরুতর আহত পাঁচজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ হামলার প্রতিবাদে রাতেই গাজীপুর মহানগরে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
৬ সংস্কার কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ
একসময় যে ঐক্য ছিল তা ক্ষীণ হয়ে গেছে: উপদেষ্টা নাহিদ