পায়ে হেঁটে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া ভ্রমণ শেষ করলেন চট্টগ্রামের মেয়ে তাহুরা সুলতানা রেখা। বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে পায়ে হেঁটে দেশভ্রমণের অনুভূতি জানান তাহুরা।
তাহুরা সুলতানা রেখা গত বছরের ২৯ নভেম্বর শুক্রবার সকাল ৬টায় টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের জিরো পয়েন্ট থেকে যাত্রা শুরু করেন। ৫১ দিন হেঁটে হেঁটে তেঁতুলিয়ায় এসে শেষ করলেন ভ্রমণ। তবে এ পায়ে হাঁটার মাঝে বেশ কয়দিন নেপাল ভ্রমণ ও করেছিলেন তিনি। অবশেষে ১০০১ কিলোমিটার সড়ক পথ পাড়ি দিয়ে শুক্রবার রাতে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা জিরোপয়েন্টে এসে শেষ করেন টেকনাফ টু তেঁতুলিয়া ভ্রমণ।
শুরুটা একা করলে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের কল্যাণে পথে পথে তাকে পরিচিত-অপরিচিত অনেকেই সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন।
জানা গেছে, চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গন্ডামারা ইউনিয়নের রশিদ আহমেদ ও তৈয়বা খাতুন দম্পতির মেয়ে তাহুরা সুলতানা রেখা। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার ছোট তাহুরা বাঁশখালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (বর্তমানে সরকারি) থেকে এসএসসি পাশ করে চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন।
পায়ে হেঁটে দেশ ভ্রমণের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে তাহুরা সুলতানা রেখা বলেন, পরিবারে আমি সবার ছোট। ছোটবেলা থেকেই ঘোরাঘুরি ও চ্যালেঞ্জিং কোনো বিষয় গ্রহণ করতে আমার ভালো লাগে। এসব কারণেই হেঁটে দেশভ্রমণের সিদ্ধান্ত নিয়ে যাত্রা শুরু করি। আমার পুরো জার্নিতে পুরো বাংলাদেশের ১ হাজার কিলোমিটার হাইকিং, সঙ্গে যমুনা নদী সাঁতরানো, হিমালয়ের তিনটা পাহাড়ের যে অর্জনগুলো ছিল এই জায়গায় শেষ হলো। জার্নিটা শেষ করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।
হাঁটতে গিয়ে যেখানে বিরতি নিয়েছি সেখানে মানুষের ভালোবাসা ও স্বতঃস্ফূর্ত সাড়ায় আমি অভিভূত। রেখা বলেন, সুস্বাস্থ্যের জন্য হাঁটা জরুরি। তাই এই পদযাত্রার মাধ্যমে মানুষও যাতে হাঁটায় উদ্বুদ্ধ হয়, সেটি আমি চাই। একই সঙ্গে হেঁটে হেঁটে আমার প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশের সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি মানুষকে হাঁটায় উদ্বুদ্ধ করতেই আমার এই যাত্রা। আমার ‘জুম ওয়াইল্ড’ নামে ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে ট্রাভেলিংয়ের প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর ব্যবসা রয়েছে। সেখান থেকে অর্জিত টাকা জমিয়ে এ জার্নি করেছি।
বাংলাবান্ধা জিরোপয়েন্টের জিরোফলকে পৌঁছেই তাহুরা সুলতানা রেখা বলেন, ১ হাজার কিলোমিটার মাইলফলক শেষ হলো। তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা জিরোপয়েন্টে আমি আসলে খুব দেরিতে এসেছি। সন্ধ্যা ৬টা বেজে গেলেও কর্তৃপক্ষ আমাকে এখানে আসতে দিয়েছে। এটার জন্য আমি খুবই কৃতজ্ঞ ও ধন্যবাদ।
এ দীর্ঘ জার্নিতে যারা পাশে ছিলেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাহুরা বলেন, আমার এ জার্নির সঙ্গে এই মুহূর্তে যারা জড়িত আছে তাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। সেই সঙ্গে যারা আমার এ জার্নির সঙ্গে ছিল সবার প্রতি আমি খুবই কৃতজ্ঞ ও ভালবাসা সবাইকে।
