হিলিতে পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ১০ টাকা

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:০৬ এএম

ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি কমলেও দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ায় সপ্তাহের ব্যবধানে দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে দেশীয় পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ১০ টাকা করে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পেঁয়াজের দাম কমায় খুশি নিম্ন আয়ের মানুষজন। সরবরাহ এমন থাকলে আসন্ন রমজানে পেঁয়াজের দাম বাড়বে না দাবি বিক্রেতাদের।

হিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে প্রতিটি দোকানেই শোভা পাচ্ছে দেশীয় পেঁয়াজ। সরবরাহ বাড়ার কারণে পেঁয়াজের দাম কমতির দিকে রয়েছে। এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি দেশীয় পেঁয়াজ ৪০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা কমে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দু-একটি দোকানে শোভা পাচ্ছে অল্প কিছুসংখ্যক আমদানিকৃত পেঁয়াজ। তবে বাড়তি দামের কারণে ক্রেতারা দেশীয় পেঁয়াজ কিনছেন।

হিলি বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা হায়দার আলী বলেন, আমরা নিম্ন আয়ের মানুষ, আমাদের আয়-রোজগার তেমন একটা নেই। বাড়তি দামের কারণে আমাদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাই জিনিসপত্রের দাম যত কম হয় তত আমাদের জন্য ভালো হয়। তো ঊর্ধ্বমুখীর বাজারে কিছুটা স্বস্তির খবর এসেছে পেঁয়াজের দামে। গত সপ্তাহে যে দেশীয় পেঁয়াজ আমরা কিনেছি ৪০ টাকা কেজি দরে এখন সেই পেঁয়াজের দাম কমে ৩০ টাকায় নেমেছে। এতে করে আমাদের পেঁয়াজ কিনতে টাকাও কম লাগছে সেই সঙ্গে চাহিদামতো পেঁয়াজ কিনতে পারছি; এছাড়া যে টাকা বাঁচছে সেই টাকা দিয়ে অন্য কিছু কিনতে পারছি। সামনে যেহেতু রমজান মাস তাই পেঁয়াজের দাম যেন কম থাকে সেই দাবি জানাচ্ছি।

পেঁয়াজ কিনতে আসা নারগিস আকতার বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বমুখীর কারণে সব জিনিসপত্র কম করে কিনতে হচ্ছে। বাড়তি দামের কারণে যতটুকু চাহিদা সেই মোতাবেক না কিনে যেটুকু হলে কোনোরকম দিন পার হবে সেভাবে বাজার করা হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে চাল কিনলে ডাল হচ্ছে না আবার ডাল কিনলে চাল হচ্ছে না এমন অবস্থার মধ্যে আয় হিসাব করে কোনোরকম সংসার চালাতে হচ্ছে। কিছুদিন ধরেই সবজির দাম কম, যার কারণে কিছুটা স্বস্তি ছিল কাঁচাবাজারে। এর সঙ্গে নতুন করে যোগ হলো পেঁয়াজের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ টাকা কমে বর্তমানে ৩০ টাকায় নেমেছে। যদিও বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ রয়েছে তারপরে সেটার দাম বেশি; যার কারণে আমরা দেশীয় পেঁয়াজ কিনছি। এছাড়া ভারতীয় পেঁয়াজের চেয়ে দেশীয় পেঁয়াজের স্বাদ ভালো সেই কারণেও দেশীয় পেঁয়াজ কেনা। প্রতিবছর রমজান মাস এলেই পেঁয়াজের দাম বাড়ে কিন্তু এখন যে দাম রয়েছে সেই দামই যেন থাকে। আমাদের মতো মানুষের হাতের নাগালের মধ্যে যেন থাকে সেই দাবি জানাচ্ছি।   

হিলি বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা আবুল হাসনাত বলেন, বর্তমানে দেশীয় মুড়িকাটা পেঁয়াজের ভরা মৌসুম চলছে। পাবনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত মুড়িকাটা পেঁয়াজ ক্ষেত থেকে তুলছেন। যত দিন গড়াচ্ছে সব কৃষক তাদের পেঁয়াজ উত্তোলন শুরু করেছেন। এতে করে ক্রমান্বয়ে বাজারে দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহ আগের তুলনায় বাড়ছে। এর ফলে বাজারে পেঁয়াজের যে চাহিদা সেই তুলনায় সরবরাহ বাড়ার কারণেই পেঁয়াজের দাম কমছে। আমরা মোকামে কয়েকদিন আগে প্রতিমণ পেঁয়াজ ১৪শ টাকা দরে কিনেছিলাম কিন্তু যত দিন যাচ্ছে সরবরাহ বাড়ায় বর্তমানে পেঁয়াজের দাম কমে ১ হাজার টাকায় নেমেছে। আমরাও এখন কম দামে পেঁয়াজ কিনতে পারছি সেই মোতাবেক আমরাও বাজারে কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারছি। দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহের এমন অবস্থা থাকলে আসন্ন রমজানে পেঁয়াজের দাম বাড়বে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। এদিকে দেশীয় পেঁয়াজের দাম কম হওয়ার কারণে ক্রেতারা সবাই দেশীয় পেঁয়াজ কিনছেন। বাড়তি দামের কারণে ভারতীয় পেঁয়াজ কেউ না কেনায় আমরাও বন্দর থেকে নিয়ে আসছি না, তেমনি দোকানে বিক্রি করছি না। এছাড়া বর্তমানে বন্দর দিয়ে সীমিত পরিমাণে ২/৩ ট্রাক করে পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে; এরপরেও বাজারে এর তেমন একটা প্রভাব নেই। এর মূল কারণ হলো চাহিদার তুলনায় দেশীয় পেঁয়াজের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত