বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘অন্তর্র্বর্তী সরকারের নানা কাজ নিয়ে আমরা সমালোচনা করব, তারপরও ড. ইউনূসকে ব্যর্থ হতে দেব না। কারণ রক্ত ঝরার মধ্য দিয়ে এই সরকার। তবে এখন এই ভয়টি নেই যে আমাকে খুন হতে হবে, ধরে নিয়ে ক্রসফায়ার দেবে।’ গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থান নিয়ে দ্রোহের গ্রাফিতি নামে এক প্রকাশনা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘ভারতের মিডিয়া শেখ হাসিনার হয়ে বয়ান তৈরি করছে। মনে হচ্ছে, অনেক দিন ধরে তারা যে গুপ্তধন তৈরি করেছে, তা যেন হাতছাড়া হয়ে গেছে। গণতান্ত্রিক সমাজের বিকাশের যে ধারা তৈরি হয়েছে, তারা মনে হচ্ছে কোনোভাবেই এটা সহ্য করতে পারছে না। শুধু শেখ হাসিনার মুক্তি। এটা কেন? একটি গণতান্ত্রিক দেশের কাছ থেকে এটি আশা করছি না। তাদের গণমাধ্যম বলছে, বাংলাদেশ থাকবে না। একটি স্বাধীন দেশের বিষয়ে এমন কথা অ্যালাউ করছে কীভাবে নীতিনির্ধারকরা?’
তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা মনগড়া বক্তব্য দিচ্ছে, উসকানিমূলক কথা বলছে, অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। ভারতের নীতিনির্ধারকরা তার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে। এটা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ। চরমভাবে আন্তর্জাতিক নীতি লঙ্ঘন করে এসব করছে।’
সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘গণতান্ত্রিক শক্তির পক্ষের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, কোনো নৈরাজ্যের কারণে কেউ যাতে সুযোগ নিতে না পারে। প্রতিবিপ্লব সব সময় উঁকিঝুঁকি মারে। এই উঁকিঝুঁকি যাতে দিতে না পারে কোনো ভুলের কারণে।’
সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী বলেন, ‘আজকে যারা খুনিদের পক্ষে বিবৃতি দেয় তারা বুদ্ধিজীবী না, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। খুনি-ফ্যাসিবাদ যাতে আর বাংলাদেশে আসতে না পারে সেজন্য আমরা ঐক্যবদ্ধ হব।’
দৈনিক আমার দেশের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ বলেন, ‘সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। পরাজিত শক্তিকে আর মাথা তুলতে দেওয়া যাবে না। এজন্য প্রশাসনকে যত দ্রুত সম্ভব কার্যকর করতে উদ্যোগ নিতে হবে।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাসসের প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ।
