বিশৃঙ্খলাকারীদের সমুচিত জবাব দেওয়া হবে: জিএমপি কমিশনার

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৮:৪১ পিএম
গাজীপুর মেট্টোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কমিশনার ড. নাজমুল করিম খান বলেছেন, যারা জনগণকে অশান্ত করতে চায়, অস্বস্তিতে রাখতে চায়, ঘুমাতে দিতে চায় না। আমরা তাদের সমুচিত জবাব দিতে চাই। আপনাদের মাধ্যমে জনগণকে আশ্বস্ত করতে চাই আমরা তাদের পাশে আছি এবং শান্তিপ্রিয় জনগণও আমাদের পাশে আছে। কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদের রাঙ্গা চোখ কখনো বরদাস্ত করবে না, তাদের দমন করবো।
 
রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গাজীপুরে কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
 
তিনি বলেন, জনগণের শান্তির জন্য যা যা করার আমরা অপারেশন ডেভিল হান্টের মাধ্যমে সব অপারেশনই করবো। আমাদের কাছে তথ্য আছে গাজীপুরকে কেন্দ্র করে পতিত সরকার ঘোষণা দিয়েছে, যারা আমাদের ঘুমাতে দেয় না, আমরা গাজীপুরবাসীকে ঘুমাতে দিব না, জনগণকে ঘুমাতে দিবে না।
তিনি আরও বলেন, তারা যখন ঘোষণা দেয়, তারা জনগণকে ঘুমাতে দিবে না, জনগণকে প্রতিপক্ষ ভেবে জনগণকে শান্তি দিবে না। তখন পুলিশের জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জের ব্যাপার হয়ে যায়। পুলিশ অবশ্যই তখন একটু এগ্রিসিভভাবে না করলে জনগণকে শান্তিতে ঘুমাতে দিবে না। কিন্তু আমাদের দায়িত্ব জনগণকে শান্তি দেওয়া, তার জন্য পুলিশকে আরেকটু ভাল করে পুলিশিং না করলে জনগণের পাশে না দাঁড়ালে একটি আমাদের দায়িত্বের অবহেলা হয়ে যায়। এটিকে নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবেচনায় নিয়েছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নিদের্শনা এসেছে। অপারেশন ডেবিল হান্ট নামে একটি অপারেশন চালু করেছে। সেই অপারেশনের অংশ হিসেবে আমরা যৌথ বাহিনী অপারেশন চালিয়ে যাচ্ছি।
 
জিএমপি কমিশনার বলেন, আমরা আশা করছি গাজীপুরে তারা প্রচুর পরিমাণে অস্ত্র ঢুকিয়েছে। গাজীপুরকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে। আপনারা দেখেছেন শনিবার সন্ধ্যায় আমরা পুলিশ ছিলাম, কিছুক্ষণ আগে পুলিশ আমরা ওখান থেকে এসেছি, আমি নিজেও ওখান থেকে এসেছি, কথা বলে এসেছি। ছাত্র-জনতা ছিল, কিছু দূরেই আর্মি ছিল, বিজিবি ছিল। তার মধ্যেই তারা একটি গুলি করে একজনকে আহত করেছে। তারা অশান্ত করার জন্য সকল কিছু করছে। আমরা মনে করি তাদের যেকোনোভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। এই নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য আমাদের তাদের গ্রেপ্তারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। জনগণের শান্তির জন্য যা যা করার আমরা অপারেশন ডেভিল হান্টের মাধ্যমে সব অপারেশনই করবো।
তিনি আরো বলেন, আমরা কখনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করি না। আমরা যুদ্ধ ঘোষণা করি দূর্বৃত্তের বিরুদ্ধে। আমরা যুদ্ধ ঘোষণা করি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। আমরা কোনো দলের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে চাই না। যারা জনগণকে অশান্ত করতে চায়, দেশের পরিস্থিতিকে অশান্ত করতে চায় তাদের গ্রেপ্তার করতে চাই।
 
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের উদ্দেশ্যে করে গুলি ঘটনায় দোষীদের চিহ্নিত করা গিয়েছে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি তো পরিষ্কার, যারা জনগণকে হুমকি দেয় আমরা জীবন দিবো তারা জীবন দিতে পারলে আমরা কেন জীবন দিব না, যারা হুমকি দেয় আমরা জনগণকে ঘুমাতে দিব না। যারা হুমকি দেয় আমরা দেশকে শান্ত থাকতে দিব না। এ থেকে বুঝাই যায় কারা এটি করছে। আমরা তাদের চিহ্নিত করছি। মতবিনিময় সভায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত